নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সুজনের পরামর্শ
সংসদ ভেঙে দিয়ে সেনা মোতায়েন করতে হবে
Published : Friday, 12 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 11.01.2018 9:55:31 PM
দিনকাল রিপোর্ট : রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা এবং নির্বাচনকালীন সরকার ও সংসদ ভেঙে দেয়া সম্পর্কে একটি ঐকমত্যে না পৌঁছলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপে ও গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। একই সঙ্গে নিবার্চন সুষ্ঠু করতে  হলেও সেনা মোতায়েন করতে হবে এবং সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে বলে অনুষ্ঠানে বলা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসকাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘রংপুরের সফল নির্বাচনের ধারাবাহিকতা রায় করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। : বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘রংপুরে সাত মন ঘি জুটেছে, তাই রাধাও নেচেছে। অন্য সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও একই অবস্থার পুনরাবৃত্তি করা গেলেই সুষ্ঠু, নিরপে ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা যাবে। অর্থাৎ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে না, যদিও এর জন্য কমিশনের ভূমিকাই সর্বাধিক। বস্তুত, নির্বাচন কমিশনের সমতা, নিরপেতা ও সাহসিকতা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য হলেও, তা যথেষ্ট নয়। আরও সুস্পষ্টভাবে বলতে গেলে, সবচেয়ে নিরপে ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারবে না, যদি না সরকার ও রাজনৈতিক দল সদিচ্ছা প্রদর্শন এবং দায়িত্বশীল আচরণ করে। আগামী নির্বাচনগুলো কেমন হবে তার কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে না। অনুষ্ঠানে : সভাপতির বক্তব্যে সাবেক মন্ত্রী  ড. আলী ইমাম মজুমদার বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করার জন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন দরকার বলে মন্তব্য করেন তিনি। : তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সর্বজনীন ভোটাধিকার ব্যবস্থাকে মাঝে মাঝে হারিয়ে ফেলি, তা আমাদের পুনরুদ্ধার করতে হবে। এেেত্র সুজন-এর সাথে সাথে রাজনৈতিক দলসহ সকলকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে হবে। : তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। একটি ভোটকেন্দ্রে দুজন নিরাপত্তা রী সশস্ত্র থাকে। একজন পুলিশ, আরেকজন আনসার। বাকি সবার হাতে থাকে কেবল লাঠি। :  শফিউল আলম বলেন, আমরা নৈরাশ্যবাদী হতে চাই না। আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্ট সকল পরে প্রত্যাশা ও আন্তরিকতা থাকলে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। একজন নাগরিক হিসেবে আমি আশা করি, রংপুরের নির্বাচনের ধারাবাহিকতা আগামী নির্বাচনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে। : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, মেয়র নির্বাচন নিয়ে আমরা খুব একটা আশাবাদী হতে পারি না। কেননা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তার সবগুলো মোটামুটি সুষ্ঠুু, নিরেপেক্ষ হয়েছিল এবং এগুলোর সবগুলোতেই বিরোধী দল বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন। আর এসব নির্বাচনের ফলাফল যে বার্তা বহন করেছিল তারই  পরিণতি ছিল একতরফা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এছাড়া তিনি তিনটি প্রস্তাব করেন, সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে, পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তা দিতে হবে। এছাড়াও কালো টাকার ব্যবহার যেন না হয় এই ব্যাপারে প্রশাসনকে সজাগ থাকতে হবে। আমাদের বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠোমো ও যে কাঠোমোতে সংসদ নিবার্চন হবে সংসদকে বহাল রেখে এবং দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু, নিরেপেক্ষ নির্বাচনের পথে একটি পর্বত প্রমাণ বাধা। এই বাধার বড় কারণ হলো আমাদের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে দলীয়করণ, যা দিন দিন ব্যাপক থেকে ব্যাপকতর হয়েছে। এছাড়া উচ্চ আদালতসহ আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুরবস্থাও সুষ্ঠু-নিরেপেক্ষ নির্বাচনের পথে আরেকটি বড় বাধা। সুতরাং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি রাজনৈতিক সমোঝোতা না হলে এবং নির্বাচনকালীন সরকার ও সংসদ ভেঙ্গে দেয়া সম্পর্কে একটি ঐকমত্যে না পৌঁছালে আগামী জাতীয় সংসদ নিবার্চন সুষ্ঠু, নিরেপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে তার নিশ্চয়তা কোনভাবেই দেয়া যাবে না। আগামী নির্বাচনে যদি সব দল অংশগ্রহণ করে তাহলে ২০১৪’র ৫ জানুয়ারির চেয়ে অনেক ভালো নির্বাচন হবে। পাঁচ বছর পরপর জনগণ সরকারকে বিচারের সুযোগ পায়। কিন্তু তার অধিকারও কেড়ে নেয়া হয়েছে। আগামী নির্বাচন যদি সুষ্ঠু না হয় তাহলে যারা মতায় আসবে তারা জনগণকে তোয়াক্কা করবে না। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হলেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল অংশগ্রহণ করতে পারেনি। : তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন যদি অংশগ্রহণমূলক হয় তাহলে সরকারের যত খারাপ দুরভিসন্ধি থাকুক না কেন, তাতে নির্বাচনকে প্রভাবিত করা সহজ হয় না। রংপুরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে এমন আশা করা ঠিক হবে না। : দিলীপ কুমার সরকার বলেন, হলফনামায় প্রদত্ত প্রার্থীদের তথ্যের তূলনামূলক চিত্র তৈরি করে বিতরণ করা হয়, যাতে ভোটারগণ তথ্যের দ্বারা মতায়িত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের েেত্র সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আমরা মনে করি,  নিবার্চন সংক্রান্ত সচেতনতা জনগণের মধ্যে প্রচার করতে হবে তাহলে নির্বাচনি সহিংসতা কমে আসবে। সুতরাং ভবিষ্যতেও সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে আমাদের নির্বাচন কমিশনকে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রম আরও বেশি বেশি পরিচালিত করবে বলে মনে করি।’ : সভায় বক্তারা আরও জানান, ঢাকা সিটি করপোরেশনে নতুনভাবে আরও যে ওয়ার্ড যুক্ত হয়েছে, সেইসব স্থানে সুজনের প থেকে গণসংযোগ ও মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে জনগণের মুখোমুখি এনে আলোচনার ব্যবস্থা করা হবে। : : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুজন সম্পাদক বলেছেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সংসদ ভেঙে সেনা মোতায়েন করতে হবে। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33117 জন