আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখর তুরাগ তীর
মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা
Published : Monday, 15 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 14.01.2018 11:17:05 PM
আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখর তুরাগ তীরটঙ্গী প্রতিনিধি, দিনকাল : ইসলাম ও মুসলমানদের হেফাজত এবং বিশ্বময় শান্তি কামনায় অনুষ্ঠিত আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে টঙ্গী তুরাগতীরে তবলিগ জামাতের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে। ইজতেমার দীর্ঘ ৫৩ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম বাংলা ভাষায় আখেরি মোনাজাত পরিচালিত হয়। সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে শুরু হয়ে ১১টা ১৫ মিনিটে শেষ হয় আখেরি মোনাজাত। দীর্ঘ প্রায় ৩৫ মিনিট স্থায়ী মোনাজাতে তবলিগের কাকরাইল মারকাজ মসজিদের ঈমাম ও খতিব হাফেজ মুহাম্মদ যোবায়ের মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিনের দরবারে কায়মনোবাক্যে দিনের গুনাহ ও রাতের গুনাহ তথা সকল গুনাহ মাফ চেয়ে ইমানী জিন্দেগী কামনা করেন। বাতিল ও জুলুমবাজের খতম কামনা করেন। হকের রাস্তা খুলে দেয়ার আকুতি জানান, দুনিয়া থেকে শিরক ও বিদআতের খতম কামনা করেন। দ্বীনের হিজরত ও মেহনতকে কবুল করার আকুতি জানান। বনিআদমের হেদায়েত, উম্মতে মুহাম্মদির জানমাল হেফাজত, সকল বেমারি থেকে আরোগ্য, সিরাতুল মুস্তাকিম ও ইবাদতে ইখলাস নসিব কামনা করেন। ইহ ও পারলৌকিক মুক্তি, দ্বীনের দাওয়াত ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়ার তৌফিক কামনা এবং তবলিগের মেহনত ও ইজতেমাকে কবুল করার আকুতি জানিয়ে আখেরি মোনাজাত শেষ করেন। এ সময় আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে তুরাগ তীর। এর আগে বাদফজর থেকে বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল মতিন। তার বয়ানের পরই আখেরি মোনাজাত শুরু হয়। এই মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হলো টঙ্গীর তুরাগতীরের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপ। ৪ দিন বিরতির পর দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে আগামী ১৯ জানুয়ারি। ২১ জানুয়ারি হবে আখেরি মোনাজাত। : তবলিগ জামাতের বাংলাদেশের শীর্ষ মুরব্বী হাফেজ মুহাম্মদ যোবায়ের সাহেবের মোনাজাত চলাকালে সুবিশাল ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। মোনাজাতে তিনি মহান রাব্বুল ইজ্জতের কাছে যখন কিছু কামনায় আকুতি জানান; তখনই সাথে সাথে ময়দান কেঁপে লাখো কণ্ঠে আওয়াজ উঠে ‘আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন, ছুম্মা আমিন’। পিনপতন নীরবতা ভঙ্গ করে মুসল্লিদের  সমস্বরে আমিন ধ্বনি ও কান্নার আওয়াজে ইজতেমা ময়দানে : নেমে আসে এক ভাবগম্ভীর ও আবেগঘন পরিবেশের। আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে গতকাল ইজতেমা ময়দান ও চারপাশে প্রায় দশ বর্গকিলোমিটার এলাকা এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে শনিবার সন্ধ্যা থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ইজতেমা অভিমুখে মুসল্লিরা আসতে শুরু করেন। ফলে টঙ্গী যেন সকল পথের মোহনায় পরিণত হয়। আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে গত শনিবার রাত ১২টা থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরা আবদুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর ভোগড়া চৌরাস্তা, টঙ্গী-আশুলিয়া রোডের ধৌর ও টঙ্গী-কালীগঞ্জ-নরসিংদী রোডের নিমতলী পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। : বহুল প্রত্যাশিত ও প্রতীক্ষিত এ আখেরি মোনাজাতে শরিক হয়েছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সমগ্র বিশ্বে দাওয়াতে তবলিগের ব্যাপক প্রসার এবং সকল মুসলমানের ইমানী শক্তি বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে পরিচালিত আখেরি মোনাজাতে আরো শরিক হয়েছেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা, পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের সদস্যবর্গ, দলমত নির্বিশেষে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ। : আবেগঘন আখেরি মোনাজাতে লাখো কন্ঠে উচ্চারিত হয়েছে  রাহমানুর রহীম আল্লাহর মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব। আমীর-ফকির, ধনী-গরিব, নেতাকর্মী নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশা-গোষ্ঠীর মানুষ পরওয়ারদেগার আল্লাহর দরবারে দু হাত তুলে নিজ নিজ কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। দক্ষিণে কুড়িল বিশ্বরোড, উত্তরে গাজীপুর চৌরাস্তা, পূর্বে পূবাইল মিরেরবাজার ও পশ্চিমে আশুলিয়া পর্যন্ত অন্তত ১০ বর্গকিলোমিটার এলাকা বিস্তৃত বিশাল জনসমুদ্র থেকে মধ্যাহ্নের আকাশ কাঁপিয়ে ধ্বনি উঠেÑ ‘ইয়া আল্লাহ, ইয়া আল্লাহ’। মুঠোফোন, রেডিও এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের সুবাধে দেশ-বিদেশেরও লাখ লাখ মানুষ এক সঙ্গে হাত তুলেছেন পরওয়ারদিগারের শাহী দরবারে। গুনাহগার, পাপী-তাপী বান্দা প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চেয়ে কান্নায় বুক ভাসিয়েছেন। স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের ৮৮টি দেশের প্রায় ৫ হাজার তবলিগ অনুসারী ইজতেমা ও আখেরি মোনাজাতে সরাসরি অংশ নিয়েছেন। আখেরি মোনাজাতকে ঘিরে গতকাল গোটা বাংলাদেশ যেন ভেঙে পড়েছিল টঙ্গীতে। রাজধানী ঢাকাও ছিল ফাঁকা। মোনাজাতে শরিক হওয়ার জন্য দিনটি সরকারের ঐচ্ছিক ছুটি ছিল। : মোনাজাতে যা বলা হয় : মোনাজাত পরিচালনা করেন রাজধানীর কাকরাইলভিত্তিক তবলিগের প্রধান মারকাজের শূরার অন্যতম সদস্য হাফেজ হজরত মাওলানা মুহাম্মদ যোবায়ের। মোনাজাতের শুরুতে প্রায় ১৪ মিনিট তিনি প্রথমে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত কিছু দোয়ার আয়াত উচ্চারণ করেন এবং পরে বাংলা ভাষায় মোনাজাত পরিচালনা করেন। মোনাজাতে তিনি বলেন, হে আল্লাহ আমাদের অন্তর থেকে কুফরি, মোনাফেকি দূর করে দাও। হে আল্লাহ, তোমার নির্দেশিত পথে চলার তৌফিক দাও। হে আল্লাহ, আমাদের সকল নেক হাজাত পূরণ করে দাও। হে রাহমানুর রাহীম আমাদের ওপর রহম করো। আমাদেরকে রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তি দাও। আমাদের ওপর দয়া করো যেভাবে তুমি তোমার নেক বান্দাদের ওপর রহম করেছ। হে আল্লাহ, আমাদের পরিপূর্ণ ইমান দাও। তোমার আজাব থেকে পরিত্রাণ দিয়ে জান্নাত নসিব করো। জাহান্নামের আগুন আমাদের জন্য হারাম করে দাও। : কায়মনোবক্যে আকুতি জানিয়ে মোনাজাতে আরো বলা হয়, হে আল্লাহ তুমি তো ক্ষমাশীল, তোমার কাছেইতো আমরা ক্ষমা চাইব। দ্বীনের ওপর আমাদের চলা সহজ করে দাও। হে আল্লাহ, তুমি আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়ে যাও। আমরা যেন তোমার সন্তুষ্টিমাফিক চলতে পারি সে তওফিক দাও। দুনিয়ার সকল বালা-মসিবত থেকে আমাদের হেফাজত করো। নবীওয়ালা জিন্দেগী আমাদের নসিব করো। ইজতেমাকে কবুল করো। ইজতেমার আয়োজনে যারা শ্রম দিয়েছে তাদের কবুল করো। যারা তোমার কাছে হাত তুলেছে সকলকে তুমি কবুল করো। ইজতেমার বক্তা ও শ্রোতা সকলকে তুমি কবুল করো। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি আকুতি জানিয়ে বলেন, হে আল্লাহ! দাওয়াতে তবলিগকে বিশ্বব্যাপী প্রসারিত করো। এ কাজকে আপনি হেফাজত করুন। পুরো দ্বীনকে দুনিয়াতে জিন্দা করে দিন। ইমানকে মজবুত করে দিন। ইমানের সঙ্গে মওত নসিব করুন। আপনার হাবীবের সুন্নতকে আমাদের জীবনে কায়েম করে দিন। তামাম জীবন যাতে আপনার হাবীবকে অনুসরণ-অনুকরণ করতে পারি সেই তাওফিক দিন। কামাই-রোজগারে বরকত দাও। নাফরমানি জীবন খতম করে দিন। সারা দুনিয়া থেকে নাফরমানি খতম করে দিন। আমাদের আখেরাতওয়ালা বানিয়ে দাও। আমাদের দুনিয়াওয়ালা করো না। আমাদের কিয়ামতের কঠিন আজাব থেকে রক্ষা করো, হাওজে কাওসার নসিব করো। আমাদের জবান আপনার জিকির দ্বারা জিন্দা করে দিন। আমাদের আমল-আখলাক সুন্দর করে দিন। মুসলমানদের জান-মাল-ইজ্জত-আব্রু হেফাজত করুন। দ্বীনের ভেতর মহব্বত পয়দা করে দিন। সকলকে এক করে দিন। দুনিয়ায় খেলাফত কায়েম করে দিন। লোক দেখানো কাজকে খতম করে দিন। আমাদের আপনার বানিয়ে দিন। ভুল-ক্রুটি ক্ষমা করে দিন। পুরো উম্মতে তালিমের মধ্যে লাগিয়ে দিন। জগতে হানাহানি-মারামারি খতম করে শান্তিময় জিন্দেগী কায়েম করে দিন। বাতিলের আওয়াজ ও চক্রান্ত খতম করে দিন। মূর্খতা দূর করে জাহিলিয়াতি খতম করে দিন। আমাদের ইলমে জিন্দেগী দান করুন। আমাদের কাছে দুনিয়াকে নিকৃষ্ট ও আখেরাতকে বড় বানিয়ে দিন। : ইজতেমায় ভিআইপিদের অংশগ্রহণ : বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপের আখেরি মোনাজাতে বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ, গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, গুলশান থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ইজতেমা ময়দানে মূল মঞ্চে বসে আখেরি মোনাজাতে শরিক হন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আকম মোজাম্মেল হক, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাগণ। : মুসল্লিদের বাঁধভাঙ্গা জোয়ার : গতকাল সমগ্র দেশবাসীর দৃষ্টি ছিল টঙ্গীর দিকে। টঙ্গী হয়ে উঠেছিল সকল পথের মোহনা। আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ টঙ্গী অভিমুখে ছুটতে থাকেন শনিবার থেকে। বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীরা ছাড়াও কেবলমাত্র আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে দূর-দূরান্ত থেকে মুসল্লিগণ বাস, ট্রাক, মিনিবাস, কার, মাইক্রোবাস, ট্রেন, লঞ্চ ও ট্রলারে করে টঙ্গীতে পৌঁছে অবস্থান নিতে শুরু করেন। রাজধানীসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার লোকজন ভিড় এড়াতে নানা ঝক্কিঝামেলা উপেক্ষা করে রাতেই টঙ্গীমুখী হন। টঙ্গী, গাজীপুর ও রাজধানী ঢাকার সরকারি-বেসরকারি অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সর্বত্রই ছিল পূর্ণ ছুটির আমেজ। শনিবার মধ্যরাত থেকে টঙ্গীমুখী সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ করে দেয়ায় দীর্ঘপথ হেটে টঙ্গী পৌঁছাতে হয়েছে লাখ লাখ মানুষকে। কয়েক লাখ মানুষ রাতেই ইজতেমার মাঠ কিংবা আশপাশের বাসাবাড়ি, ভবন, ভবনের ছাদ কিংবা করিডোরে এমনকি গাছতলায় অবস্থান নেয়। গতকাল ভোররাত থেকে যানবাহনশূন্য সড়ক-মহাসড়ক ও নদীপথে টুপি-পাঞ্জাবী পরা মানুষের বাঁধভাঙ্গা জোয়ার শুরু হয়। চারদিকে যতদূর চোখ যায় মানুষ আর মানুষ। সকাল ৮টার মধ্যে গোটা এলাকা জনতার মহাসমুদ্রে পরিণত হয়। কোথাও তিল ধরণের ঠাঁই ছিল না। এদিকে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে আগের তুলনায় মহিলাদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। পুরুষদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মহিলাকে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে টঙ্গী পৌঁছে মোনাজাতে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে। আখেরি মোনাজাত প্রচারের জন্য গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আবদুল্লাহপুর ও বিমানবন্দর রোড পর্যন্ত এবং গাজীপুর জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে ইজতেমা ময়দান থেকে চেরাগ আলী, টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন, স্টেশন রোড, টঙ্গী বাজার আনারকলি রোড ও আশপাশের অলিগলিতে পর্যাপ্ত মাইক সংযোগের ব্যবস্থা করা হয়। আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে টঙ্গী, উত্তরা ও আশপাশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ও সকল শিল্প-কারখানা বন্ধ ছিল। : পথে পথে মানুষের কাফেলা : গতকাল সকাল থেকেই টঙ্গীর আশপাশ এলাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে বাস, ট্রাক, ট্রেন, নৌকা-লঞ্চযোগে এবং পদব্রজে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে মানুষের কাফেলা ছিল টঙ্গীর পথে পথে। : রাস্তাঘাট বাড়িঘর সবই ছিল ইজতেমা ময়দান : আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে দেশের দূর-দূরান্ত ও প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে লাখ লাখ মানুষ এসে যোগ দেয়ায় ইজতেমা ময়দান ছাপিয়ে টঙ্গী, উত্তরা ও তুরাগ থানার প্রতিটি রাস্তাঘাট, বাড়ির আঙ্গিনা, ছাদ, খেলার মাঠ এমনকি গাছে চড়েও আল্লাহ ও রাসূলকে পাওয়ার আশায় আখেরি মোনাজাতে অংশ নেয়। : মোবাইল নেটওয়ার্ক : গতকাল ইজতেমা ময়দান ও টঙ্গী থেকে কোনো মোবাইলেই দেশের বিভিন্নস্থানে নেটওয়ার্ক যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। মাঝেমধ্যে লাইন পেলেও মুহূর্তেই কেটে যাচ্ছিল। মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো নেটওয়ার্ক সুবিধা দিতে ইজতেমা উপলক্ষে ইজতেমার আশপাশ এলাকায় অতিরিক্ত মোবাইল টাওয়ার সংযোগ করেও এ সমস্যার পুরো সমাধান দিতে পারেনি। : পানি : গতকাল আখেরি জামাতের পূর্বে ওজু ও গোসলের পানির পসরা সাজিয়ে বসে অনেকে। ওজুর ১ বদনা পানি পাঁচ থেকে ১০ টাকা করে বিক্রি করেছে। শৌচকাজ সারার জন্য নিয়েছে দশ টাকা করে। এ পানির জন্যও মুসল্লিদের লাইন ধরতে দেখা গেছে। : পত্রিকার পাতা : গতকাল ভোর থেকে মোনাজাতের আগে টোকাই কিশোর হকারেরা পুরনো পত্রিকার ৪ পৃষ্ঠার পাতা ৪ টাকা ও পলিথিন কাগজ ১০ টাকা করে বিক্রি করতে দেখা গেছে। প্যান্ডেলের বাইরের মুসল্লিদের এসব পত্রিকার পাতা ও পলিথিন মাটি এবং রাস্তায় বিছিয়ে মোনাজাতে অংশ নিতে দেখা গেছে। : শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা : গতকাল আখেরি মোনাজাত শেষে অনেক মুসল্লিকে অস্থায়ী মার্কেটগুলোতে প্রবেশ করে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে শীতের কম্বল ও গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে মুসল্লিদের হুমড়ি খেয়ে পড়ে কেনাকাটা করতে দেখা গেছে। : নিরাপত্তা জোরদার : র‌্যাব-পুলিশের কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে গত শুক্রবার টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে শুরু হয় তবলিগ জামাতের তিনদিনব্যাপী ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপ। এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপে ঢাকার একাংশসহ দেশের ১৪ জেলার মুসল্লিরা অংশ নিয়েছেন। এসব জেলার মুসল্লিরা আগামী বছরের বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে পারবেন না। : মোনাজাতের আগে ইজতেমা ময়দানে চটের সামিয়ানার নিচে বয়ান শোনেন হাজারো মানুষ। ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ঘন কুয়াশা কনকনে ঠান্ডার মধ্যেই অলিগলি ও রাস্তায় পাটি, খবরের কাগজ, পলিথিন বিছিয়ে তাতেই অবস্থান নেন অনেকে। : ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে বহু নারীও মোনাজাতে অংশ নিতে এসেছিলেন। ময়দানে ঢোকার অনুমতি না থাকায় তারা আশপাশের বিভিন্ন কারখানা ও আবাসিক ভবনের ছাদে, টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে মোনাজাতে অংশ নেন। আখেরি মোনাজাতের জন্য এদিন ইজতেমা ময়দানের আশেপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কল-কারখানাসহ বিভিন্ন অফিসে ছিল ছুটি। মোনাজাত শেষে টঙ্গী থেকে সবার বাড়ি ফেরার সুবিধার্থে ১৯টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। গাজীপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ হারুন-আর রশিদ জানান, আখেরি মোনাজাতের পর মানুষের বাড়ি ফেরা পর্যন্ত ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় সাত হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে। : বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপে বিদেশিসহ ৪ মুসল্লির মৃত্যু : টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. পারভেজ হোসেন জানান, গত তিনদিনে বিদেশিসহ ৪ জন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তারা হচ্ছেনÑ কাজী আজিজুল হক (৬৫), মালয়েশিয়ার নূরহামদিন আব্দুর রহমান (৫৫), মামুন (৩৩) ও রফিকুল ইসলাম (৫০)। গত তিনদিনে ১১ হাজার ৫০২ জন মুসল্লি টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিটে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। : বিশ্ব ইজতেমায় বিদেশি মুসল্লির অংশগ্রহণ : ইজতেমার মুরব্বী ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন জানান, বিশ্ব ইজতেমার প্রথম ধাপে ৮৮ দেশের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। : বিশ্ব ইজতেমা আগামী বছর শুরু হবে ১১ জানুয়ারি : বিশ্ব ইজতেমার মুরব্বী ইঞ্জিনিয়ার মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, আগামী বছর বিশ্ব ইজতেমা ১১ জানুয়ারি/২০১৯ থেকে অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার রাতে কাকরাইল মসজিদে তবলিগ মুরব্বীদের এক পরামর্শ সভায় ওই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বীদের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী বছর বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব ১১, ১২ ও ১৩ জানুয়ারি এবং চারদিন বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় পর্ব ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। : : :  





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। আপনিও কি তাই মনে করেন
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33889 জন