আন্দোলন না থামালে মাথার খুলি উড়িয়ে দেয়া হবে : মকবুল
Published : Monday, 15 January, 2018 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট : এবার রাজধানীতে শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষার্থীদেরকে প্রকাশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মাথার খুলি উড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক এমপি মকবুল হোসেন। অযৌক্তিকভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর মাসিক বেতন বৃদ্ধিসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় চাপিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছে। : গতকাল রবিবার আন্দোলনে থাকা শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষার্থীদেরকে বাজে ভাষায় গালাগালি, ভয়ভীতি এবং মাথার খুলি উড়িয়ে দেয়ার হুমকির ভিডিওসহ গণমাধ্যমে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশিত হয়েছে। ভিডিওচিত্রে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে কিভাবে ধমক দিচ্ছেন, গালাগালি করছেন  ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন। তার সাথে কয়েকজন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য নীরবে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। মকবুল হোসেন ওই পুলিশ সদস্যদের দেখিয়ে বলেন, যারা আন্দোলন করছে তাদের খুলি উড়িয়ে দেবেন। কাউকে ক্ষমা করা হবে না। আন্দোলনের শখ মিটিয়ে দেয়া হবে। : আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুকে ব্যাপক হারে ছড়িয়েছে। এতে দেখা যায়, মকবুল হোসেন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে কিছুই করতে পারবে না বলে উল্লেখ করে বাজে ভাষায় অনবরত গালি দিয়েছেন। জানা যায়, ১৯৯৬ সালে ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচিত এমপি মকবুল হোসেন ‘এম এইচ শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের’ চেয়ারম্যান। : প্রত্যক্ষদর্শীরা সাংবাদিকদের বলেন, অতিরিক্ত বেতন বৃদ্ধি স্থগিতসহ আট দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা গতকাল রবিবার সকাল আটটা থেকে হাসপাতালের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে আসেন মকবুল হোসেন। এদিকে ইউটিউবে আপলোড করা ভিডিওতে দেখা যায়, মকবুল শিক্ষার্থীদের হুমকি ও গালিগালাজ করছেন, তারপরও শিক্ষার্থীরা অবস্থান ছাড়তে রাজি হচ্ছে না। এ সময় একজন শিক্ষার্থীকে হুমকি দিতে থাকেন মকবুল আহমেদ। পাবনা  মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে দেয়ার কথা জানিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে বলেন, ‘এমবিবিএস করতে আসছ? পাবনা জান না, কী ...(গালি) হইছে জান না?’ এরপর সেখানে উপস্থিত এক পুলিশ কর্মকর্তার উদ্দেশে মকবুল বলেন, ‘পাবনা মেডিকেল কলেজ টোটালি বন্ধ করে দেয়া হইছে।’ পরে আবার শিক্ষার্থীদেরকে মকবুল বলেন, ‘কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ টোটালি বন্ধ করে দিছে, প্রিন্সিপালের কী হইছে? ...(গালি) হইছে?’ ‘তোমার এক বছর মিস হবে, তোমাকে এক্সপেল করা হবে’Ñএক শিক্ষার্থীকে মকবুল এ কথা বলার পর ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘পাঁচ বছর মিস হোক, তবু দাবি আদায় করে ছাড়ব।’ এরপর মকবুল বলেন, ‘তোরা ছাত্র হলো ৫০০ জন। কয়জন এখানে আছে?’ একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘যারা এখানে আসেনি, তারা বাসায় আছে, তারা একাত্মতা প্রকাশ করেছে।’ : মকবুল বলেন, ‘হ, একাত্মতা প্রকাশ করেছে, আর আমার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে সরকার। যারা ইতরামি করবে, খুলি উড়াইয়া দেব।’ ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘নিয়ম বহির্ভূত কিছু হবে না।’ মকবুল দুজন শিক্ষার্থীর প্রতি অঙুলি নির্দেশ করে বলেন, ‘ওই ব্যাটা এর সাহসটা কত, আর ওর সাহসটা কত।’ ‘কত বড় বেয়াদব, এরা চিন্তা করেন।’ এরপর পুলিশকে উদ্দেশ্য করে সবাইকে তুলে  দেয়ার কথা বলেন মকবুল। কিন্তু ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘কেউ উঠবেন না, কেউ উঠবেন না।’ : মকবুল বলেন, ‘আরে ব্যাটা তোর কথা চিন্তা কর।’ ‘উঠে যাবি, উঠে যাবি, কয়বার জেল খাটছস, কয়বার জেল খাটছস?’ : ওই শিক্ষার্থী জবাব দেন, ‘জেল হলে সবার জন্য জেল খাটব।’ এরপর মকবুল ঘুরে গিয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে বলেন, ‘এই মারিয়া, উঠবা না? এখানেই থাকতে হবে কিন্তু।’ তবে শিক্ষার্থীরা ক্রমেই বলতে থাকে, ‘কেউ উঠবে না,  কেউ উঠবে না।’ ‘কর্তৃপক্ষের অত্যাচার চলবে না, চলবে না’ এবং অন্যান্য নানা স্লোগান চলতে থাকে শিক্ষার্থীদের। : এই পর্যায় মেডিকেল কলেজের একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মকবুলের সঙ্গে তর্ক করা ওই ছাত্রকে বুঝাতে যান। তখন তিনি বলেন, ‘নো স্যার, ওনি (মকবুল) আমার মুরব্বি, আমার বাবার বয়সী, কীভাবে ওনি আমাকে গালি দিল, কীভাবে জেল খাটানোর  থ্রেট দিল।’ কলেজের প্রিন্সিপাল বলেন, ‘স্যারের সঙ্গে আমরা চল কনফারেন্স রুমে আলাপ করি।’ কিন্তু শিক্ষার্থীরা উঠতে রাজি হয়নি। আর মকবুল আবার এসে ১০ জন শিক্ষার্থীকে তার সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তাব দেন। : কিন্তু ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা পাগল হয়ে গেছি।’ : মকবুল বলেন, ‘পাগল হয়ে গেছ? পাগলের কী দেখছ?  শোনো তোমাদের যা বক্তব্য আছে, ১০ জন আস...।’ অন্য একজন বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন...ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিকে কিছু হয় না...।’ পরে শমরিতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা মেরে দেয় শিক্ষার্থীরা। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। আপনিও কি তাই মনে করেন
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
34026 জন