মাওলানা সাদকে নিয়ে তাবলীগে বিরোধ দিনভর বিমানবন্দরে বিক্ষোভ মিছিল
Published : Thursday, 11 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 10.01.2018 10:44:41 PM
আবুল কাশেম, দিনকাল : ‘তবলিগ করা ছাড়া কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না’ এমন বক্তব্যদানকারী তবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভি প্রচন্ড বাধা সত্ত্বেও অবশেষে রাজধানীর কাকরাইল মসজিদে পৌঁছেছেন। বিকাল সাড়ে ৩টায় তাকে পুলিশ প্রহরায় বিমানবন্দর থেকে কাকরাইল মসজিদে নেয়া হয়। ভারতের দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের জিম্মাদার ও তবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভিকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়া হবে না এই প্রত্যয় ব্যক্তকারী তবলিগ জামাতের মুসল্লিদের বিােভ ও অবস্থানে বনানী থেকে টঙ্গী পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ রোডে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। যানজটে আটকে পড়া হাজার হাজার যাত্রী কুড়িল বিশ্বরোড থেকে আব্দুল্লাহপুর হয়ে টঙ্গী পর্যন্ত হেঁটেই গন্তব্যে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এই সময় পুরো এলাকায় এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গতকাল বুধবার সকাল থেকেই মাওলানা সাদবিরোধী মুসল্লিদের সাথে মাওলানা সাদের সমর্থদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল সকাল থেকে বিােভ করেন তবলিগ জামাতের একটি বড় অংশের সমর্থক মুসল্লিরা বাংলাদেশে প্রবেশ না করে মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে ভারতে ফিরে যাওয়ার দাবিতে বিমানবন্দর চত্বরে  টানা ৩ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। তাদের এই বিােভকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরের সামনের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দু’পাশে  প্রায় ২০ কিলোমিটারব্যাপী যানজট তৈরি হয়েছে। ভারতের তবলিগ জামাতের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না দেয়ার ঘোষণা দিয়ে টানা ৩ ঘণ্টা  বিােভ ও সড়ক অবরোধ করে রাখেন তবলিগ জামাতের লাখো সমর্থক। পুলিশের সাথেও তাদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হাজার হাজার মানুষ অমানবিক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। অনেকে নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে পৌঁছতে না পারায় বিমানের নির্ধারিত ফাইটে নিজস্ব গন্তব্যে যেতে পারেননি। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ফাইটেও অনেক যাত্রী বিমানের ফাইট মিস করেছেন। এছাড়াও ঢাকার সাথে গাজীপুর, ময়মনসিংহ এবং আশপাশের জেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, যা সহজে বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। : প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে তার নিজ দেশ ভারতে ফেরত যাওয়ার দাবিতেই বিমানবন্দর চত্বরে বিােভ করছেন তবলিগের একাংশের সমর্থক মুসল্লিরা। আর এই বিক্ষোভ চলাকালেই গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান মাওলানা সাদ। তাকে স্বাগত জানানোর জন্য ঢাকার কাকরাইলের মুরব্বি প্রকৌশলী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের নেতৃত্বে তবলিগ জামাতের আরেক ুদ্র অংশের সমর্থকরা অবস্থান করছেন। ওই সময় তবলিগ জামাতের একাংশের বিােভের ফলে রাজধানীর ব্যস্ততম ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়েছে। হোটেল রেডিসন থেকে উত্তরা হয়ে আবদুল্লাহপুর ছাড়িয়েছে এই যানজট। : বিমানবন্দর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোস্তাফিজ সাংবাদিকদের জানান, মাওলানা সাদ বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে যাবেন না এই শর্তে বিকাল সাড়ে ৪টায় বিমানবন্দরের আন্দোলন মুলতবি করা হয়েছে। তিনি কাকরাইলে অবস্থান করবেন। ঢাকার মহাখালী থেকে উত্তরায় অবস্থান করা মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে এবং মহাখালী থেকে কাকরাইলে অবস্থান নেয়া মুসল্লিরা কাকরাইলে ফিরে যাবেন বলে জানান তিনি। : জানা যায়, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাহজালালে পৌঁছান মাওলানা সাদ। তাকে স্বাগত জানানোর জন্য ঢাকার কাকরাইলের মুরব্বি প্রকৌশলী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলামের নেতৃত্বে তবলিগ জামাতের আরেক অংশের সমর্থকরা অবস্থান করছেন। মাওলানা সাদবিরোধীরা তাকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে  দেয়া হবে না মর্মে ঘোষণা দিয়ে দুপুর ১২টা থেকেই বিমানবন্দর চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিােভ করছেন। বিমানবন্দর থানার ওসি নূরে আযম সিদ্দিকী সাংবাদিকদের জানান, মুসল্লিরা বিমানবন্দর চত্বরে অবস্থান নেয়ায় প্রধান সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। : বিােভকারীরা বলছেন, এবারের ইজতেমায় মাওলানা সাদের অংশ নেয়ার বিষয়ে তারা আগে থেকেই বিরোধিতা করে আসছেন। আর সেই মোতাবেক তাদের আশ্বাসও দেয়া হয়েছিল মাওলানা সাদ এবার বাংলাদেশে আসছেন না। কিন্তু বর্তমানে উল্টোটাই জানতে পেরেছেন। এ কারণে তারা রাস্তা অবরোধ করে রেখেছেন। আন্দোলনকারীরা জানান, মাওলানা সাদ প্রথম বিমানবন্দরের ভেতর অবস্থান করেন। কিন্তু তাকে বিমানবন্দরের ভেতর থেকে বাইরে আসতে দেয়া হবে না। তাকে ভারতে ফিরে যেতে হবে। : উল্লেখ্য, মাওলানা সাদ একবার বক্তব্য দিয়েছেন ‘তবলিগ করা ছাড়া কেউ বেহেশতে যেতে পারবে না।’ তার এই বক্তব্য দেয়ায় তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে মাওলানা সাদকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু তিনি উল্টো যুক্তি দিয়ে আরো বিতর্কের সৃষ্টি করেন। এ নিয়ে মাওলানা সাদের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। একপর্যায়ে দেওবন্দ মাদ্রাসার অনুসারী বাংলাদেশের আলেমরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তারা তাকে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমায় আসতে না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবলিগ জামাতের বাংলাদেশ শাখার ১১ শূরা সদস্যের মধ্যে ৬ জনই আলেমদের এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন। গত ৬ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে আলেমরা সাাৎ করে মাওলানা সাদের ঢাকা সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞার দাবি জানান। : গত ৭ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ীর জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়ায় মাওলানা সাদের প্রসঙ্গটি নিয়ে বৈঠকে বসেন তবলিগ জামাতের মুরব্বি ও কওমি আলেমদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি। এতে বাংলাদেশ তবলিগের শূরা সদস্য ও উপদেষ্টারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত ২১ জনের মধ্যে ১৩ জন ইজতেমায় মাওলানা সাদের বিরুদ্ধে মতামত প্রদান করেন। উপস্থিত মুরব্বিদের মধ্যে রয়েছেন বেফাকের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আশরাফ আলী, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার মুহাদ্দিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, তবলিগের শূরা সদস্য মাওলানা মোহাম্মাদ যোবায়ের, মাওলানা মুহাম্মাদ হোসাইন ও মাওলানা ফারুক, বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, হাটহাজারী মাদ্রাসার সহকারী শিা সচিব মাওলানা আনাস মাদানী, তবলিগের শূরা সদস্য মাওলানা উমর ফারুক ও মাওলানা রবীউল হক, শাইখ জাকারিয়া, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মাওলানা মিজানুর রহমান সাঈদ, হাটহাজারীর মুফতি কেফায়াতুল্লাহ, মাওলানা মুফতি মোহাম্মাদ আলী, ভারত সফরকারী প্রতিনিধি দলের সদস্য জামিয়া রাহমানিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুল হক। : এরপর গত ৮ জানুয়ারি ঢাকার কাকরাইলের মুরব্বি প্রকৌশলী সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম বিশ্ব ইজতেমায় মাওলানা সাদকে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেন। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছর ১২ জানুয়ারি ও ১৯ জানুয়ারি দুই দফায় বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফায় ১৪ জানুয়ারি  এবং দ্বিতীয় দফায় ২১ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, খালেদা জিয়াকে হয়রানি করতেই তাঁর বিরুদ্ধে ১৪ মামলা স্থানান্তর করা হয়েছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
34016 জন