সরিষাবাড়িতে গোয়েন্দা হেফাজতে একজনের মৃত্যু
Published : Sunday, 14 January, 2018 at 12:00 AM
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি, দিনকাল : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রসেসর সার্ভার হিসেবে কর্মরত নাজিম উদ্দিন শিকদার (৫৯) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশের দাবি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু ঘটেছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি নাজিম উদ্দিন শিকদার পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে। : জামালপুর গোয়েন্দা পুলিশ শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার বয়ড়া বাজার এলাকায় অভিযান চালালে এ ঘটনা ঘটে। জামালপুর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালেমুজ্জামান জানিয়েছেন, সরিষাবাড়ি উপজেলার বয়ড়া বাজার এলাকায় জুয়া খেলা চলছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত ২টা ৩০ মিনিটে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়াড়িরা দৌড়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করলে পুলিশ ১২ জনকে আটক করে। এ সময় নাজিম উদ্দিন শিকদার দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হাসানুল বারী শিশির তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। মৃত নাজিম উদ্দিন শিকদার টাঙ্গাইলের সদর উপজেলার শালিনা গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিন শিকদারের ছেলে বলে জানা গেছে। : মৃত নাজিম উদ্দিনের ছোট ভাই আব্দুল কাদের জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় টাঙ্গাইলের বাসা থেকে জামালপুরে বেড়াতে আসার কথা বলে বেড় হন। সকালে চাচাতো ভাই সায়েমের কাছ থেকে মোবাইলের মাধ্যমে বড় ভাইয়ের গ্রেফতার হওয়ার খবর পেয়ে তিনি জামালপুরে আসেন। গোয়েন্দা কার্যালয়ে তার ভাইর  খোঁজ চাইলে আটকের কথা অস্বীকার করেন কর্মকর্তারা। পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করেন। এসময় ভাইয়ের গালে আঘাতের চিহ্ন  দেখে গোয়েন্দা পুলিশের নির্যাতনে নাজিম উদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। : তিনি দাবি করেন, তার ভাই আগে কোনোদিন জুয়া খেলেননি। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এ ছাড়াও তিনি প্রশ্ন করে বলেন, নাজিম উদ্দিনকে কাছাকাছি সরিষাবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কেন নিয়ে যাওয়া হলো না? নিহতের পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে জামালপুর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালেমুজ্জামান জানান, নাজিম উদ্দিনকে বাঁচানোর জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তিনি দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে শরীরে আঘাত পান। পুলিশ নাজিম উদ্দিনসহ আরো ১২ জনকে আটক করে। তবে তাদের কাউকে কোন ধরনের নির্যাতন করা হয়নি দাবি করে বলেন, তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এ ঘটনায় জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, বর্তমানে গরিবরা আরও গরিব হয়েছে। আয় কমেছে ৬০ ভাগ মানুষের। সুশাসনের অভাবে এমন হচ্ছে বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33733 জন