অনশনে অসুস্থ ১০৬
প্রয়োজনে রাস্তায় মরব বেতন ছাড়া যাব না
Published : Saturday, 13 January, 2018 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট : জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চতুর্থ দিনের মতো আমরণ অনশন পালন করছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। এই অনশনে অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন নাসরীন বেগমও। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে চাদর মুড়িয়ে শুয়ে আছেন তিনি। ঝিনাইদহ জেলার বড়বাড়ি বগুড়া স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার এই প্রধান শিক্ষক জানালেন, কয়েক দিন ধরে তিনি না খেয়ে রয়েছেন। : গতকাল শুক্রবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে সেখানেই তাকে স্যালাইন দেয়া হয়। নাসরীন বলেন, জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত আমি না খেয়েই থাকব। প্রয়োজনে রাস্তায় মারা যাব। জাতীয়করণের দাবিতে ১ জানুয়ারি থেকে প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকেরা। দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা ৯ জানুয়ারি থেকে আমরণ অনশন করছেন। সমিতির দাবি, অনশনের কারণে ১০৬ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে সাতজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। : মাদ্রাসার শিক্ষকরা বলছেন, ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা ৩৪ বছর ধরে বেতন-ভাতা বঞ্চিত। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো সরকারের সব কাজে অংশ নেন তারা। অথচ তেমন কোনো বেতন-ভাতা পান না। অনশনস্থলে দেখা যায়, এই শীতে খোলা আকাশের নিচে প্রেসক্লাবের মূল ফটকের পশ্চিম পাশে ফুটপাত ও সামনের সড়কের একাংশে ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা শুয়ে আছেন। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। বেশি কষ্ট হচ্ছে নারী শিক্ষকদের এবং তাদের সঙ্গে থাকা সন্তানদের। জরুরি অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। : বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির মহাসচিব কাজী মোখলেছুর রহমান জানান, দাবি আদায়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আমরা কোনো আশ্বাস পাইনি। তাই অনশন চালিয়ে যাব। জাতীয়করণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের ডাকে ১০ জানুয়ারি থেকে এই কর্মসূচি চলছে। : বাগেরহাটের রামপালের পোড়খালি পি ইউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেন, সবার বেতন বাড়ে, তবু আমাদের বেতন বাড়ে না। শিক্ষকরা অবসরের পর পেনশনের টাকা পান না। কোনো বৈশাখী ভাতা নেই, উৎসব ভাতা নেই। বাসাভাড়া হিসেবে মাত্র এক হাজার টাকা পাই। বদলি বা পদোন্নতির কোনো সুযোগ নেই। দিন-রাত প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান করছি। ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছেন। : বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, জাতীয়করণের দাবি পূরণে এখন পর্যন্ত কোনো আশ্বাস তারা পাননি। আজ শনিবারের মধ্যে দাবি আদায় না হলে রবিবার থেকে তারা আমরণ অনশনে যাবেন। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েই আছে। আপনি কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
34046 জন