খালেদা জিয়ার মামলার রায় পূর্বনির্ধারিত
বিচার হবে প্রধানমন্ত্রী যা চাইবেন তাই : ফখরুল
Published : Friday, 26 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 25.01.2018 10:39:51 PM
বিচার হবে প্রধানমন্ত্রী যা চাইবেন তাই : ফখরুলদিনকাল রিপোর্ট : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার বিষয়টি সরকার আগেই ঠিক করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় পূর্ব নির্ধারিত। এই অবৈধ সরকার আগেই রায় লিখে রেখেছে। বিচার হবে প্রধানমন্ত্রী যা চাইবেন, তাই হবে। এই সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে ভয় করে বলেই তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়। আমরা সরকারের এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, বিগত কয়েকদিনে সরকারের মন্ত্রী, জাতীয় পার্টির সদস্য এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এই অবৈধ সরকারের বিশেষ দূত হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হবে। তাহলে দেশনেত্রীর মামলার রায় পূর্বেই নির্ধারিত। এই অবৈধ সরকার পূর্বেই রায় লিখে রেখেছে। তবে এই বিচারের প্রহসনের কোনও প্রয়োজন ছিল না। দেশে যে আইনের শাসন নেই-ন্যায় বিচার সুদূর পরাহত সেটাই প্রমাণিত হলো। বিচার হবে প্রধানমন্ত্রী যা চাইবেন তাই। এখন পর্যন্ত এই বক্তব্যের জন্য যা আদালত অবমাননার সামিল তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। : তিনি বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ যাবত সারাদেশে নতুন করে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ব্যাপকহারে গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্যাতন শুরু করেছে। একই সাথে ক্রসফায়ার এবং গুমের ঘটনা বেড়ে চলেছে। এই বছর নির্বাচনের বছর। সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনের জন্য যখন সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ, সমান্তরাল মাঠ তৈরি করার প্রয়োজন বেড়ে চলেছে, তখন এই ধরনের ক্রসফায়ার, গুম, খুন, গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা, দমন, নির্যাতন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের সকল সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে। এই অনৈতিক সরকার পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতার, ক্রসফায়ার ও গুমের মধ্য দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। ভোটারবিহীন নির্বাচনে স্বঘোষিত সরকার আবারও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যে নির্বাচনের পূর্বেই বিরোধী দলকে মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার হীন চক্রান্ত করছে। : বেগম খালেদা জিয়ার মামলা সামরিক শাসনের অধীনে সামরিক আদালতে বিচারকার্য চলছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধান ও তিনবার নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দুইবারের বিরোধী দলের নেতাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্য ২৪টি মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তার মধ্যে দুটো মিথ্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে- সপ্তাহে তিন দিন দেশনেত্রীকে আদালতে হাজির হওয়ার নজিরবিহীন নির্যাতন, তারিখে তারিখে জামিন দেয়ার নজিরবিহীন আদেশ সমগ্র বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এটা স্পষ্ট হচ্ছে এখন যে, নজিরবিহীন দ্রুততার সাথে মামলা শেষ করার প্রচেষ্টা প্রমাণ করে যে, এই সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে ভয় করে বলেই তাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়। আমরা সরকারের এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। যেভাবে পুলিশ-র‌্যাব দিয়ে আদালত ও আদালত সংলগ্ন এলাকা ঘিরে রাখে তাতে মনে হয় কোনো সামরিক শাসনের অধীনে সামরিক আদালতে এই বিচারকার্য চলছে। একজন সর্বাধিক জনপ্রিয় নেতা যিনি বার বার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন, তিন বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, দুই বার বিরোধী দলের নেতা যিনি দীর্ঘ ৯ বছর স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছেন, যিনি গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ ১২ মাস কারাবরণ করেছেন, তার সঙ্গে এই ধরনের অবমাননাকর, অমানবিক আচরণ শুধুমাত্র সামরিক শাসন এবং ফ্যাসিবাদের কথা মনে করিয়ে দেয়। : বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে বলপূর্বক দেশ থেকে বহিষ্কার ও পদত্যাগে বাধ্য করার মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা শেষবারের মতো নিঃশেষ হয়েছে। নিম্ন আদালতের বিচারকদের আচরণবিধি সরকারের ইচ্ছা মতোই হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে। আমরা যারা স্বাধীনতা সংগ্রামে এবং যুদ্ধের সঙ্গে জড়িত ছিলাম তাদের ভাবতে কষ্ট হয় যে, বাংলাদেশ আজকে এই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। যে যুদ্ধ ছিল অধিকার আদায়ের যুদ্ধ-যে স্বাধীনতা ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতার সেই যুদ্ধকে অপমানিত করে সেই চেতনাকে ধূলিসাৎ করে আজ একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ভিন্ন মতের মানুষ আজ সর্বত্রই নিগৃহীত, নির্যাতিত। মনে হয় যেন নিজ দেশে পরবাসী। যে নেত্রী স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে কারাবন্দি ছিলেন, যার স্বামী মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন, দীর্ঘ ৯ বছর যিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য স্বৈরাচারের সকল নির্যাতন সহ্য করেছেন-তাকেই আজকে এই অবৈধ সরকারের হাতে নিজ বাসভূমি থেকে উচ্ছেদ হতে হয়েছে। নির্বাসনে ছোট ছেলে সবাইকে ছেড়ে চলে গেছে- যার বড় ছেলে ভয়াবহ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন- যিনি গণতন্ত্র পুনরায় ফিরিয়ে আনার জন্য জনগণের ভোটের অধিকারের জন্য এখনও নিরন্তর লড়াই করে চলেছেন, তাকে এই ফ্যাসিস্ট সরকার মিথ্যা মামলায় রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। : সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, অবিলম্বে সকল মামলা প্রত্যাহার করুন, ক্রসফায়ার হত্যা, গুম, খুন বন্ধ করুন, গ্রেফতার বন্ধ করুন। এই অবৈধ সরকার মিথ্যা মামলা দায়ের, গ্রেফতার, গুম, খুনকে ক্ষমতায় টিকে থাকার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে দেশনেত্রীর মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে সকল বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি। : সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুল হাই, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ-দফতর সম্পাদক তাইপুল ইসলাম টিপু, মো. মুনির হোসেন প্রমুখ। :                                                                :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শাসকগোষ্ঠী একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বেপরোয়া হিংস্র আচরণ করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
34356 জন