গার্মেন্টে কর্মসংস্থান কমছে
Published : Monday, 8 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 07.01.2018 10:48:46 PM
গার্মেন্টে কর্মসংস্থান কমছেবাবুল খন্দকার, দিনকাল : দেশের তৈরি পোশাক খাতে চলছে চরম অস্থিরতা। একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পোশাক কারখানা। কিছু কারখানায় নেই রফতানি আদেশ। কাজ না থাকায় এসব কারখানাও বন্ধ হওয়ার পথে। দীর্ঘ হচ্ছে বেকার শ্রমিকদের তালিকা। একদিকে বন্ধ শত শত পোশাক কারখানা। অন্যদিকে অবকাঠামো সমস্যার কারণে গড়ে উঠছে না নতুন প্রতিষ্ঠান। গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে দেশের রফতানি খাত। এই অবস্থায় কমেছে দেশের পোশাক খাতে কর্মসংস্থানের সংখ্যা। যদিও আওয়ামী লীগ নির্বাচনের সময় ঘোণষা করেছিল ঘরে ঘরে চাকরি দেয়া হবে।  পোশাক রফতানি বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে। এ বছরে পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয় মাত্র ০.২ ভাগ, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এই অবস্থায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে দেশের পোশাক শিল্প ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। গণতন্ত্র ব্যাহত হওয়ায় এই অবস্থা চলতি বছরে আরো খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে চলতি ২০১৮ সালে নির্বাচন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে, যা বিনিয়োগের জন্য নিতিবাচক প্রভাব  ফেলবে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসের পর নিয়মিত উৎপাদনে না থাকাসহ  অন্যান্য কারণে ৫৫০ কারখানার সদস্যপদ বাতিল করেছে বিজিএমইএ। আয়-ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় ৩০০ কারখানা নিজেরাই বন্ধ করে দিয়েছে মালিক প। নিয়মিত উৎপাদনে না থাকার কারণে ১৮০ কারখানার ]সদস্যপদ বাতিল করেছে বিকেএমইএ। বিকেএমইএভুক্ত ২০০ কারখানা নিজেরাই বন্ধ করে দিয়েছেন মালিকরা। সংস্কার কার্যক্রমে অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় এ পর্যন্ত ক্রেতাজোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ২৩২ কারখানা। এসব কারখানার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন ক্রেতারা। এ কারখানাগুলো দুই জোটের কোনো ক্রেতার রফতানি আদেশ পাচ্ছে না। কার্যত এসব কারখানা এখন বন্ধ। প্রাথমিক সদস্যসহ বিজিএমইএর মোট সদস্য কারখানার সংখ্যা চার হাজার ৩৩৯টি। ঢাকা অঞ্চলের কারখানার সংখ্যা তিন হাজার ৬২৮টি। এর মধ্যে গত এক বছরে রফতানি আদেশের বিপরীতে ব্যবহৃত কাঁচমাল আমদানির অনুমতি বা ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিকারেশন) নিয়েছে এক হাজার ৬১৮ কারখানা। মূলত এরাই সরাসরি উৎপাদন এবং রফতানি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ইউডি না নিলেও ৮৭২ কারখানা সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে উৎপাদনে রয়েছে। বাকি কারখানাগুলো উৎপাদনে নেই। : বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছরে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। এ সময় প্রধান দুই বাজার ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে দর কমেছে গড়ে প্রায় ৭ শতাংশ। আর বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা কমেছে ৮ শতাংশ। এই তিন প্রতিকূলতায় গত অর্থবছরে পোশাকের রফতানি প্রবৃদ্ধি নেমে আসে ১৫ বছরে সর্বনিম্নে। গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পোশাকের দর কমেছে ৪ দশমিক ৭১ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। চলতি বছরও এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে। : বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, গত অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল সাত দশমিক ২৮ শতাংশ। বর্তমান অর্থবছরে সরকার এই হার নির্ধারণ করেছে সাত দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে দেশে সৃষ্টি হয়েছে ১৪ লাখ কর্মসংস্থান, যেখানে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ছিল ৪০ লাখ। অর্থাৎ তিন বছরে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সংখ্যা কমেছে ২৬ লাখ।  বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৭ সালে কর্মসংস্থান সৃষ্টি কমে যাওয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগে একরকম অচলাবস্থা চলছে। : বিজিএমইএ সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির এক সেমিনারে বলেন, কারখানা বন্ধের কারণে দেশের তৈরি পোশাক খাতে দিন দিন কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। গত দুই বছরে কিছু অনাকাক্সিত ঘটনার কারণে গার্মেন্ট সেক্টরে উৎপাদন খরচ বেড়েছে ১৮ শতাংশ। আর গত চার বছরে প্রায় ১২০০ ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। : গাজীপুরের শিল্প-কারখানাগুলোতে চলছে চরম গ্যাস সংকট। ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। এতে বিপুল আর্থিক তির মুখে পড়ে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে অনেক শিল্প-প্রতিষ্ঠান।  তৈরিপোশাক মালিকদের সংগঠন- বিজিএমইএর হিসেবে গ্যাস সংকটে এই অঞ্চলের পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন কমে গেছে প্রায় ৬০ শতাংশ। : ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার ভয় আছে। দেশি-বিদেশি নতুন বিনিয়োগ এই ভয়েও আটকে আছে। অর্থনীতি বিশ্লেষণ সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) জানিয়েছে, সাত দশমিক ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনে বেসরকারি খাতে বাংলাদেশের আরো ছয় হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ দরকার। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আইয়ুব-ইয়াহিয়ার পথে হাঁটছেন শেখ হাসিনা। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33931 জন