ভূঞাপুরে ১৫০ জন শিক্ষকের ভাগ্য অনিশ্চিত!
সেকায়েপ প্রকল্প : শিক্ষার্থীদের জীবনে অচলাবস্থা, সার্বিক কার্যক্রম ব্যাহত
Published : Friday, 26 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 25.01.2018 8:49:28 PM
কামাল আহমেদ, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) থেকে : টাঙ্গাইলের দুর্গম চরাঞ্চল বেষ্টিত একটি উপজেলা ভূঞাপুর। এ উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজি ভীতি দূর করতে মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থী ঝরে পরা রোধে মাধ্যমিক স্তরে ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে তিন দফায় ৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেকায়েপ প্রকল্পের আওতায় ১৫০ অতিরিক্ত শ্রেণী শিক্ষক (এসিটি) নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বরে এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। মৌখিকভাবে এসব শিক্ষকের বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা বলা হলেও সরকারিভাবে কাগজ-কলমে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে অনিশ্চয়তার মধ্যে শিক্ষকরা তাদের ক্লাস কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অধিকাংশ শিক্ষকের সরকারি চাকরির বয়সসীমা পাড় হয়ে যাওয়ায় তারা চরম হতাশায় ভুগছেন। জানা যায়, উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের ৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজি ভীতি দূর করতে মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থী ঝরে পরা রোধে মাধ্যমিক স্তরে ২০১৫ সালের মার্চ মাস থেকে তিন দফায় ৪৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৫০ জন অতিরিক্ত শ্রেণী শিক্ষক (এসিটি) নিয়োগ দেয়া হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে এর মেয়াদ শেষ হওয়ায় এসব শিক্ষক চরম হতাশায় ভুগছেন। মৌখিকভাবে এসব শিক্ষককে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা বলা হলেও সরকারিভাবে কাগজ-কলমে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। অধিকাংশ শিক্ষকের সরকারি চাকরির বয়সসীমা পাড় হয়ে যাওয়ায় যেমন শিক্ষকদের মাঝে প্রভাব পড়ছে, তেমনি বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের মাঝেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ের মানসম্মত এসব শিক্ষক চলে গেলে শিক্ষার্থীদের পাঠ কার্যক্রম অনেকটা ব্যাহত হবে। : ধুবলিয়া মোবারক মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী কামরুন্নাহার কনিকা, রহিমা, লাবণী, মেরাজ, শাকিলসহ আরো অনেকেই জানায়, এসিটি শিক্ষকরা প্রতি মাসে ১৬-২০টি অতিরিক্ত ক্লাস নেন, যা আমাদের প্রাইভেট ও কোচিং থেকে দূরে রাখছে। এসব অতিরিক্ত ক্লাসে গরিব ও দুর্বল শিক্ষার্থীরা ব্যাপক উপকৃত হচ্ছে। শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব শিক্ষকের খুবই প্রয়োজন। এসিটি শিক্ষকদের বিষয়ে কুলসুম জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছানোয়ার হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ে এমনিতেই শিক্ষক সংকট। এর মধ্যে যদি এসিটি শিক্ষকদের চাকরি না থাকে তাহলে বিদ্যালয়ের পাঠদান হুমকির মুখে পড়বে। ধুবলিয়া মোবারক মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে এসিটি শিক্ষকদের অবদান ব্যাপক। বিশেষ করে বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে যে ভীতি কাজ করে তা অনেকাংশে দূর হবে। গত তিন বছরে এর ব্যাপক সুফল পাওয়া গেছে। এ জন্য এসব চাকরি স্থায়ী করা উচিত। নদী তীরবর্তী আরেকটি বিদ্যালয় মমতাজ ফকির উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবলু মিঞা বলেন, এ এলাকাটি নদী ভাঙনকবলিত হওয়ায় দরিদ্র শ্রেণীর লোকজন বেশি এবং প্রচুর শিক্ষর্থী ঝরে পরে। শিক্ষার্থীদের মাঝে  মানসম্মত শিক্ষার আগ্রহ কম ছিল। কিন্তু এসিটি শিক্ষকদের বদৌলতে শিক্ষার্থীদের গুণগত মানসম্মত শিক্ষার আগ্রহ যেমন বেড়েছে তেমনি কমেছে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার সংখ্যা। এ ধারা বজায় রাখতে এসিটি শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ীকরণের কোনো বিকল্প নেই।  তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিমুজ্জামান তালুকদার সেলু বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে এমনিতেই বিষয়ভিত্তিক  শিক্ষকের অভাব রয়েছে। তার মধ্যে যদি এসব মেধাবী ও অভিজ্ঞ এসিটি শিক্ষকের চাকরি না থাকে তাহলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গুণগত মানসম্পন্ন পাঠদান ব্যাহত হবে। ধুবলিয়া মোবারক মাহমুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের এসিটি শিক্ষক রুহুল আমীন বলেন, আমি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়ো টেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রি সম্পন্ন করে সেকায়েপ প্রকল্পের আওতায় এসিটি শিক্ষক (বিজ্ঞান) বিষয়ে কর্মরত। মানসম্মত শিক্ষাদানে আমরা বদ্ধ পরিকর। গত বছরের ডিসেম্বরে এর মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমরা চরম অনিশ্চয়তায় দিনানিপাত করছি। আমরা বিদ্যালয়ে পূর্বের মতোই ক্লাস কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এসিটির ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর উম্মে হাবিবা খানম বলেন, এসিটি শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেলেই তাদের জানিয়ে দেয়া হবে। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শাসকগোষ্ঠী একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বেপরোয়া হিংস্র আচরণ করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
34343 জন