বেগম খালেদা জিয়া নির্দোষ আদালতে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা আইনজীবীদের
Published : Friday, 12 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 11.01.2018 9:54:53 PM
বেগম খালেদা জিয়া নির্দোষ আদালতে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা আইনজীবীদেররফিক মৃধা, দিনকাল : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রাজধানীর বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে অস্থায়ী বিশেষ আদালতে যুক্তি উপস্থাপন মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী শুনানি আগামী ১৬, ১৭ ও ১৮ জানুয়রি ধার্য করেছেন ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৯ মিনিটে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নবম দিনের মতো যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার।  ১১টা ৫ মিনিটে আদালতে পৌঁছান বেগম খালেদা জিয়া। নবম দিনের মতো এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে আদালতে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার সমস্ত স্যা প্রমাণ পর্যালোচনা করে দেখেছি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই দুর্নীতি দমন কমিশন প্রমাণ করতে পারেনি। ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে না পারলে এর সুবিধা পাবেন আসামি। তিনি আদালতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার চান, ন্যায়বিচার করুন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় নবম দিনে খালেদা জিয়ার পে গতকাল মধ্যাহ্ন বিরতির আগে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার। জমির উদ্দিন সরকার আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসনের জবানবন্দিতে দেয়া বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পড়ে শোনান। যুক্তিতর্ক শুনানিতে বেগম খালেদা : জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, বেগম খালেদা জিয়া এতিমের টাকা চুরি করে খেয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের এমন বক্তব্য আদালতের কাজে হস্তপে কি না তা মাননীয় আদালত ভেবে দেখবেন। এ ছাড়া তিনি তার বক্তব্যে বারবারই আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের কথা আদালতকে স্মরণ করিয়ে দেন। : জমিরউদ্দিন সরকার এক-এগারোকে ‘কালো দিবস’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ওই সময় সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন বাধাগ্রস্ত করতে মামলাগুলো দেয়া হয়েছে। এখন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা আছে। এ ছাড়া তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের খালাস দেয়া সেই বিচারককে কীভাবে হয়রানি করা হয়েছিল, সে তথ্য-উপাত্ত আদালতের শুনানিতে তুলে ধরেন। : তিনি আরো বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। বেগম খালেদা জিয়া এই মমলায় ফুল খালাস পাবার হকদার। তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্যা-প্রমাণে তিনি নির্দোষ। বেগম খালেদা জিয়াকে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য এ মামলাটি করা হয়েছে। : বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির শুরুতে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ একটি গল্প দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার তার শুনানি শুরু করেন। বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী মওদুদ গল্পের ছলে বলেন, প্রথম ব্রিটিশ নাগরিক যিনি এভারেস্ট বিজয় করেছেন, তিনি এভারেস্টের চূড়ায় গিয়ে দেখেন, একলোক ওখানে আগে থেকে বসে আছেন। তখন তিনি তাকে দেখে হতবাক। তখন তিনি ওই ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘তুমি কে?’ তখন ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আপনি কে?’ ব্রিটিশ নাগরিক বলেন, ‘আমি ইংল্যান্ড থেকে এসেছি। আর তিনি বলেন, ‘আমি এসেছি নিউক্যালি (নোয়াখালী) থেকে। : বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রীর এক দিক থেকে মিল দেখছি। তারা নোয়াখালীর লোক ছাড়া সেনাপ্রধান নিয়োগ দিতে পারেন না। দুইজনই নোয়াখালীর সেনাপ্রধান নিয়োগ দিয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আগে মইন উ আহমেদকে ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি মরহুম আনিসুর রহমানের ছোট ভাই আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হককে। সুতরাং ডোন্ট আন্ডার এস্টিমেট দ্যা পিপল অব নোয়াখালী। : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জবানবন্দির সময়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক খান, অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মাদ আলী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট সানাউলাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম খান, অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান তপন  প্রমুখ। : অপরদিকে আদালতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, আমিনুল ইসলাম, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন। : পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে আদালতের আশে পাশে নেতাকর্মীদের ঢল : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরা উপলক্ষে আদালতে যাওয়া ও আসার পথে মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, চানখাঁরপুল ও আদালত প্রাঙ্গণের আশেপাশের সড়কে বেগম খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িকে ঘিরে ব্যাপক শোডাউন তৈরি করে ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকেই এসব স্থানে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। বৃহস্পতিবার আড়াইটার দিকে পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসার মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালত থেকে বের হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আদালত থেকে বের হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মোড়ে আসলে অপেমাণ দলটির নেতাকর্মীরা তার গাড়িবহরে যুক্ত হন। গাড়িবহর হাইকোর্ট মাজারের সামনে এলে ভেতরে অপেমাণ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী গাড়িবহরে যোগ দেন। এ সময় বিভিন্ন শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। “খালেদা জিয়া ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই”, “খালেদা জিয়া এগিয়ে চল, আমরা আছি তোমার সাথে”, “জেল জুলুম হুলিয়া, নিতে হবে তুলিয়া” এ ধরনের অসংখ্য শ্লোগান নেতাকর্মীদের কণ্ঠে শোনা যায়। গাড়ি বহরে  বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আ ক ম মোজ্জামেল হক, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি, বিএনপি নোতা অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন মন্ডল, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিবর, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আলী, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম মিল্টন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল রিয়াদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফ উদ্দিন জুয়েল, যুবদল দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, সহ-সভাপতি আলমগীর হাসান সোহান, নাজমুল হাসান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ, ওমর ফারুক মুন্না, মেহবুব মাছুম শান্ত, কাজী মোখতার হোসেন, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, মহসিন বিশ্বাস, দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া, সহ-সাধারণ সম্পাদিকা আরিফা সুলতানা রুমা, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক তানভীর আহমেদ খান ইকরাম, ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ আবদুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক শাহ নেছারুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর ওলামা দলের সহ-সভাপতি হাজী মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দও শোডাউনে অংশ নেন। : : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুজন সম্পাদক বলেছেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সংসদ ভেঙে সেনা মোতায়েন করতে হবে। আপনি কি একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33121 জন