সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড
তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ জনজীবন বিপর্যস্ত ॥ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা
Published : Tuesday, 9 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 08.01.2018 11:19:17 PM
সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ডদিনকাল রিপোর্ট : সব রেকর্ড ভেঙে দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে পঞ্চগড় জেলায়। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে চলা তীব্র শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার তাপমাত্রা দেশের সব রেকর্ড ভেঙে নেমে এসেছে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। দেশব্যাপী তীব্র শীতের প্রকোপে জনজীবন বিপর্যস্ত হযে পড়েছে, রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে বহু মানুষ। গতকাল সোমবার তীব্র শীতে কুড়িগ্রমে ৬ জন, রাণীনগরে এক বৃদ্ধ শ্রমিক ও চুয়াডাঙ্গায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, গতকাল সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তেঁতুলিয়ার ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসই ছিল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এছাড়া নীলফামারীর সৈয়দপুরে ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি, ডিমলায় ছিল ৩ ডিগ্রি কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৩ দশমিক ১, দিনাজপুরে ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল টেকনাফে ২৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। : জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতরের কাছে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত তাপমাত্রার রেকর্ড আছে। বাংলাদেশে তাপমাত্রা এত কমে যাওয়ার নজির সেখানে আর নেই। তিনি জানান, এর আগে ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেটাই ছিল এ যাবৎকালের সর্বনিম্ন। ২০১৩ সালের ১১ জানুয়ারি সৈয়দপুরের তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছিল; কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশের কোথাও থার্মোমিটারের পারদ ৩ ডিগ্রি নিচে নামেনি। পৌষের দ্বিতীয়ার্ধে এসে গত ৪ জানুয়ারি থেকে দেশের ছয় বিভাগের ওপর দিয়ে এই শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শুরুতে এর মাত্রা মৃদু (৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থেকে মাঝারি (৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) হলেও শনিবার রাজশাহী ও চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসে। তাপমাত্রা ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এলে আবহাওয়াবিদরা একে বলেন তীব্র শৈত্য প্রবাহ। : আবহাওয়া অফিস বলছে, রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে এখন তীব্র শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আর শ্রীমঙ্গল ও সীতাকুন্ড অঞ্চলসহ ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগ এবং রাজশাহী, রংপুর খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। : আবদুল মান্নান বলেন, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয় বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। এই বলয়ের নিম্ন স্তরে বায়ু প্রবাহ বেশি থাকায় শীতের তীব্রতা এবার বেশি। বাংলাদেশে শীত যে এবার গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি অনুভূত হবে- সে পূর্বাভাস আগেই দিয়েছি আবহাওয়া অধিদফতর। তবে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যে রেকর্ড ছাড়িয়ে নেমে যাবে, তা তারাও আঁচ করতে পারেননি বলে জানান মান্নান। : আবহাওয়াবিদ মিজানুর রহমান বলেন, গতকাল সোমবার সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকবে। এ সপ্তাহের শেষ দিকে রাতের তাপমাত্রা বেড়ে শীতের প্রকোপ কিছুটা কমে আসতে পারে। শীত মৌসুমে প্রতিদিনই মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা থাকে। গতকাল সোমবারের আবহাওয়ার বুলেটিনে বলা হয়েছে, দেশের কোথাও কোথাও কুয়াশার দাপট দুপুর পর্যন্ত চলতে পারে।  : এদিকে টানা পাঁচ দিনের শৈত্যপ্রবাহে দেশের উত্তরাঞ্চলের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। হাড় কাঁপানো শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ। আমাদের নীলফামারি, দিনাজপুর, পাবনা ও রাজশাহী প্রতিনিধি জানান, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সকালের দিকে ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। বেলা ১১টা পর্যন্ত রাস্তা-ঘাট ফাঁকাই দেখা যাচ্ছে। স্কুল-কলেজেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়কে দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত শিশু ও বৃদ্ধদের ভিড় বেড়েছে উত্তরের জেলাগুলোর হাসপাতালে। নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতাল ও পাবনা সদর হাসপাতালে দুই শতাধিক শিশু ভর্তি হয়েছে নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস ও কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে। : নওগাঁ : গত কয়েকদিনের টানা শৈত্যপ্রবাহ ও উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে উত্তরবঙ্গে জেঁকে বসেছে প্রচন্ড শীত। এতে রবিবার আব্দুল জলিল (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃদ্ধ আব্দুল জলিল রাণীনগর উপজেলার সিম্ব^া গ্রামের বাসিন্দা। : এলাকাবাসী জানায়, দুপুরে রাণীনগর উপজেলার সিম্ব^া এলাকায় একটি গভীর নলকূপের ড্রেনম্যান আব্দুল জলিল পানি সেচ করার সময় প্রচন্ড শীতে জমিতে পড়ে যায়। লোকজন দেখতে পেয়ে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গভীর নলকূপ মালিক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম আল ফারুক জেমস জানান, প্রচন্ড শীতের কারণে তিনি জমিতে পড়ে গিয়ে মারা যান। চলতি শীত মৌসুমের পৌষ মাসের বেশিরভাগ সময় অতিবাহিত হলেও তেমন কোনো শীতের প্রকোপ দেখা যায়নি। তবে গত ৪/৫ দিন আগে থেকে একেবারে জেঁকে বসেছে প্রচন্ড শীত। দুপুর নাগাদ কিছুটা হালকা রোদের দেখা মিললেও শেষ বিকেল থেকে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত উত্তরের হিমেল হাওয়ায় এবং ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। : কুড়িগ্রাম : শৈত্যপ্রবাহে স্থবির হয়ে পড়েছে সারাদেশ। আর উত্তরের জেলা হিসেবে কুড়িগ্রামে শীতের তীব্রতাও বেড়েছে বেশ ভালোভাবেই। সর্বশেষ শীতে রবিবার বিকেলে আধুনিক সদর হাসপাতালে ঠান্ডায় একদিন বয়সী এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। তবে তার পরিচয় জানা যায়নি। এ নিয়ে ঠান্ডায় কুড়িগ্রামে মোট ৬ জনের মৃত্যু হলো। এরমধ্যে রাজারহাট উপজেলায় মারা গেছেন ৩ জন। মৃতদের মধ্যে গত শুক্রবার সকালের নয়ন মনি ও বৃহস্পতিবার মীম সদর হাসপাতালে মারা যান। বাকি ৩ জনকে রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় বলে জানিয়েছেন কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. জাহাঙ্গির আলম। : রাজারহাট আবহাওয়া অফিস থেকে জানানো হয়েছে, গতকাল সোমবার কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রয়েছে ৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রয়েছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৩.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গতকাল সোমবার সকালে তীব্র ঠান্ডায় কাজে বের হতে পারছে না মানুষ। এছাড়াও বিকেল থেকেই তাপমাত্রা নিম্নগামী হওয়ায় সন্ধ্যার পরপরই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার ও দোকানপাট। খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষজন। গরম কাপড়ের অভাবে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ। কাজে বের হতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। : চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গায় তীব্র শীতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামের ইলিয়াস হোসেন ও পার্শ্ববর্তী মেহেরপুরের আমঝুপি গ্রামের জাহানারা বেগম। রবিবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়। সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. শামীম কবির জানান, রবিবার দুপুর ২টার দিকে তারা ভর্তি হন। এর আধাঘণ্টা পর দুইজনই মারা যান। তিনি বলেন, শীতজনিত কারণে তারা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। : এদিকে হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ড. আসাদুর রহমান মালিক জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে প্রায় শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। আর বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় আড়াইশ রোগী ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। : এদিকে পৌষের হিমেল হাওয়ার সঙ্গে তীব্র শীতে কাবু হয়ে পড়েছে শিশুরা। এ কারণে তারা আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, শীতকালে কনকনে ঠান্ডা বাতাসের কারণে বড়দের মতো শিশুরাও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এর মধ্যে তাদের সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ার প্রকোপ রয়েছে। শিশু হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুঢামেক হাসপাতালের পেড্রিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের প্রফেসর ড. শাহনূর ইসলাম জানান, শীত মৌসুমে শিশুর শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, রেস্পিরেটরি অসুখ বেড়ে যায়। অন্যান্য সমস্যাও বাড়ে। : তীব্র শীতে সুস্থতায় সতর্কতা : সাধারণত শীতকাল এলেই সর্দি, কাশি, গলাব্যথা, জ্বরভাব ইত্যাদি দেখা দিয়ে থাকে। তাই শীতে প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতার। আর ত্বকের যতেœ তো মোটেই হেলাফেলা করা যাবে না। চলুন তাহলে জেনে নিই শীতে করণীয় কিছু বিষয়- : ১. শীত এলে ঠান্ডা লাগার উপসর্গ দেখা দেয়। এর ফলে গলা খুসখুস করে, নাক বন্ধ হয়ে থাকে, ঘুম নষ্ট হয়। এর সাথে জ্বর না হলে ঘরে বসে নিজের চিকিৎসা নিজেই করতে পারেন। এ সময় সবচেয়ে উপকারী হলো হালকা গরম পানি পান করা আর বিশ্রাম নেয়া। : ২. এ সময় ঠান্ডা লাগার ফলে নাক বন্ধ হয়ে যায়। এমনটা হলে একটা বড় পাত্রে ফুটন্ত পানি ঢেলে, তাতে মেন্থল দিয়ে তারপর মুখ নিচু করে এবং অবশ্যই খোলা রেখে সেই পানির ভাপ নিতে হবে কয়েক মিনিট। পুরো ভাপটি যাতে ঠিকমতো পাওয়া যায়, সেজন্য বড় একটি তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে নিতে হবে। দিনে কয়েকবার এভাবে ভাপ নিতে হবে। : ৩. সর্দি, কাশি বা সামান্য গলাব্যথা এমন কোনো বড় সমস্যা নয়। তবে একবার ঠান্ডা লাগলে, তা সারতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগবেই। কাশির জন্য সকালে ১ চামচ আদার রসের তুলনা নেই, তবে সামান্য মধু বা চিনি মিশিয়ে নেবেন। : ৪. ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু সংক্রমণ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে এবং শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত ফল এবং সবজি খাওয়া উচিত। শরীরের জন্য প্রয়োজন ভিটামিন সি, ই, জিঙ্ক। ফল এবং সবজি তা পূরণ করতে পারে। : ৫. ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ামুক্ত থাকতে নিয়মিত লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধুতে হবে। বাচ্চাদেরও নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। এর জন্য আলাদাভাবে নতুন কিছুর প্রয়োজন নেই। বাজারে উন্নতমানের যে লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ রয়েছে তা ব্যবহার করলেই হবে। : তীব্র শীতে জবুথবু দেশের দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ : দেশের দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষ তীব্র শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে। কয়েকদিনের শৈত্যপ্রবাহ ও কনকনে হিমেল হাওয়ায় জনজীবন অতিষ্ঠ। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধ মানুষ। গরম কাপড়ের অভাবে ছিন্নমূল লোকজন খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে। ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহন ট্রেন ও নৌপথে লঞ্চ চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। : এক সপ্তাহে ১১ জনের মৃত্যু : কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রাম থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামে প্রচন্ড শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতের কারণে বাড়ছে রোগ-ব্যাধি। গত এক সপ্তাহে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে বিভিন্ন রোগে ভর্তি হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৩ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হিম ঠান্ডায় কাবু হয়ে পড়েছে এ জনপদের মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। নদ-নদী তীরবর্তী ও শহরের দরিদ্র অসহায় দরিদ্র মানুষ এক কাপড়ে পার করছেন কনকনে শীত। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে লোকজন ঘর থেকে কাজে বের হতে পারছে না। : কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার শাহিনুর রহমান সরদার শিপন জানান, ১ জানুয়ারি থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই হাসপাতালে শীতের সময় বিভিন্ন রোগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন, সাবিহা (৪দিন), আমেনা (৬৫), জাহানারা (৩০), খাদিজার মেয়ে (১ দিন), মিম (দেড় বছর),  জাহানারার ছেলে (১৫ দিন), নয়নমনি (১ দিন), জিতিয়া বেগম (৬০ দিন), মিরাজ (৫ দিন),  মাজেদার কন্যা (১ দিন) ও শিউলীর পুত্র (৫ দিন)। সোমবার ১৮০ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শিশু ওয়ার্ডে ৩১ জন এবং ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৮ জন শিশু। শীতের কারণে শিশু ও বৃদ্ধ এবং মহিলা রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। : কুড়িগ্রাম শহরের ভ্যান চালক মোকছেদ মিয়া জানান, এমন ঠান্ডা হাত পর্যন্ত বের করা যায় না। তারপরও গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। কিন্তু এই ঠান্ডায় কোনো ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। : কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের সোহরাব আলী জানান, নদীর পাড়ে বাড়ি। ঠান্ডায় ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। কাজও চলে না। গরম কাপড়ও নাই। ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুবই কষ্টে আছি। : কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে শিশুর চিকিৎসা নিতে আসা আমেনা বেগম জানান, ঠান্ডায় তার ছেলের পাতলা পায়খানা বমি হয়েছে। গ্রামের ডাক্তারের নিকট চিকিৎসা নিয়েও ভালো না হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। : কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্ত্ব¡াবধায়ক ডাঃ আনোয়ারুল হক প্রামাণিক জানান, গত এক সপ্তাহে হাসপাতালে ১১ জন রোগী মারা গেছে। এদের মধ্যে ২ জন বয়স্ক। তাদের হার্টের অসুখ ও শ^াসজনিত সমস্যা ছিল। বাকিরা শিশু। লোবাকোয়েট, নিউমেনিয়া ও  জন্মের সময় সমস্যার কারণে মারা গেছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, মৃত্যুর পিছনে শীতের প্রভাব রয়েছে। : কুড়িগ্রাম ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের আমিনুল জানান, চলতি শীত মোকাবিলায় ত্রাণ বিভাগ থেকে ৯টি উপজেলায় ৫৭ হাজার কম্বল সরবরাহ করা হয়েছে। যেগুলো বিতরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। : কুড়িগ্রাম আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, গতকাল সোমবার সকালে রাজারহাট আবহাওয়া অফিসে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩ দশমিক এক ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। : নেত্রকোনা : নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, কনকনে হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার কারণে গারো পাহাড় আর হাওর বাঁওড় নদীনালা খাল বিল পরিবেষ্টিত নেত্রকোনা জেলার স্বাভাবিক জীবন যাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে। : গত কয়েকদিন ধরে নেত্রকোনায় মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ আর ঘন কুয়াশা পরিলক্ষিত হচ্ছে। হঠাৎ করেই শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশার কারণে কুয়াশার চাদর ভেদ করে দিনের বেলায় ১১/১২টার আগে সূর্যের আলো দেখা মেলে না। কুয়াশার কারণে দিনের বেলায়ও গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে।   শৈত্যপ্রবাহের কারণে সাধারণ লোকজন একবারে জবুথবু হয়ে পড়েছে। নেহায়েত প্রয়োজন ছাড়া লোকজন পারতপক্ষে কেউ ঘরের বাইরে বের হতে চাচ্ছেন না। সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছে ভাসমান, ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া হত-দরিদ্র সাধারণ মানুষ। তারা গাছের ঝড়ে পড়া শুকনো পাতা ও খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। তীব্র শীতের কারণে স্কুল, কলেজ মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। শহরে প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকজনের সমাগম কমে যাওয়ায় ব্যবসা, বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সব চেয়ে বেশি ভোগান্তির কবলে পড়েছে শিশু ও বয়স্ক লোকজন। অনেকে জ্বর, সর্দি, কাশি, পেটের পীড়াসহ শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। তারা জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় কদর বেড়েছে গরম কাপড়ের। শীতার্ত মানুষ শীত নিবারণের জন্য গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষজন পূরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন। প্রচন্ড শীতের কারণে কাজে অংশ নিতে না পাড়ায় দিনমজুরদেরকে পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক সময় উপোস থাকতে হচ্ছে।  : বামনমোহা গ্রামের কৃষক আব্দুল হেকিম বলেন, প্রচন্ড ঠান্ডার কারণে খেতে হাল চাষ করতে পারছি না। শ্রমিকরাও নামা খেতের পানিতে ধান লাগাতে চায় না। জেলা শহরের পারলা এলাকার আম্বিয়া খাতুন (৬৫) বলেন, আমার জীবনে কখনও এমন তীব্র শীত অনুভব করিনি। আনন্দ বাজার এলাকার নির্মাণ শ্রমিক হযরত আলী বলেন, শীতের কারণে কাজে যেতে না পারায় পরিবারের লোকজনদের নিয়ে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। : দিনাজপুর : স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর  জানান, দুপুরে হঠাৎ করেই রোদ ওঠার পরও দিনাজপুরে শৈতপ্রবাহ ও হাড় কাঁপানো শীত কমেনি। প্রচন্ড শীতে মানুষের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছে। মিষ্টি রোদ আকাশে দেখা দিলেও রোদের তাপমাত্রা ছিল না। গতকাল সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দিনাজপুরে ৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৮ শতাংশ। দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের কর্তব্যরত ইনচার্জ গোলাম রব্বানী জানান, আজ মঙ্গলবার তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শীতের তীব্রতা থাকবে। মধ্য জানুয়ারি ১৪ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে বড় ধরনের শৈত প্রবাহ হবে। শীতের আক্রমণ হবে ভয়াবহ। হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। : এদিকে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম জানান, শীত মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি রয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে কম্বলসহ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৭০ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে শীর্তাত মানুষের মধ্যে। ৮০ হাজার কম্বল দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। এদিকে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন এন্ড হসপিটালের হৃদ বিশেষজ্ঞ ডা. মোঃ আব্দুল্লাহ আল মঞ্জুর বলেন, আবারো হৃদরোগ, এ্যাজমা, সিওপিডি রোগে আক্রান্তদের শীত মোকাবিলায় গরম কাপড়সহ ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, শীত যত তীব্রতর হবে বুকের ব্যথা তত বাাড়বে। : নীলফামারী : নীলফামারী  প্রতিনিধি জানান, উত্তর জনপদের সীমান্তবর্তী হিমালয় সংলগ্ন জেলা নীলফামারীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২.৯ রেকর্ড করেছে সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস। শীত জেঁকে বসেছে। গতকাল সোমবার সকালে সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস জানায়, রেকর্ড পরিমাণ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা জেলায়। এর আগে ১৯৬৮ সালে শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা  ২.৬ রেকর্ড করা হয়। এর পরে নীলফামারী জেলায় ২.৯ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা  রেকর্ড করা হয়েছে। পৌষের শেষে প্রচন্ড শীত আর দিনভর শীতল বাতাসে কাবু হয়ে পড়েছে শ্রমজীবী অসহায় ছিন্নমূল দরিদ্র মানুষজন। অনেকটা নিরুপায় হয়ে পেটের তাগিদে ক্ষেত খামারে কাজ করছে শ্রমজীবী মানুষ। জেলায় হাসপাতালগুলোতে ক্রমেই বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। : এদিকে শীত থেকে রেহাই পেতে খরকুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষ। নীলফামারী জেলা ত্রাণ কর্মকতা, এটিএম আখতারুজ্জামান বলেন, জেলায় ত্রাণ অধিদফতর ৪১ হাজার ৯শ ৩৭টি কম্বল জেলার ৬টি উপজেলায় বিতরণ করা হয়েছে। শিশুর পোশাকসহ আরও ২০ হাজার  কম্বলের চাহিদা দেয়া আছে। শিগগিরই আসবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। অপরদিকে শিশু বিশেষজ্ঞ এনামুল হক বলেন, শিশুদের এই সময় ব্রংকোলাইটস, নিমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগের থেকে নিরাময়ের উপায় হচ্ছে শিশুর মায়েদের যতœ নিতে হবে, ঠান্ডা লাগানো যাবে না, শীতের জন্য গরম কাপর ও গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। তবেই ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে দূরে রাখা যাবে। একটু সমস্যা দেখা দিলে, সাথে সাথে ডাক্তারকে দেখাতে হবে। কোনো রকম অবহেলা করা যাবে না। নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে শিশু রোগী ভর্তি আছে ৩২ জন, সাধারণ পুরুষ ও মহিলাসহ ১শ ১০ জন ভর্তি আছে।  : সৈয়দপুর : সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি জানান, শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়ে উত্তরের সৈয়দপুরে শীত জেঁকে বসেছে। হিমেল হাওয়া ও কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন কাহিল হয়ে পড়েছে। শীত বাড়ছে ক্রমশ। রংপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার রাতে দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় নীলফামারীর সৈয়দপুরে ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঠান্ডার তীব্রতায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার প্রকোপ। : স্থানীয় ১০০ শয্যা হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ জন নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগী আসছে। এর মধ্যে শিশুদের সংখ্যা সর্বাধিক। গত রবিবার হাসপাতালে ৩৫ জন নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে। গত দুই দিনেও সৈয়দপুরে সূর্যের দেখা মেলেনি। সকালে ও রাতে ঘনকুয়াশায় ঢেকে থাকছে জনপদ। কুয়াশার কারণে ট্রেন ও সড়কে যান চলাচল বিঘিœত হচ্ছে। গন্তব্যে পৌঁছাতে যানবাহনের ২ থেকে ৩ ঘন্টা বিলম্ব হচ্ছে। কুয়াশার জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ অবতরণ ও উড্ডয়নের সময়সূচি ভেঙ্গে পড়েছে। বিশেষ করে সকালের ফ্লাইট ২/৩ ঘন্টা বিলম্বে যাতায়াত করছে। : এদিকে শীতে বেশি কষ্ট ভোগ করছে ছিন্নমূল ও অভাবী মানুষ। হাড় কাঁপানো শীত থেকে রক্ষা পেতে সড়কে বা বাড়ির উঠোনে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন ছিন্নমূল মানুষ। খেটে খাওয়া মানুষ কাজে বের হতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন। গরম কাপড়ের অভাবে দুস্থ ও অভাবী মানুষ পুরাতন কাপড়ের দোকানে ভিড় করছেন। কিন্তু চড়া দামের কারণে সবার পক্ষে কেনা সম্ভব হচ্ছে না গরম কাপড়। উপজেলা ত্রাণ দফতর পাঁচ ইউনিয়নে মাত্র ৩ হাজার ১০০ কম্বল বিতরণ করলেও তা পর্যাপ্ত নয়। আরও বরাদ্দ চেয়ে ত্রাণ দফতর বার্তা পাঠিয়েছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। বেসরকারি উদ্যোগও তেমন দেখা যাচ্ছে না। এতে করে শীতে কাবু হয়ে পড়েছে অতি দরিদ্র মানুষ। : তেতুলিয়া :  বোদা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি জানান, উত্তরের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় কাঁপছে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়সহ বোদা উপজেলা। হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় গতকাল সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। যা গত ৫০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।  : আদমদীঘি  : আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান, বগুড়া জেলার পশ্চিমাঞ্চলে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। সাথে সাথে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। গেল কয়েকদিনে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতের দাপটে বৃদ্ধ ও ছিন্নমূল মানুষের জীবন আরো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তীব্র শীতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ডায়রিয়াসহ নানা রোগ ব্যাধি যেমন নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে। এভাবে শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকলে সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিজ্ঞ চাষিরা বলছেন এ আবহাওয়ায় আলু, সরিষা, ধানের চারা, মশুর ডাল ও সবজির ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। : কনকনে ঠান্ডা বাতাস আর ঘন কুয়াশায় শীতের দাপট কমেনি। হিমালয় ছুয়ে আসা হিম বাতাস কাঁপিয়ে তুলেছে পশ্চিম বগুড়ার মানুষগুলোকে। বিশেষ করে পথের ছিন্নমূল মানুষগুলোর সীমাহীন দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। হঠাৎ করেই শীত জেঁকে বসায় নিদারুণ কষ্টে দিন-রাত কাটছে তাদের। দুপুরে সূর্যের সোনালি রোদও বেশিক্ষণ উষ্ণতা ছড়াতে পারছে না শীতার্ত মানুষগুলোর শরীরে। : স্থানীয়রা জানান, একটানা শৈত্য প্রবাহ এবং পৌষের কনকনে শীতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এ অঞ্চলের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ এবং ফসল উৎপাদনকারীরা। বিশেষ করে আলু, সরিষা, মশুর ডাল, ধানের চারা ও সবজি চাষিরা ব্যাপক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তারা বলছেন, যদি এভাবে একটানা সত্য প্রবাহ চলতে থাকে তাহলে শস্য খাদ্য ভান্ডার হিসাবে পরিচিত পশ্চিম বগুড়ার এ অঞ্চলের কৃষকদের সবজি, আলু, সরিষাসহ ইরি ধানের চারার ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। : তাছাড়া নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা শীত নিবারণের জন্য কম দামে শীতবস্ত্র কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন বিভিন্ন ফুটপাতে গড়ে ওঠা ভাসমান দোকানগুলোতে। সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম বলে জানিয়েছেন শীতার্তরা। : উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. মোঃ শহীদুল্লাহ দেওয়ান জানান, এ অঞ্চলে হঠাৎ ঠান্ডা বেশি হওয়ায় শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তির কোল্ড ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হৃদরোগসহ বিভিন্ন রোগ হতে পারে বলে তিনি জানান। তবে আদমদীঘি সদর হাসপাতালে এখনো শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়েনি। : উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষিবিদ কামরুজ্জামান বলেন, শৈত্য প্রবাহের কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে এখনো পর্যন্ত ক্ষতির সংবাদ পাওয়া যায়নি। আর এ অবস্থা খুব বেশি দিন স্থায়ী হবে না। আমরা প্রতি শীত মৌসুমে এ রকম অবস্থার মুখোমুখি হয়ে থাকি। কুয়াশাজনিত আক্রমণ থেকে ফসলকে রক্ষা করতে কৃষকদের নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। : : :  





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা বলেছেন, রাজনৈতিক ব্যবহারের কারণে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা কমছে। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
14377 জন