পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের রিপোর্ট
কোটচাঁদপুরের মেধাবী ছাত্র টুলু হত্যাকাণ্ড  পরিকল্পিত
Published : Friday, 12 January, 2018 at 12:00 AM
স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের মেধাবী ছাত্র হাবিবুর রহমান টুলু আত্মহত্যা করেনি। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। পিবিআইর তদন্ত প্রতিবেদনের পর প্রমাণিত হলো ডাক্তারের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও থানায় দায়ের করা আত্মহত্যা মামলাটি সঠিক ছিল না। আসামি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সংশ্লিষ্টরা হাবিবুর রহমান টুলু হত্যা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। পিবিআইর তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৭ সালের ১০ জুন তালসার গ্রামের সাবদার আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান টুলুকে আসামি জাকির হোসেন, আসাদুল, নজরুল ইসলাম, আলামিন, মিল্টন, জমির, আমিরুদ্দীন ও জমির পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। হাবিবুর রহমান টুলু হত্যা মামলার আইনজীবী গৌতম কুমার জানান, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনার পর থেকে নানাভাবে বাদীকে হয়রানি করে আসছে। মোটা অংকের টাকার প্রস্তাব দিয়ে মামলাটি মীমাংসা করতে না পেরে প্রধান আসামি জাকির হোসেন বাদী সাবদার আলীর নামে ৫-৬টি মিথ্যা মামলা করেছে। এখনো বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে আসামিরা। এদিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) টুলু হত্যার সঙ্গে আসামিদের সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় খুনিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা একের পর এক কাউন্টার মামলা সাজিয়ে হতদরিদ্র নিহত টুলুর পরিবারকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। : উল্লেখ্য, হাবিবুর রহমান টুলু (১৪) কোটচাঁদপুরের তালসার কাজী লুৎফর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্র। একই স্কুলের ছাত্রী ও নজরুল মন্ডলের মেয়ে শাহানাজ ঘটনার তিন দিন আগে অন্য একটি ছেলের সঙ্গে পালিয়ে যায়। এ নিয়ে তারা স্কুলছাত্র টুলুকে সন্দেহ করতে থাকে। গত ১০ জুন রাতে প্রধান আসামি জাকির মন্ডল ফোন করে টুলুকে তার সঙ্গে দেখা করতে বলে। টুলু সরল মনে তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। ঘটনার দিন প্রতিবেশী আয়াত আলীর ছেলে সুমন, আজাদের ছেলে মহসিন, জমিরের ছেলে তুহিন ও জিয়াউর রহমানের ছেলে ইমরান তাল চুরি করে ঝাড়ের মধ্যে খাচ্ছিল। তারা দেখে ৩ জন মানুষ একটি মৃতপ্রায় লোককে ঘাড়ে করে নিয়ে যাচ্ছে। এই দৃশ্য দেখে তারা ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে বাড়ি চলে আসে এবং টুলুর লাশ পাওয়ার পর ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়। এদিকে মৃতদেহ খুঁজে পাওয়ার আগেই আসামিরা বাড়ির মালামাল নিয়ে গাঢাকা দেয়, যা পরোক্ষভাবে প্রমাণ করে আসামিরাই টুলুর হত্যাকারী ছিল। বাদী টুলুর বাবা সাবদার মন্ডল জানান, টুলু বাইরে যাওয়ার সময় তার কাছে নিজের শিক্ষা বৃত্তির ১ হাজার ৩০০ ও জমি বিক্রির এক লাখের বেশি টাকা ছিল। সে টাকাও খুনিরা নিয়ে যায়।   : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুজন সম্পাদক বলেছেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সংসদ ভেঙে সেনা মোতায়েন করতে হবে। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33200 জন