আইয়ুব-ইয়াহিয়ার পথে হাঁটছেন শেখ হাসিনা : রিজভী
দাবি আদায় করেই নির্বাচনে যাবে বিএনপি : ড. মোশাররফ
Published : Monday, 8 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 07.01.2018 10:48:56 PM
দাবি আদায় করেই নির্বাচনে যাবে বিএনপি : ড. মোশাররফদিনকাল রিপোর্ট : ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘অসত্য বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন’ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, এই ধরনের অসত্য কথা বলে জনগণকে যে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, আসলে জনগণ বিভ্রান্ত হচ্ছে না। জনগণ আরো ুব্ধ হচ্ছে, আরো বিরক্ত হচ্ছে। কারণ যেই জনগণ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটের অধিকার হারিয়েছে, তাদেরকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলছেন যে, আপনাদের ভোটে আমরা মতায় এসেছি। অবশ্যই সেই জনগণ আপনাদের প্রতি আরো বিুব্ধ হচ্ছে, ােভ আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। আওয়ামী লীগের জেনেটিক প্রবলেম হচ্ছে জোর করে মতায় থাকা। : গতকাল শনিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দুপুরে জাতীয় প্রেসকাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব)-এর উদ্যোগে সংগঠনের সদস্য সচিব কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে এই আলোচনা সভা হয়। : খন্দকার মোশাররফ বলেন, গতকাল প্রধানমন্ত্রী গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের মিটিংয়ে কীভাবে অকপটে একটা অসত্য কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন? কী বলেছেন যে, ৫ জানুয়ারি জনগণ ভোট দিয়েছে বলেই আমরা চার বছর পূর্ণ করতে পারলাম। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা বলতে চাই, ১৫৩টা আসনে কোন জনগণ ভোট দিয়েছে? আর ১৪৭টা আসনে ৫/১০ পারসেন্ট ভোট দিয়েছে। : তাহলে এদেশের মানুষ আপনাদেরকে কিভাবে নির্বাচিত করেছে? যেখানে নির্বাচন হয় নাই, সেখানে দাবি করছেন আপনাকে জনগণ নির্বাচিত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন এতো বোকা নয়, তারা রাজনৈতিকভাবে সচেতন। আওয়ামী লীগের নেতাদের বলব,  আপনারা গ্রামে-গঞ্জে, টি-স্টলে গিয়ে চুপচাপ পরিচয় না দিয়ে বসে থেকে শুনুন- সাধারণ মানুষ টি-স্টলে আপনাদেরকে কী ভাষায় গলাগালি করে, কীভাবে তাদের ােভের বহিঃপ্রকাশ আপনাদের বিরুদ্ধে করে। : একাদশ সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে দলের অবস্থান আবারো তুলে ধরে মোশাররফ হোসেন বলেন, আমাদের নেত্রী বলেন এবং আমরা বলি, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি নির্বাচনকালীন নিরপে সরকারের অধীনে হবে এবং সেই নির্বাচন হতে হবে সংসদ ভেঙে দিয়ে। পৃথিবীর কোথাও নেই যেখানে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে সেখানে সংসদ রেখে আরেকটি সংসদ নির্বাচন করার। এটাও তারা সংবিধানে পরিবর্তন করেছে নিজেদের সুবিধার জন্য। তারা নিজেরা মন্ত্রী-এমপি থেকে নির্বাচন করবেন, তারাই নির্বাচিত হবেন। এটা আওয়ামী লীগ দ্বারা নির্বাচিত, আওয়ামী লীগের জন্য নির্বাচিত ও আওয়ামী লীগের দ্বারা পরিচালিত। কিন্তু গণতন্ত্রের সংজ্ঞায় এটা বলে না। দাবি আদায় করেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে বলে মন্তব্য করে মোশাররফ হোসেন বলেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে না। যত চেষ্টা আর যত ষড়যন্ত্রই করা হোক না কেন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় করেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। : আওয়ামী লীগ জনগণকে ‘তোয়াক্কা করে না’ বলে সরকারের কোনো জবাবদিহিতা নেই দাবি করেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, সরকারের কোনো জবাবদিহিতা নেই। চালের দামের কী অবস্থা? কোথাও আপনাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। ব্যাংকগুলোতে ডাকাতি হচ্ছে। সর্বেেত্র চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে। সরকার দেশকে একটা কঠিন এবং গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য যে তিনটি স্তম্ভ সেগুলোকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই মন্তব্য করে এই দাবিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানও জানান খন্দকার মোশাররফ। বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, জনগণই যদি আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে থাকে তাহলে সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে এত ভয় কেন। উদ্দেশ্য একটাই। মতা হারানোর ভয়ে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ কোনো কিছুতেই ছাড় দিচ্ছেন না। তারা মতাকে কুগিত করে রাখতে বাংলাদেশকে গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। : তিনি বলেন, ‘১/১১ সেনা সমর্থিত সরকারের প্রোপট ছিল মাইনাস বেগম খালেদা জিয়া। তারা বিএনপিকে দুর্বল করতে চেয়েছে। আজ আওয়ামী লীগ সরকার ১/১১’র ধারাবাহিকতায় বিএনপিকে দুর্বল করতে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের দমন করে রাখতে ভিত্তিহীন মামলায় নাজেহাল করছে। মূলত এতে করে শেখ হাসিনা অলিখিত বাকশালের মাধ্যমে মতা দীর্ঘস্থায়ী করতে চাচ্ছে। : এক দেশে দুই আইন চলতে পারে না মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরা সভা-সমাবেশ করতে অনুমতি পাই না। আমাদেরকে বলা হয় সভা-সমাবেশে যানজট সৃষ্টি হবে। অথচ তারা বেশ কয়েক জায়গায় সভা-সমাবেশ করে যানজট সৃষ্টি করছে। যা চলতে পারে না। বেশিদিন চলতে দেয়া যায় না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রযন্ত্রকে নির্দয়ভাবে ব্যবহার করছে। সুতরাং আমি মনে করি, তুহিনের ওপর আক্রমণ বাংলাদেশের জনগণ, গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ওপর আক্রমণ। কেন এই আক্রমণ? কারণ বর্তমান সরকার জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ভয় পায়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আইয়ুব খান ও ইয়াহিয়ার পথেই হাঁটছেন শেখ হাসিনা। তিনি গণতন্ত্রের শত্রুপ। তিনি বলেন, এই সেই আওয়ামী লীগ যারা বাকশালের খাঁচায় বন্দি ছিল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে তাদের নবজন্ম দিয়েছেন। যার পরিপ্রেেিত শেখ হাসিনা আজ আওয়ামী লীগের সভাপতি হতে পেরেছেন। অথচ তাদের মধ্যে বিন্দু পরিমাণ কৃতজ্ঞতা বোধ নেই। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আনোয়ারুন নবী মজুমদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করীম শাহিন, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের সভাপতি কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম, এবিএম তৌফিক হাসান আলহাজ প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আইয়ুব-ইয়াহিয়ার পথে হাঁটছেন শেখ হাসিনা। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33941 জন