খালেদা জিয়া খালাস পাওয়ার হকদার, আজ ১০ টার মধ্যে হাজির হওয়ার নির্দেশ
তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৭ সাক্ষীর শাস্তি দাবি আইনজীবীর
Published : Thursday, 11 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 10.01.2018 10:44:03 PM
তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৭ সাক্ষীর শাস্তি দাবি আইনজীবীররফিক মৃধা, দিনকাল : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ‘মিথ্যা স্যা’ উপস্থিত করার অভিযোগে তদন্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদসহ ৭ সাীর শাস্তি চেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল বুধবার রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের ড. আখতারুজ্জামানের কাছে বেগম খালেদা জিয়ার পে এ আবেদন জানান তার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। দন্ডবিধির ১৯৩, ১৯৫, ১৯৬, ৪৬৬, ৪৬৯, ৪৭১ এবং ১০৯ ধারা উল্লেখ করে এই শাস্তির আবেদন করা হয়। এদিকে আদালতে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, বিদেশ থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের যে টাকা এসেছে তার একটি টাকাও আত্মসাৎ করেনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আইনানুযায়ী মামলা থেকে খালাস পাবার হকদার তিনি। : এদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছেন আদালত।  গতকাল বুধবার শুনানি শেষে বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতের বিচারক বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান এ আদেশ দেন। এর আগে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী বেগম খালেদা জিয়ার পে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন। এ সময় তিনি জাল, মিথ্যা নথি উপস্থাপনের অভিযোগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৭ সাীর শাস্তি দাবি করেন। এ জে মোহাম্মদ আলীর বক্তব্য শেষে বেগম খালেদা জিয়ার পে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করার জন্য আদালতে দাঁড়ান ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার। তার পরই আদালত মুলতবি করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার তিনি ফের যুক্তিতর্ক তুলে ধরবেন। এর আগে গতকাল বুধবার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম  খালেদা জিয়া বকশীবাজারের আদালতে হাজির হন। এরপরই এ মামলার শুনানি শুরু হয়।  এছাড়া জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায়ও যুক্তি উপস্থাপনের জন্য একই দিন ধার্য করা হয়েছে। বেলা ৩টা ১২ মিনিটের দিকে বেগম খালেদা জিয়া আদালত ক ত্যাগ করেন। ১৯ ডিসেম্বর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার যুক্তি উপস্থাপন শুরু হয়। : নবম দিনের মতো এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে আদালতে এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী, বাংলাদেশের গণমানুষের জনপ্রিয় নেত্রী। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ুণœ করার জন্য এবং তার জনপ্রিয়তাকে নস্যাৎ করার জন্য এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোট ১১টি যুক্তি উপস্থাপন করে এই ৭ জনকে শাস্তি দেয়ার আবেদন করেন আইনজীবী। এর আগে গতকাল বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে খালেদা জিয়া রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে পৌঁছান। এর পরই বিচারক বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান মামলার কার্যক্রম শুরু করেন। : আদালতে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, বিদেশ থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের যে টাকা এসেছে তার একটি টাকাও আত্মসাৎ করেনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আইনানুযায়ী মামলা থেকে খালাস পাবার হকদার তিনি। তিনি বলেন, যুক্তি উপস্থাপনে আমরা তা প্রমাণ করতে সম হয়েছি। নথিতে বেগম খালেদা জিয়ার স্বার নেই, তিনি কোনো সইও দেননি, এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে তিনি টাকা পাঠাননি। বেগম খালেদা জিয়াকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এ মামলাটি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জবানবন্দির সময়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক খান, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মাদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট সানাউলাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট  কামরুল ইসলাম সজল, ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম খান, অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান তপন  প্রমুখ। : অপরদিকে আদালতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, আমিনুল ইসলাম, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ঢাকা মহানগর যুবদল উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন। : পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে আদালতের আশে পাশে নেতাকর্মীদের ঢল : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরা উপলক্ষে আদালতে যাওয়া ও আসার পথে মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, চানখাঁরপুল ও আদালত প্রাঙ্গণের আশেপাশের সড়কে বেগম খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িকে ঘিরে ব্যাপক শোডাউন তৈরি করে ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকেই এ সব অবস্থান নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। গতকাল বুধবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে পুরান ঢাকার বকশিবাজার আলীয়া মাদরাসার মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালত থেকে বের হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আদালত থেকে বের হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মোড়ে আসলে অপেমাণ দলটির নেতাকর্মীরা তার গাড়িবহরে যুক্ত হন। গাড়িবহর হাইকোর্ট মাজারের সামনে এলে ভেতরে অপেমাণ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী গাড়িবহরে যোগ দেন। এ সময় বিভিন্ন শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। “খালেদা জিয়া ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই”, “খালেদা জিয়া এগিয়ে চল, আমরা আছি তোমার সাথে”, “জেল জুলুম হুলিয়া, নিতে হবে তুলিয়া” এ ধরনের শ্লোগান অসংখ্য নেতা কর্মীদের কণ্ঠে শোনা যায়। গাড়ি বহরে  বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, সাবেক সদস্য ইয়াসমিন আরা হক, বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আ ক ম মোজ্জাম্মেল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি, এম এ হান্নান, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, দফতর সম্পাদক এবিএম রাজ্জাক, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম মিল্টন, সিনিয়র সহ- সভাপতি মোস্তফা কামাল রিয়াদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফ উদ্দিন জুয়েল, যুবদল দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, ইকতিয়ার কবির, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ, মিয়া মোহাম্মাদ রাসেল, ওমর ফারুক মুন্না, মেহবুব মাছুম শান্ত, কাজী মোখতার হোসেন, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদিকা আরিফা সুলতানা রুমা, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজ, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এসএম জিলানী, ঢাকা  বিশ্ববিদ্যাল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী, ছাত্রদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক তানভীর আহমেদ খান ইকরাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দও শোডাউনে অংশ নেন। : : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, খালেদা জিয়াকে হয়রানি করতেই তাঁর বিরুদ্ধে ১৪ মামলা স্থানান্তর করা হয়েছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
34011 জন