গণতন্ত্র হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতির মৃত্যু ঘটেছে : মীর নাছির উদ্দিন
Published : Sunday, 14 January, 2018 at 12:00 AM
স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার, দিনকাল : বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেছেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচনে গণতন্ত্র হত্যার মাধ্যমে আওয়ামী রাজনীতির অপমৃত্যু ঘটেছে। আওয়ামী লীগ এখন একটি জনবিচ্ছিন্ন দল। গণতন্ত্র রক্ষা দিবসের নামে তারা বিএনপির গণতন্ত্র হত্যা দিবসের কর্মসূচিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে প্রমাণ করেছে আগামী দিনে তারা বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় না। শুক্রবার বিকালে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে জেলা বিএনপি আয়োজিত এক কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি আরো বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর্বতসম জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের সাধারণ সম্পাদকসহ আওয়ামী লীগ নেতারা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বিবর্জিত বক্তব্য দিয়ে ও কল্পনা প্রসূত বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করছে। তিনি বলেন, ‘দেশে এখন একদিকে আওয়ামী দুর্নীতির জোয়ার চলছে। অন্যদিকে বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, সারাদেশের মানুষ জানে আওয়ামী লীগের নেতারা দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছে। নিজেদের অপকর্ম চাপা দেয়ার জন্য বেগম খালেদা ও জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগ করছে। দেশ এখন ব্যাংক ডাকাতদের দখলে উল্লেখ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের ব্যাংক পরিচালক বানিয়েছে এবং তাদের হাতে কোটি কোটি টাকা লুটপাট চলছে। সম্প্রতি বেগম জিয়ার ১৪টি মামলা বকশীবাজারের মাদ্রাসা মাঠে বিশেষ আদালতে স্থানান্তরের নিন্দা জানিয়ে মীর নাছির বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অতীতে কোনো স্বৈরশাসকের সাথে আপোস করে রাজনীতি করেননি, ভবিষ্যতেও করবেন না। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চের ষড়যন্ত্র ও ২০০৭ সালের ১/১১ এর ষড়যন্ত্র বিএনপি নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি। অতীতে যারা বিএনপির সাথে বেঈমানী করেছে তারাই ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে দল এবং দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপিকে দেশের একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিঘাত করেছে। একমাত্র বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশেই আগামী দিনে আন্দোলন ও নির্বাচনে জীবন বাজি রেখে বিজয় ছিনিয়ে আনতে হবে। জেলা বিএনপির বিশাল এই কর্মিসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য পেশ করেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এটিএম নূরুল বশর চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শামীম আরা স্বপ্না, সহ-সভাপতি অ্যাড. নূরুল আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন ও আকতারুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক আবু তাহের, দফতর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মো. আলী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি অধ্যাপক আজিজুর রহমান, সহ-সাংগঠনিক আতাউল্লাহ বোখারী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জিসান উদ্দীন জিসান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাসেদুল হক রাসেল, উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোলতান মাহমুদ চৌধুরী, চকরিয়া পৌর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক ফখরুদ্দিন ফরাজী, রামু উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মেরাজ আহমদ চৌধুরী মাহিন, শাপলাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমিনুল হক চৌধুরী, চকরিয়া পৌরসভার গিয়াস উদ্দীন, ডুলাহাজারা ইউনিয়ন সভাপতি অধ্যাপক ছাবের আহামদ, পূর্ববড়ভেওলা আহ্বায়ক আনোয়ারুল আরিফ দুলাল, ঝিংলজা ইউনিয়ন সভাপতি মুজিবুল হক মিয়াজী, ইসলাম পুর সভাপতি মঞ্জুর আলম, মহিলাদল নেত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ঝিনু, খুনিয়াপালং সভাপতি ফরিদুল আলম প্রমুখ। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন জেলা ছাত্রদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবদুল্লাহ খান। কর্মিসভাকে ঘিরে জেলা প্রতি ইউনিট থেকে বিপুল নেতাকর্মী সমবেত হন। সভাস্থলের আশপাশে শহীদ জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও সালাহ উদ্দিন আহমদের সেøাগান সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন শোভা পায়। উৎসবমুখর পরিবেশে কর্মিসভা সম্পন্ন হয়। : কক্সবাজার জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত : কক্সবাজার জেলা বিএনপির নবগঠিত নির্বাহী কমিটির এক সভা গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক আকতার চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি বলেন, ২০১৮ সাল বিএনপির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সময়। এই বছরের কাজের দক্ষতা ও সফলতার বিএনপির অনেক কিছু নির্ভর করছে। আগামী নির্বাচনের জন্য আমাদের অত্যন্ত পরিশ্রম করতে হবে। দলকে সংগঠিত করার মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে বিএনপির দিকে টানতে হবে। : আওয়ামী লীগের সময় শেষ উল্লেখ করে লুৎফর রহমান কাজল বলেন, ‘পৃথিবীতে সব কিছুর একটা সময় থাকে। এক সময় তা শেষ হয়ে যায়। আওয়ামী লীগের সময়ও শেষ হয়ে গেছে। এটা তাদের নেতাদের কথার মাঝে উঠে আসছে। এটা এখন স্পষ্ট হয়ে গেছে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে এবং খালেদা জিয়া চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হবেন।’ : আমি এই জেলা কমিটি সেরা কমিটি মনে করি। আমি আশা রাখবো আপনাদের এই কমিটি কক্সবাজার জেলা বিএনপিকে এক নব দিগন্তে নিয়ে যাবেন। যার ফলাফল হবে আগামী নির্বাচনে জেলার চারটি আসনেই বিএনপি জয়ী হবে। : সাংগঠনিক ভিত্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের পরস্পরের মধ্যে আরো বেশি সৌহার্দ্য ও ভাতৃত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে এবং দলীয় শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড সবাইকে অনুসরণ করতে হবে। সভাপতির বক্তব্যে শাহাজাহান চৌধুরী ওয়ার্ড পর্যায় থেকে ইউনিয়ন, ইউনিয়ন থেকে উপজেলা/পৌরসভা নির্বাহী কমিটিগুলো নিয়মিত সভার মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরো বেশি গতিশীল করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কমিটিগুলো পুনর্গঠনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। : সভায় বক্তব্য পেশ করেন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এটিএম নূরুল বশর চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শামীম আরা স্বপ্না, সহ-সভাপতি এনামুল হক, এম মমতাজুল ইসলাম, মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া, অ্যাড. নুরুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, সহ-সংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও মোক্তার আহমদ, সহ-প্রচার সম্পাদক এম মোবারক আলী, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রাসেদুল হক রাসেল, নির্বাহী সদস্য সরওয়ার জাহান চৌধুরী, অধ্যক্ষ এম মঞ্জুর, ছৈয়দ নূর, সিরাজুল হক ডালিম, মোস্তফা কামাল, অ্যাড. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, অ্যাড. আবদুল কাইয়ুম, অ্যাড. শাহাব উদ্দীন, মফিদুল আলম, আবদুল করিম চেয়ারম্যান, ফরিদা ইয়াসমিন, জাহানারা বেগম, তাহেরা আকতার মিলি, ডা. আবদুল মোতালেব, অ্যাড. খোরশেদ আলম চৌধুরী খোকন প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বর্তমানে গরিবরা আরও গরিব হয়েছে। আয় কমেছে ৬০ ভাগ মানুষের। সুশাসনের অভাবে এমন হচ্ছে বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33799 জন