সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করতে হবে : বিশিষ্টজন
Published : Monday, 15 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 14.01.2018 11:17:16 PM
আলী মামুদ, দিনকাল : দেশে সংসদীয় ব্যবস্থা ফিরে এলেও অপব্যবহারের কারণে এর সুফল বা গণতান্ত্রিক বিধিবিধান থেকে মানুষ বঞ্চিত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা গণতন্ত্র এখনো হয়নি প্রতিষ্ঠিত। বরং ’৯০-উত্তর রাজনৈতিক উন্নয়নও পেছনের দিকে হাটছে। ক্ষমতাসীন দল নিজেদের দলীয় স্বার্থে সংবিধানে যে পরিবর্তন এনেছেন, তার অধীনে যে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না সে ক্ষেত্রে জাতীয় মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এজন্য সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে সংবিধানে সংশোধন করা যায় বলেও মতামত আসছে। বলা হচ্ছেÑ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে অতীতে সংবিধানে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এ সম্পর্কে প্রখ্যাত সংবিধান বিশারদ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহদীন মালিক বলেন, একটি সংসদ বহাল রেখে আরেকটি সংসদ নির্বাচন করা হলে তাতে পরিস্থিতি উন্নতি হবে বলে মনে হয় না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম অনুরূপ অভিমত জানিয়ে বলেন, বর্তমান সংসদ অবশ্যই ভাঙতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র আইনজীবী কলামিস্ট অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার গতকাল বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বর্তমান সরকার একটি বাধা। : উল্লেখ্য, চার বছর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি কালোদিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। এই দিনের চার বছর পূর্তিতে প্রধান বিরোধী দলকে কোনো সমাবেশ করতেও দেয়া হয়নি। আগামীতে দেয়া হবে বলে মনে হয় না। কথিত নির্বাচনকালীন সরকারের যে মুলা ঝুলানো হয়েছে তাতেও সরকারের পার্টনার জাতীয় পার্টির লোকজনকেই নেয়া হবে বলা যায়। যদিও সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার বলে কিছু নেই। : নির্বাচনের পরিবেশ : স্বৈরাচারের পতন অর্থাৎ ’৯০-উত্তর রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক একটি আবহ সৃষ্টি হয়েছিল। ’৭৫-এর একদলীয় বা বাকশাল ব্যবস্থার বিদায়ের পর দেশে বহুদলীয় সরকার পদ্ধতি চালু করেন স্বাধীনতার ঘোষক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা ফিরে আসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে। তবে এটি ৩ জোটের রূপরেখা অনুযায়ী হয়েছিল। এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা ছিল দেশে প্রথম সফল নির্দলীয় সরকার প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ সরকারে সময়ে। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। : আলোচনার সুযোগ রয়েছে-ড. শাহদীনঃ প্রখ্যাত সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক সম্প্রতি একটি স্যাটেলাইট টিভি  চ্যানেলে এ সম্পর্কে বলেন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে নির্বাচনকালীন সরকারের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ তখন দলীয় সরকার থাকবে না। আবার সংবিধানে এ বিষয়ে কোন রূপরেখা নেই। তাহলে এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হতে পারে। তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধানে ১২৩-এর ‘ক’তে বলা আছে মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে আর ‘খ’তে বলা আছে মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্যকোন কারণে সংসদ ভাঙিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচনের কথা আছে। তিনি বলেন, একটি সংসদ বহাল রেখে আরেকটি সংসদ নির্বাচন প্রতিবেশী ভারতেও নেই। কাজেই এ নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। : সংসদ ভাঙতে হবেÑ আব্দুল লতিফ মাসুম : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে চলতি দশম সংসদ অবশ্যই ভেঙে দিতে হবে। তা না হলে ওপেন লেভেল ফিল্ড হবে না। দলীয় ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকলেতো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। এ জন্য সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হবে। : সরকার একমুখী করছে- অ্যাডভোকেট তৈমূর : বিশিষ্ট আইনজীবী সুপ্রিমকোর্টের আপীল বিভাগের আইনজীবী ও কলামিস্ট অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, সবকিছু জেনেও বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার একগুঁয়েমিভাবে চলছে। এর আগে তারা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারিতে বিনা ভোটে নির্বাচন করেছে। ঐ নির্বাচনের মাধ্যমেই তারা ক্ষমতাই বহাল রয়েছে। :  





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। আপনিও কি তাই মনে করেন
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33890 জন