এস কে সিনহার পদত্যাগ জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে : বিবিসি
Published : Saturday, 13 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 12.01.2018 11:32:11 PM
দিনকাল রিপোর্ট : সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে বর্তমান সরকার ও বিচার বিভাগের মুখোমুখি অবস্থান আগামী জাতীয় নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে আরো যুক্ত হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাকে পদত্যাগে বাধ্য করার বিষয়টিও। বাংলাদেশে নির্বাচনের বছরে সাধারণ মানুষের আলোচনাতেও ঘুরেফিরেই উঠে আসে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগের বিষয়টি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের বাইরেই অনেক কিছুর সাক্ষী প্রাচীন বটগাছের নিচেও মানুষের জটলায় আলোচনা চলছিল এ বিষয়গুলো নিয়ে। আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন নানা বয়স ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই এই ইস্যুটি ঘিরে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ছে দেশের সচেতন মানুষ। তবে সবাই একমত আসন্ন নির্বাচনেও ঘুরেফিরে আসবে সিনহার পদত্যাগের বিষয়টি। বিবিসি বাংলার পরিচালিত এক জরিপে এ বিষয়টি আরো ফুটে উঠেছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের এক কলেজশিক্ষক আবদুল আলিম মনে করেন, সরকার স্পষ্টতই বিচার বিভাগের ওপর প্রভাব ফেলেছে। ব্যাংকার তরিকুল ইসলাম অবশ্য বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই নিজে থেকে পদত্যাগ করেছেন সিনহা। দুজন আইনজীবীও যোগ দেন এ আলোচনায়। তাদের একজন শুভংকর শঙ্কিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে, তবে অন্যজন মনে করেন যা হয়েছে নিয়ম মেনেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষক দিলারা চৌধুরীর মতে, এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন এমন একটা বিচার বিভাগ নিয়ে ইলেকশন করতে যাচ্ছি, যে বিচার বিভাগটা ভীষণভাবে বিতর্কিত। যে বিচার বিভাগ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে যে সরকার এটাকে হাতের মুঠোয় নেয়ার চেষ্টা করছে। এখন যদি বিচার বিভাগ নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন ওঠে, যদি তারা মনে করে যে বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগের কথা শুনে চলে, তাহলে কিন্তু এই বিচার নির্বাচন-পরবর্তী কোনো কিছুতে ভূমিকা রাখতে গেলে জনগণ তা মেনে নেবে না।’ : এই বিতর্কে বাংলাদেশের অন্যতম বিরোধী দল বিএনপির বরাবরই ছিল সুস্পষ্ট সরকারবিরোধী অবস্থান। এই দলটি বিগত নির্বাচনে অংশ নেয়া থেকে বিরত ছিল। যদিও পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলের প্রতীক নিয়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে তারা অংশ নেয় এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তারা অংশ নেবে বলে একটি জোর ধারণা আছে। তবে এখন পর্যন্ত দলটি তাদের নির্বাচন সংক্রান্ত দাবি-দাওয়া সম্পর্কে অনড় অবস্থানই ধরে রেখেছে। : দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলছিলেন, তারা নির্বাচনে গেলে এই ইস্যুটিকে অবশ্যই বড় করে সামনে আনবেন। : ‘এটা এখন আরো বেশি অগ্রাধিকার পাবে বর্তমান সরকারের আচরণের কারণে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি অবশ্যই বিচার বিভাগের ওপর আওয়ামী লীগের এই সরাসরি হস্তক্ষেপের বিষয়টি সামনে আনবে।’ প্রধান বিচারপতির সাথে সরকারের টানাপড়েন চলাকালে বিএনপি যেসব প্রশ্ন তুলেছে, সেসবের জবাবও সরকারি দল আওয়ামী লীগ দিয়ে গেছে অব্যাহতভাবে। : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলছিলেন, ‘এই ইস্যুটি এখন মৃত, এখান থেকে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার আর কোনো সুযোগ নেই। তারপরও যদি ভোটের রাজনীতিতে বিরোধীরা ইস্যুটিকে সামনে আনার চেষ্টা করে, তবে তারাও তৈরি বলে জানান এ উপদেষ্টা। দেখুন ভোট দেয়ার সময় সাধারণ মানুষ এত হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্টের মতো বিষয় বিচার করে না। তারপরও যদি নির্বাচনে এ ইস্যুটি আসেও, তাহলে আমাদের কাছে যথেষ্ট দালিলিক তথ্য-প্রমাণ আছে যে এখানে বিচার বিভাগের ওপর কোনো হস্তক্ষেপ হয়নি।’ : এইচ টি ইমামের দাবি, বিচারপতিদের সরিয়ে দেয়ার জন্য বয়স কমানো বা বাড়ানোর ঘটনা ঘটেছে বিএনপির আমলেই। ইতিহাস বলছে, বাংলাদেশে বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতার বদল ঘটেছে প্রায়ই। ১৯৭২ সালের সংবিধানে এটা ছিল সংসদের হাতে, ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনীতে এই ক্ষমতা সংসদের হাত থেকে নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে দেয়া হয়। ১৯৭৮ সালে আবার বিচারপতিদের অপসারণে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাতিল করে গঠিত হয় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। আর ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা আবার সংসদের হাতে দেয়া হয়েছিল, যেটা বাতিল হওয়ার মাধ্যমে পরিষ্কার হয় সরকার ও বিচার বিভাগের মুখোমুখি অবস্থান। তাইতো অনেকে মনে করেন, আওয়ামী সরকারের মেয়াদের শেষ বছরে এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ হয়ে উঠতে পারে আগামী নির্বাচনে বড় নিয়ামক। : শিগগিরই প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হবে : আইনমন্ত্রী : এদিকে অচিরেই বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে একজন প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দেশটির আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গত বছর ১০ নভেম্বর বিদেশে বসে পদত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। সেই থেকে দু মাসের বেশি সময় ধরে নতুন কোনো প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেননি রাষ্ট্রপতি। : এর আগে বাংলাদেশে কখনোই এত দীর্ঘ সময় ধরে প্রধান বিচারপতির পদটি ফাঁকা থাকেনি। এমনকি প্রধান বিচারপতির পদ শূন্য ঘোষণা করে কোনো গেজেট নোটিফিকেশনও জারি করেনি সরকার। অবশ্য পদত্যাগের আগে যখন ছুটিতে ছিলেন সিনহা তখন যে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন, সেই আবদুল ওয়াহ্হাব মিয়াই এখনও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কিন্তু এতে কোনো সমস্যা দেখছেন না আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। : বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ত্বরিত নিয়োগ হতে হবে, সে রকম কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা কিন্তু নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে, এটা সম্পূর্ণ মহামান্য রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার। সেই মতে উনি কখন নিয়োগ দেবেন, আমিতো এটা বলতে পারব না। কিন্তু আমি আশা করি খুব শিগগিরই এটা হবে।’ : সরকার বিচার বিভাগকে করায়ত্ত করার চেষ্টা করছে, বিরোধী দলগুলোর এমন অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে আইনমন্ত্রী বিচার বিভাগকে স্বাধীন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরাতো দেখিয়ে দিচ্ছি স্বাধীনভাবে বিচার হচ্ছে। মানুষ স্বাধীনভাবে বিচার পাচ্ছে। জনগণ আদালতে যেতে পারছে।’ : এস কে সিনহা যুক্তরাষ্ট্রে : সদ্যবিদায়ী প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা প্রায় ২ মাস টরেন্টোতে থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন।  স্থানীয় সময় গত রবিবার এয়ার কানাডার একটি বিমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে। : এর আগে বিচারপতি সিনহা গত বছরের ১০ নভেম্বর সিঙ্গাপুর থেকে টরেন্টো এসে পৌঁছান। ডাউনটাউনে ভাড়া করা একটি বাসায় তিনি এতদিন ছিলেন। দীর্ঘ ২ মাসে তিনি কাছের মানুষ ছাড়া আর কারো সাথে দেখা করতে চাননি। তবে যাওয়ার প্রাক্কালে টরেন্টোর সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সাথে অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ করলেও তাকে নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করতে অস্বীকৃতি জানান। : উল্লেখ্য, কথা প্রসঙ্গে সাবেক এই প্রধান বিচারপতি গণমাধ্যমকে জানান, তিনি এখন স্মৃতিকথা লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্মৃতিকথা অনুলিখনের জন্য এক প্রবাসী বাঙালির সহায়তা নেবেন বলেও জানান। তার পারিবারিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েই আছে। আপনি কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
34063 জন