শ্রীপুরে হাতির মাহুতের বেতন নেই ১৩ মাস!
Published : Sunday, 14 January, 2018 at 12:00 AM
বশির আহমেদ কাজল, শ্রীপুর (গাজীপুর) থেকে : বিশালাকার প্রাণী হাতিকে পোষ মানাতে গিয়ে জীবনে বহুবার মৃত্যুর মুখে পড়েছেন মাহুত আবু তাহের। তবুও ছাড়তে পারেননি হাতির প্রতি ভালোবাসা। শরীরে হাতির আক্রমণে বুকের পাঁজর ভাঙার সাক্ষী নিয়ে কুসুম মালাকে (হাতির নাম) নিয়ে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে আগত দর্শনার্থীদের আনন্দের খোরাক জোগাড় করলেও দীর্ঘ ১৩ মাস ধরে বেতন-ভাতা না পাওয়ায় পরিবারসহ দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের। গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের প্রতিষ্ঠালগ্নে ২০১৩ সালে ছয়টি হাতি আনা হয়। এই ছয়টি হাতির জন্য ছয়জন মাহুত (পরিচালনাকারী) নিয়োগ দেয়া হয়। এদের মধ্যে দুজনের বেতন-ভাতা সাফারি পার্ক প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও চারজনকে আউট সোর্সিং হিসেবে নেয়া হয়। পরে কিছু দিন সামান্য বেতন-ভাতা দেয়া হলেও গত ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে তা বন্ধ হয়ে যায়। গত ১৩ মাস ধরে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাহুত আবু তাহের ছাড়াও মাহুত সাধন, পুনসেন, বিনোদের পরিবারসহ অন্য কর্মচারীরা চরম দুর্বিষহ অবস্থায় পড়েছেন। হাতির মাহুত সাধন চাকমা জানান, পাহাড়ি এলাকায় তাদের বাড়ি হওয়ায় ছোটকাল থেকেই নানাভাবে যুদ্ধ করে তাদের টিকে থাকতে হয়। অনেক সময় পূর্ব পুরুষের মাহুতের পেশা ধরে রাখতেই তারা এ পেশায় নামেন। হাতির বয়স যখন তিন বছর হয় তখন তাকে প্রশিক্ষকের সাহায্যে তিন মাসের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। যার পুরোটায় তত্ত্বাবধান করেন মাহুতরা। এমনিভাবে বিশেষ প্রশিক্ষণের সাহায্যে তাকে গড়ে তোলা হয়। এ সময় হাতিটি মাহুতের অধীনস্থ হয়ে যায়। তবে হাতিটি নির্দিষ্ট মাহুত ছাড়া অন্যের হুকুম পালন করতে রাজি নয়।  নিজেরা বিশালাকার প্রাণী হাতিকে বশ মানাতে পারলেও বেতন-ভাতার অভাবে এ পেশা ছেড়ে দেয়ার কথা আজ ভাবতে হচ্ছে তাদের। মাহুত পুনসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে আয়ের পথ বন্ধ হওয়ার পরও শ্রম থেমে থাকেনি। প্রতিদিন হাতির পরিচর্যাসহ যাবতীয় কাজ করতে হয়। :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বর্তমানে গরিবরা আরও গরিব হয়েছে। আয় কমেছে ৬০ ভাগ মানুষের। সুশাসনের অভাবে এমন হচ্ছে বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33849 জন