সংসদে প্রধানমন্ত্রীর মিথ্যাচার রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল : ফখরুল
Published : Friday, 12 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 11.01.2018 9:55:02 PM
দিনকাল রিপোর্ট : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে সম্পদ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংসদে ‘মিথ্যাচার এক ধরনের রাষ্ট্রদ্রোহী’ বলে দাবি করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংসদে প্রধানমন্ত্রীর মিথ্যাচারকে ‘শপথভঙ্গের’ সাথে তুলনা করে তিনি বলেন,  উনি (প্রধানমন্ত্রী) দায়িত্বহীন ভূমিকা পালন করছেন আন্ডার ওথ। শপথ নিয়েছেন যে, উনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন, সত্য কথা বলবেন, মিথ্যা কথা বলবেন না। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি মিথ্যা কথা বলতে পারেন না, সারা জাতিকে বিভ্রান্ত করতে পারেন না। অথচ সংসদ তিনি এই মিথ্যাচার করছেন। এখনো বলছি এই সমস্ত বন্ধ করেন, মিথ্যাচার বন্ধ করেন। জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা বন্ধ করেন। জাতি কখনো বিভ্রান্ত হবে না, হয়নি কোনোদিন। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী অসত্য বক্তব্য দেয়ার জন্য একটি মানহানি মামলা হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর : বক্তব্য যেন গণতন্ত্রের ওপর বিষাক্ত তীর নিক্ষেপ। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে তীর্যক ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন তা শুধু অনভিপ্রেত বা দুঃখজনকই নয়, বরং এটি রাজনৈতিক পরিবেশ এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও সংশয় দানা বাঁধবে। সংসদে  প্রধানমন্ত্রী যে সম্পদের কথা বলছেন, সম্পদের নাম দেয়া হয়েছে বাস্তবে সেই সম্পদগুলোর কোনো অস্তিত্বই নেই। এই যে মিথ্যাচার, এই মিথ্যাচার করে গোটা দেশবাসীকে প্রধানমন্ত্রী বিভ্রান্ত করছেন। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যে বিভ্রান্ত করবার চেষ্টা করছেন এটা এক ধরণের রাষ্ট্রদ্রোহিতাও বটে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অশ্রাব্য, হিতাহিত কান্ডজ্ঞানহীন, বিবেচনাহীন, সভ্যতা-ভব্যতা ও সুরুচির ওপর হিংস্র আগ্রাসন। আমি এহেন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর কুৎসামূলক অপপ্রচারের এই বক্তব্য রাজনৈতিক বিভেদ-বিভাজনকে আরো প্রসারিত করবে ও গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাকে দানবীয় শক্তি প্রয়োগে বাধা দেয়ার সামিল বলে গণ্য হবে। ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ কেন এখন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এতো তীব্র মিথ্যাচারে লিপ্ত হলেন, তার প্রধান কারণ হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের অনাচার-অপকর্মের বিরুদ্ধে বেগম খালেদা জিয়া এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। বেগম খালেদা জিয়া-ভীতির কারণেই ক্ষমতাসীনদের মস্তিষ্কে গোলযোগ সৃষ্টি হয়েছে। : তিনি বলেন, হাজারো মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র এবং অরুচিকর বক্তব্য দিয়েও বেগম খালেদা জিয়াকে জনগণের কাছে হেয় ও অপ্রাসঙ্গিক করতে পারেনি সরকার। বরং গণতন্ত্রহারা জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে গণতন্ত্র ফিরে পাওয়ার আকুতিতে বেগম জিয়া এখন একক ও অনন্য প্রাসঙ্গিক ব্যক্তি। দিনকে দিন অজস্র উস্কানি সত্ত্বে¡ও বেগম খালেদা  জিয়া ধৈর্য, সংযম ও সম্ভ্রমের সঙ্গে সবকিছু মোকাবিলা করছেন। হিংসামূলক কুৎসা রটানোর জবাবেও বেগম খালেদা জিয়া নিজেকে সংযত রেখেছেন। এটাই হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকা, বিএনপির সাফল্যের চাবিকাঠি। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয়ের হাওয়া তুলতে বেগম খালেদা জিয়া সফল হয়েছেন বলেই প্রধানমন্ত্রী অসংযত, অসংসদীয় কথাবার্তা বলছেন। : বিএনপি ‘ইনকুসিভ পলিটিক্সে’ এ বিশ্বাসী বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আগামী নির্বাচন সকল দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত করতে বিএনপি দৃঢ় বদ্ধপরিকর। এটাই দেশবাসীর আকাক্সা। জনগণের আকাক্সার সমান্তরালেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি রাজনীতি করে। : প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যর সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের সর্বত্র নির্বাচনের আওয়াজ দিচ্ছেন অন্যদিকে বিষাক্ত-প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য দিয়ে একটা অবাধ ও সুষ্ঠু রাজনৈতিক নির্বাচনি পরিবেশকে করছেন কলুষিত। বাংলাদেশের মানুষের আগামী দিনের স্বচ্ছ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশাকে তিনি দুঃস্বপ্নে পরিণত করছেন। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ভ্রান্ত-অবাঞ্ছিত তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনগণকে কোনটাই বিশ্বাস করাতে পারবেন না। অতি ক্ষমতালিপ্সু হওয়ার জন্য সরকারের ঊর্ধ্বতন মানুষদের বিবেককে অবশ করে দিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে ক্রমাগত মিথ্যার ধারাবর্ষণ করে ক্ষমতাসীনরা বাংলাদেশে এক বিধ্বংসী বিপজ্জনক অভিযানে নেমেছেন। অনাচারমূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকার জন্য জবাবদিহিতার সকল প্রতিষ্ঠানকে ভেঙ্গে দিয়েছে এই সরকার। জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে গিয়ে মিথ্যা ও অপপ্রচারকে কায়েমী ও দৃঢ়মূল করতে ভ্রান্ত নীতি প্রয়োগ করছেন ক্ষমতাসীনরা। মিথ্যাকে কখনোই সত্য বলে চালানো যাবে না। আওয়ামী লীগ কখনোই রাজনীতির ভদ্রতার নিয়ম-কানুন মানেনি। আর এই অবিরাম ডাহা মিথ্যা কথার প্রতিক্রিয়ায় জনমনে আওয়ামী সরকার মিথ্যাবাদী সরকার বলেই সুপ্রতিষ্ঠিত। : বিএনপির এই নেতা বলেন, অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত- পদ্মা সেতু নিয়ে যে দুর্নীতি হয়েছে তা নিয়ে তিনটি পদ্মা সেতু বানানো যেতো। বর্তমান সরকারের আমলে বেপরোয়া দুর্নীতিকে উন্নয়নের বড় অংশীদার করা হয়েছে। সেজন্য উন্নয়নের অগ্রগতি নেই, আছে শুধু আস্ফালন ও কটুবাক্যের তীব্রতা। পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্রিজ, কালভার্ট, ফাইওভার, সড়ক-মহাসড়ক, শেয়ার বাজার সবকিছুই লাগামহীন দুর্নীতির এক একটি মাইল ফলক। আর এসব দুর্নীতির সাথে ক্ষমতাসীনদের শীর্ষ ব্যক্তিরাই জড়িত। রাষ্ট্রযন্ত্রকে নির্মমভাবে ব্যবহার করে বিরোধী মত ও বিশ্বাসকে দমন করে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েও সরকার তাদের দুর্নীতি চাপা দিয়ে রাখতে পারছে না। : ২০১৬ সালে সুইজারল্যান্ড কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়- ২০১৫ সালেই বাংলাদেশ থেকে তাদের দেশের ব্যাংকে জমা হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা কার সেটা দেশবাসী জানে। কারণ এই সরকার অর্থপাচার রোধে তৎপরতা দেখায়নি। তবে কানাডায় বেগমপাড়া এবং মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমের মালিক কারা সেটিও দেশবাসী জানে। সুতরাং দেশের বাইরে বেগম জিয়ার সম্পদের কাল্পনিক ও মনগড়া কাহিনী রচনা করে কোনো ফায়দা হবে না। সরকার প্রধান যে নির্বাচনের আগে জনগণের দৃষ্টির সামনে মিথ্যার ফানুস ওড়াতে চাচ্ছেন সেটি দেশবাসীর অজানা নয়। : সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের চেয়ারের তলা থেকে জনসমর্থন সরে গেছে, সেজন্যই জনগণের বদলে বন্দুকের ওপর ভরসার পাশাপাশি কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের ওপর আশ্রয় নিয়েছেন বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার। গতকাল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অশ্রাব্য, হিতাহিত কান্ডজ্ঞানহীন-বিবেচনাহীন, সভ্যতা-ভব্যতা ও সুরুচির ওপর হিংস্র্র আগ্রাসন। আমি গতকাল মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানাচ্ছি।    : সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ- দফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন প্রমুখ। : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুজন সম্পাদক বলেছেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সংসদ ভেঙে সেনা মোতায়েন করতে হবে। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33168 জন