কটিয়াদীর চার লক্ষাধিক মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত
কটিয়াদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স : ৩১ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও ১৮টি শূণ্য
Published : Sunday, 14 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 13.01.2018 8:55:25 PM
কটিয়াদীর চার লক্ষাধিক মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিতকটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার সংকটে চার লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে প্রায় চার লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য রয়েছে একটি ৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল, ৪টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ৪১টি কমিউনিটি ক্লিনিক। সব মিলিয়ে অত্র উপজেলায় চিকিৎসাসেবার জন্য ৩১ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও ১৮টি পদই রয়েছে শূন্য। ১৩ জন ডাক্তারের পোস্টিং থাকলেও তার মধ্যে ৪ জন ডেপুটেশনে ঢাকা কিংবা তাদের সুবিধাজনক স্থানে রয়েছেন। শুধু বেতন-ভাতার সময় হলেই ছুটে আসেন অত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এ অবস্থা। ফলে উপজেলার সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে তারা ছুটে যাচ্ছেন বিভিন্ন শহরের কোনো না কোনো প্রাইভেট ক্লিনিক বা হাসপাতালে। অথবা অসুস্থতা নিয়েই অপেক্ষায় থাকতে হয় শুক্রবারের জন্য। প্রতি শুক্রবার সকালে অতিথি পাখির মতো কিছু ডাক্তার আসেন বিভিন্ন ক্লিনিক ও প্যাথলজিতে আবার সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার আগেই চলে যান। এসব ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে পোহাতে হয় কারণে-অকারণে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ঝামেলা। সেখানে চিকিৎসা করাতে সাধারণ কর্মজীবী মানুষের ব্যয় হয়ে যাচ্ছে তাদের শেষ সম্বল জায়গা-জমি বা যৎসামান্য সঞ্চিত অর্থ। আবার যারা গরিব, দুস্থ মানুষ তাদের তো আর এত টাকা খরচ করে এ ধরনের প্রাইভেট ডাক্তার দেখানো সম্ভব হয় না। জানা যায়, উপজেলার ৪টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ডাক্তারশূন্য। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকে। ৫০ শয্যার হাসপাতালে রয়েছেন একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, একজন আবাসিক, চারজন মেডিকেল অফিসার, দুজন কনসালটেন্ট ও একজন ইউনানী ডাক্তার। আবার কনসালটেন্ট ডাক্তারদের নামে রয়েছে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ। কনসালটেন্ট ডাক্তার টিএইচওকে ম্যানেজ করে সপ্তাহে ২ দিন আসেন হাসপাতালে। তাও নিজের চেম্বারে না বসে টিএইচওর চেম্বারে বসে নাস্তা-পানি খেয়ে দু-একজন রোগী দেখে চলে যান। এই ৯ জন ডাক্তারকে দিয়ে চলছে কটিয়াদী উপজেলাবাসীর চিকিৎসাসেবা। ডেপুটেশনে ঢাকা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আছেন ডেন্টাল সার্জন শারমীন শরীফ, মেডিকেল অফিসার আয়েশা, আতিকুর রহমান এবং ডা. আসাদুজ্জামান আছেন শিশু ও মাতৃসদন হাসপাতাল মাতুয়াইলে।  অত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়মটাই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। বহির্বিভাগে সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত রোগী দেখার নিয়ম থাকলেও নির্ধারিত সময় পর্যন্ত নিজ কক্ষে কোনো ডাক্তার থাকেন না। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সব ডাক্তারই নিজ নিজ বাসা অথবা প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখায় ব্যস্ত থাকেন। সকাল ১০টার পর নিজ কক্ষে বসেন আবার ১২টার পূর্বেই কক্ষ ত্যাগ করেন। কোনো কোনো ডাক্তার সকাল ১০টায় হাসপাতালে এসে নিজ চেম্বারে বসার কয়েক মিনিট পর পর চলে যান বিভিন্ন প্যাথলজি ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য। দেড় থেকে দুই ঘন্টার বেশি কখনো কোনো ডাক্তারকে তাদের কক্ষে দেখা যায় না। হাসপাতালে রোগী দেখার পর কারণে-অকারণে কিছু পরীক্ষা দেন আবার পরীক্ষার রিপোর্ট দেখাতে হয় প্রাইভেট ফিস দিয়ে ডাক্তারদের নিজ বাসায় অথবা চেম্বারে। ফলে চিকিৎসা নিতে হলে বাধ্য হয়েই মোটা অংকের ভিজিট দিয়ে তাদের ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসা নিতে হয়। তার উপর কয়েক গুণ বেশি মূল্য দিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো বিষয়তো রয়েছেই। হোক তা প্রয়োজনীয় বা অপ্রয়োজনীয়। একটি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে তার আশপাশে ৬-৭টি প্যাথলজি রয়েছে। এসব প্যাথলজিতে রোগীদের প্রয়োজনে কিংবা অপ্রয়োজনে পরীক্ষা করে ডাক্তাররা হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের কমিশন। : :  





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বর্তমানে গরিবরা আরও গরিব হয়েছে। আয় কমেছে ৬০ ভাগ মানুষের। সুশাসনের অভাবে এমন হচ্ছে বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33850 জন