বাঘাবাড়ী বন্দরের সঙ্গে নৌযোগাযোগ বন্ধ
১২টি জাহাজ যমুনা নদীতে আটকা পড়েছে। আটকা পড়া জাহাজের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে
Published : Friday, 12 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 11.01.2018 9:05:52 PM
বাঘাবাড়ী বন্দরের সঙ্গে নৌযোগাযোগ বন্ধবেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি : যমুনা নদীতে নাব্যতা সংকটের কারণে বাঘাবাড়ী বন্দরের সঙ্গে নৌযোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। গত শনিবার থেকে জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সারসহ অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ বাঘাবাড়ী বন্দরে যেতে পারছে না। বাঘাবাড়ী বন্দরের ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে নগরবাড়ীর উজানে ৪৯ লাখ লিটার জ্বালানি তেল ও ৩৫ হাজার বস্তা রাসায়নিক সার ভর্তি ৮টি কার্গো জাহাজ যমুনা নদীতে আটকা পড়েছে। চিটাগাং থেকে জ্বালানি তেল ও রাসায়নিক সার নিয়ে জাহাজগুলো বাঘাবাড়ী বন্দরে যাচ্ছিল। বাঘাবাড়ী-আরিচা নৌরুটে নগরবাড়ীর উজানে নাব্যতা সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করায় জাহাজগুলো বাঘাবাড়ী নৌবন্দরে পৌঁছাতে পারছে না। আবার বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলো গন্তব্যে যেতে পৌঁছাতে পারছে না। এদিকে বিআইডাব্লিউটিএ যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজিং করে পলি মাটি নদীতেই ফেলছে। ফলে স্রোতের টানে পলি মাটি ভাটিতে গিয়ে ডুবোচরের সৃষ্টি হচ্ছে। জানা যায়, বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপোর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তিনটি কোম্পানির বিপণন কেন্দ্রে প্রায় ৫ কোটি ৮০ লাখ লিটার জ্বালানি তেল আপদকালীন মজুদ আছে। বাঘাবাড়ী থেকে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় সেচ মৌসুমে প্রতিদিন ৩৬ লাখ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। নাব্যতা সংকটে গত শনিবার থেকে জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য পণ্যবাহী জাহাজ বাঘাবাড়ী বন্দরে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে আপদকালীন মজুদ থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ওই পরিমাণ মজুদ দিয়ে মাত্র ১৬ দিনের জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। নাব্যতা সংকট দ্রুত নিরসন না হলে এ অঞ্চলে সেচ ও সারনির্ভর বোরো আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে কৃষি বিভাগ সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। : সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সার ও পণ্যবাহী কার্গো চলাচলের জন্য ১০ থেকে ১১ ফুট পানির গভীরতা প্রয়োজন। বাঘাবাড়ী বন্দরের ৩০ কিলোমিটার ভাটিতে নগরবাড়ীর উজানে আধা কিলোমিটার এলাকায় পানির গভীরতা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬ থেকে ৭ ফুট। গত শনিবার থেকে নগবাড়ীর উজানে ৩৫ হাজার বস্তা টিএসপি, এমওপি, ডিওপি ও ইউরিয়া সার ও ৪৯ লাখ লিটার জ্বালানি তেল বোঝাই এমভি সাদিয়, এম ভি অনিক, এম ভি সিলিং বিজয়, এম ভি আছরসহ ১২টি জাহাজ যমুনা নদীতে আটকা পড়েছে। আটকা পড়া জাহাজের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। নভেম্বর মাসে ১০ লাখ লিটার জ্বালানি তেল নিয়ে বাঘাবাড়ী বন্দরে এসেছে। ডিসেম্বরে কমে দাঁড়িয়েছিল ৭ লাখ লিটারে। এখন জাহাজ চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। এই বন্দরে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কর্মরত ৫ হাজার শ্রমিক পরিবারে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। বিসিআইসির বাঘাবাড়ী ট্রানজিট বাফার গুদাম সূত্রে জানা যায়, উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় ১৪টি বাফার গুদামে রাসায়নিক সার চাহিদার ৯০ ভাগ বাঘাবাড়ী বন্দর থেকে জোগান দেয়া হয়। এখান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার বস্তা রাসায়নিক সার সড়কপথে বাফার গুদামগুলোতে সরবরাহ করা হয়। যমুনা নদীর নাব্যতা সংকটে বাফার গুদামগুলোতে  আপদকালীন সারের মজুদ গড়ে তোলার কাজ চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে। বিসিআইসির বগুড়া আঞ্চলিক অফিসের একটি সূত্র জানায়, ইরি-বোরো আবাদ মৌসুমে উত্তরাঞ্চলে ১২ লাখ টন রাসায়নিক সারের প্রয়োজন। ১৪টি বাফার গুদামে আপদকালীন মজুদ আছে দুই লাখ ৮০ হাজার টন। ৯ লাখ টন সার বিভিন্ন পথে আমদানি করা হচ্ছে। তবে প্রয়োজনের বেশির ভাগ সার বাঘাবাড়ী বন্দর দিয়ে আমদানি করা হয়। যমুনা নৌরুটে নাব্যতা সংকট সৃষ্টি হওয়ায় আপদকালীন সার মজুদের কাজ বিঘিœত হচ্ছে।   : জানা যায়, দৌলতদিয়া-বাঘাবাড়ী নৌপথে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সারসহ অন্যান্য মালামাল পরিবহনের একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মাধ্যম। এ নৌপথে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার, রাসায়নিক সার ও বিভিন্ন পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ চলাচল করে। বাঘাবাড়ী বন্দর থেকে উত্তরাঞ্চলে চাহিদার ৯০ ভাগ জ্বলানি তেল ও রাসায়নিক সার সরবরাহ করা হয়। আবার উত্তরাঞ্চল থেকে বাঘাবাড়ী বন্দরের মাধ্যমে চাল ও গমসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রী রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। এ নৌপথের ১০টি পয়েন্টে নাব্যতা সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সময়মতো বিআইডাব্লিউটিএ ড্রেজিং না করায় নদীতে নাব্যতা না থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাবনা হাইড্রোলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে আসা ব্রক্ষপুত্র ও তিস্তা নদীর প্রবাহ একসঙ্গে ধারণ করে যমুনা নদী বিশাল জলরাশি নিয়ে বিস্তীর্ণ জনপদের ভেতর দিয়ে প্রবাহমান ছিল। তিস্তার পানিপ্রবাহ অনেক কমে যাওয়ায় এর বিরূপ প্রভাবে যমুনা নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। তিস্তার পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি না পেলে যমুনায় নাব্যতা সংকট আরো প্রকট আকার ধারণ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। : : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুজন সম্পাদক বলেছেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সংসদ ভেঙে সেনা মোতায়েন করতে হবে। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33190 জন