উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি
জলবায়ু ফান্ডের টাকা ফেরত দিচ্ছে না ফারমার্স ব্যাংক
Published : Tuesday, 9 January, 2018 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট : বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিলের (বিসিসিটিএফ) ৫০৮ কোটি টাকাসহ বিভিন্ন গ্রাহকের গচ্ছিত অর্থ (আমানত)  ফেরত প্রদানে ফারমার্স ব্যাংকের ব্যর্থতায় দেশের পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য অশনি সংকেত বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। : গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি গ্রাহকদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের গচ্ছিত আমানতের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর চাহিদা অনুযায়ী তা ফেরত প্রদানে ফারমার্স ব্যাংকের ব্যর্থতা উদ্বেগজনক। জলবায়ু তহবিলের ৫০৮ কোটি টাকা পুনরুদ্ধারে সরকার, বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিযোজন কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল ছাড়ে বিলম্ব হলে ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি আরও বাড়বে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর আগে  জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে। বিদেশি সহায়তাও এসেছে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন। তবে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির কারণে সহায়তার পরিমাণ কমিয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে তারা। বাংলাদেশে প্রায় এক হাজারেরও বেশি নদী ও খাল আছে, বঙ্গোপসাগরে পানির উচ্চতা বাড়ছে এছাড়া প্রায়ই ঝড় আর অতিবৃষ্টি হচ্ছে ভূমি যাচ্ছে হারিয়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিজস্ব অর্থায়নে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট তহবিল গঠনের উদ্যোগ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে উল্লেখ করে তহবিলটি পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শুদ্ধাচার নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি। : ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তুলনামূলকভাবে ভালো ও বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠানে জমা না করে কোন যুক্তিতে, কার স্বার্থে ফারমার্স ব্যাংকে অধিক মুনাফার নামে জলবায়ু তহবিলের প্রায় অর্ধেক অর্থই বিনিয়োগ করা হয়েছিল তা যথাযথভাবে তদন্ত করে এতে জড়িতদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে টিআইবির পক্ষ থেকে তিনি জলবায়ু তহবিলের অর্থ বিনিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও অনুসরণের আহবান জানান। তিনি বলেন, তারল্য সংকটের প্রেক্ষিতে ফারমার্স ব্যাংকের প্রতি আস্থা হারিয়ে প্রতিদিনই বিভিন্ন গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠান নিজেদের আমানত ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন। ঋণ জালিয়াতিসহ ব্যাংকটির লাগামহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির বোঝা গ্রাহকদের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ সময় আমানতের অর্থ গ্রাহকদের ফেরত দেয়াসহ ব্যাংকটির ঋণ জালিয়াতি ও অন্যান্য অনিয়মে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের প্রতি আহবান জানান ইফতেখারুজ্জামান। তিনি আরও বলেন, শুধু পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন বা ব্যবস্থাপনার পরিবর্তনই যথেষ্ট নয়। ফারমার্স ব্যাংক তথা সার্বিকভাবে ব্যাংকিং খাতের স্বার্থে প্রাক্তন পরিচালনা পর্ষদসহ উক্ত ব্যাংকের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের মধ্যে যারা এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। : এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের গচ্ছিত এ টাকা উঠাতে গত বছর নভেম্বরে আবেদন করা হয়েছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে উল্লেখ করেছে, ফারমার্স ব্যাংকে এক বছর মেয়াদি স্থায়ী আমানত রাখে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড। ৯.১০ শতাংশ  সুদে রাখা তহবিলের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০৮ কোটি ১৩ লাখ ২৯ হাজার টাকা। ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায় রক্ষিত অর্থের মধ্যে গুলশান শাখার ৯ কোটি ২৬ লাখ ২০ হাজার টাকা মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে গত ২৩ নভেম্বর। আর মতিঝিল শাখার ১৭ কোটি ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৩৬০ টাকার মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে ২৪ নভেম্বর। একই শাখায় ১৬০ কোটি ৫৯ লাখ ১৬ হাজার ৪৮০ টাকা এবং ৩৩ কোটি ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ৮৪০ টাকার মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে গত ২৯ নভেম্বর। এসব অর্থ তোলার জন্য গত ২৩ নভেম্বর চিঠি দিয়েও ট্রাস্ট কোনো টাকা পায়নি। বিষয়টি অবহিত করে অর্থ তোলার জন্য নভেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে (বিএফআইডি) একটি চিঠি দেয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। কিন্তু বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের স্থায়ী আমানত ফারমার্স ব্যাংক পরিশোধে দুর্নীতির কারণে ব্যর্থ হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে সরকার। সর্বশেষ নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে বন মন্ত্রণালয় ব্যাংকের কাছে চিঠি পাঠালেও ব্যাংকটি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। চিঠিতে বলা হয়, বন মন্ত্রণালয় থেকে অনেকবার শাখা ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দেয় মন্ত্রণালয়। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা বলেছেন, রাজনৈতিক ব্যবহারের কারণে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা কমছে। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
14373 জন