জলঢাকায় ইউএনডিপির ত্রাণ বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
বিত্তবানদের মাঝে বণ্টন!
Published : Friday, 26 January, 2018 at 12:00 AM
জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি : উত্তরের অবহেলিত জেলা নীলফামারীর জলঢাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে দাতা সংস্থা ইউএনডিপির ত্রাণসামগ্রী বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হতদরিদ্র পরিবারগুলোর মধ্যে এ ত্রাণসামগ্রী বিতরণের নিয়ম থাকলেও বাস্তবে ঘটেছে তার ব্যতিক্রম। গত ১৫ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চার দিনব্যাপী উপজেলা পরিষদ চত্বরে ‘চায়না এইড’ ও ‘ইউএনডিপি’র আর্থিক সহযোগিতায় এসকেএস ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ২ বান্ডিল টিনসহ ৮ প্রকার ত্রাণসামগ্রী ৬৫০ পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে অধিকাংশই বিত্তবান, পাকা বাড়ির মালিকসহ চেয়ারম্যানদের কাছে আত্মীয় পেয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা সরেজমিন তদন্ত করার কথা থাকলেও তা না করে স্কুলের ছোট ছোট শিক্ষার্থী স্কাউট সদস্যদের দিয়ে শতকরা ১০ থেকে ১৫ ভাগ পরিবারের তদন্ত করেছে বলে জানান ওই সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। গত শনি ও মঙ্গলবার ডাউয়াবাড়ী, শৌলমারী ও ধর্মপাল ইউনিয়নে সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ অনেক পরিবারই এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নেকবক্ত পূর্বপাড়া গ্রামের বন্যায় বানভাসী প্রায় শতবর্ষী বৃদ্ধ ছোলেমান আলী কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘বাবারে বানোত ভাসি হামা, দানের টিন পায় ওমা, মুই সুন্নু হামার এটে পাকা বাড়ি এলা ছাদের ও তার কয়ও ভাইয়ে টিন পাইছে, হামাক ফির না দেয় ক্যানে।’ বৃদ্ধার কথা শুনে ওই এলাকার মৃত মফিছ উদ্দিনের ছেলে ছাদের হোসেনের বাড়ি  গেলে বৃদ্ধার কথার সত্যতা পাওয়া যায়। ৪ নম্বর ওয়ার্ডেই নয়, এমন ঘটনা ওই ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন সুবিধাবঞ্চিত বানভাসীরা। শুধু ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নে নয় এমন অভিযোগ বিতরণকৃত প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে পাওয়া গেছে। ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদুল ইসলাম বলেন, তিন থেকে চার হাজার করে টাকা নিয়ে চেয়ারম্যান বিত্তবান ও পাকা বাড়ির মালিকদের নাম তালিকা করে এ ত্রাণের মাল বিতরণ করেছেন। এদিকে অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে ডাউয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রোকনুজ্জামান খোকনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি যোগ্য লোককেই দেয়া হয়েছে বলে ফোন কেটে দেন। অনিয়মের বিষয়ে বাস্তবায়নকারী সংস্থা এসকেএস ফাউন্ডেশনের সিডিও আমিনুর রহমান বলেন, ‘আমরা চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে তালিকা নিয়ে শতকরা ১৫ ভাগ তালিকা স্কাউট সদস্যদের দিয়ে যাছাই-বাছাই করে বিতরণ করেছি।’ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবে বিতরণের জন্য এসকেএস ফাউন্ডেশন উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়েছে, তবে আমরা এ বিষয়ে জড়িত না।’ : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শাসকগোষ্ঠী একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বেপরোয়া হিংস্র আচরণ করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
34358 জন