খালেদা জিয়ার মামলার রায় ৮ ফেব্রুয়ারি
Published : Friday, 26 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 25.01.2018 10:39:37 PM
খালেদা জিয়ার মামলার রায় ৮ ফেব্রুয়ারিরফিক মৃধা, দিনকাল : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ ৬ জনের মামলার রায় আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত। এদিকে  জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্ক আগামী ৩০, ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেন একই আদালত। : মামলায় উভয় পরে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হলে গতকাল বৃহস্পতিবার এ দিন ধার্য করেন বকশীবাজার আলিয়া মাদরাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামান। বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে  তিনি এ রায়ের দিন ঠিক করেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে বেগম খালেদা জিয়া আদালতে হাজির হন। আর বেলা ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে আদালত চত্বর ত্যাগ করেন। আদালত সূত্র জানায়, দুদক ও আসামি পে ১৬ কার্যদিবস ধরে যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। আর ২৩৬ কার্যদিবস শুনানির পর এ মামলা রায়ের পর্যায়ে এলো। : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় যুক্তিতর্কের সময়ে আইনজীবীরা যা বলেন : যুক্তিতর্কে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুর রেজ্জাক খান বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার অভিযোগ গঠন আইন মেনে করা হয়নি। যেহেতু বেগম খালেদা জিয়া সাবেক একজন  প্রধানমন্ত্রী, তাই সকল আসামির সঙ্গে একত্রে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার সুযোগ নেই। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ১৩তম সাীর স্যা খন্ডানোর যুক্তি তুলে ধরে বেগম খালেদা জিয়ার এ আইনজীবী বলেন, সোনালী ব্যাংক কর্তৃপ অর্থ লেনদেনের অনিয়ম হয়েছে বলে কোনো তথ্য দেয়নি। এ সময় তিনি সোনালী ব্যাংকের কোনো ডকুমেন্ট আদালতে প্রদর্শিত হয়নি জানিয়ে কোনো সাী মূল ডকুমেন্টগুলো দেখেছেন এমন কোনো স্যা দেননি মর্মে আদালতকে অবহিত করেন। : তিনি আদালতে আরো বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এ মামলায় প্রধান বিবাদী করা হয়েছে। অথচ কোনো সাী তাদের সা্েয বলেননি এ ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। এ ছাড়া জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্তকালে এই টাকার উৎস সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য উদঘাটন করতে পারেননি। এ ছাড়া পরিষ্কারভাবে তদন্তও করেননি। তদন্ত কর্মকর্তা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার টাকা কোথা থেকে এসেছে তা খুঁজে বের করতে ব্যর্থ হয়েছেন। : যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আদালতে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মতা অপব্যবহার করে এ অর্থ আসার কোনো প্রমাণ নেই। মামলার কোনো সাীও এমন কিছু বলেনি। এই মামলার দায়ের করা অভিযোগের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়া জড়িত ছিলেন না। মামলার এজাহারে তার বিরুদ্ধে কোনো বক্তব্য নেই। কোনো সাীও তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি। তাই তিনি সম্পূর্ণ খালাস পাওয়ার হকদার। : যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, এ মামলা ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ হবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে যুগে যুগে মানুষ বিচারককে মনে রাখবে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে ইতিহাসের পাতায় মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে। জনগণই এর বিচার করবে। সরাসরি কোনো নথিপত্র ছাড়াই বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। স্বারবিহীন ঘষামাজা ছায়ানথি দিয়ে কাউকে সাজা দেয়া যায় না। যদি বিন্দুমাত্র সন্দেহ থাকে, তাহলে আসামিপ এর সুবিধা পেয়ে থাকে। যদি ছায়ানথি দিয়ে সাজা দেয়া হয়, তাহলে সমস্ত দন্ডবিধি, আইন পরিবর্তন হয়ে যাবে। : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী  মওদুদ আহমদ বলেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন বাধাগ্রস্ত করতে মামলাগুলো দেয়া হয়েছে। এ মামলাটি ভিত্তিহীন, হাওয়ার ওপর এই মামলা হয়েছে। আমরা আশা করি, এই মামলার সব আসামি খালাস পাবেন। আদালতে যুক্তিতর্কের সময় আইনজীবীরা বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের বিধিমালা মোতাবেক এই মামলা দায়ের করা হয়নি। এই মামলার আইনি কোনো ভিত্তি নেই। বেগম খালেদা জিয়া এই মমলায় ফুল খালাস পাওয়ার হকদার। তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্যা-প্রমাণে তিনি নির্দোষ। মামলার কার্যক্রমকে ক্যামেরা ট্রায়ালের সঙ্গে তুলনা করে আইনজীবীরা বলেন, এটা কোনো ফ্রি ট্রায়াল মামলার মতো নয়। এখানে আইনজীবীদের জন্য কোনো বসার ব্যবস্থা নেই, এখানে নির্যাতনমূলক বিচার হচ্ছে বলে আমি মনে করি। : অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কোনো দুর্নীতি হয়নি। বেগম খালেদা জিয়ার কোনো স্বাক্ষর নেই। কোনো টাকা-পয়সা তিনি উত্তোলন করেননি। তাই তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৭ সাক্ষীর শাস্তির দাবি করেন তিনি। : এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাকে ‘কল্পিত মামলা’ বলে আখ্যায়িত করে আইনজীবীদের দাবি উদোর পিি  বুধোর ঘাড়ে চাপানো হয়েছে। মামলার আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। আসামিরা কোনো অপরাধ করেননি। গোপাল ভাঁড়ের গল্পের মতো নিরীহ মোটা লোক ধরে এ মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। : সরকার পক্ষের বক্তব্যে প্রমাণিত হয় রায় পূর্বনির্ধারিত : এদিকে ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়ায় জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেছিলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে যেতে হবে। তার এ বক্তব্য নিয়ে দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় ওঠে। এছাড়া এই মামলার রায় প্রসঙ্গে ২১ জানুয়ারি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে হবে। বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হলে একদিনের জন্য হলেও তাকে জেলে যেতে হবে। : গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুর রাজ্জাক খান, অ্যাডভোকেট  জয়নাল আবেদিন, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, অ্যাডভোকেট সানাউলাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সজল, অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম খান, অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান তপন প্রমুখ। : অপরদিকে আদালতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান,  বিশেষ সহকারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন। : পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে প্রতিদিনের মতো আদালতের আশপাশে নেতাকর্মীদের ঢল : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরা উপলক্ষে আদালতে যাওয়া ও আসার পথে মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, চানখাঁরপুল ও আদালত প্রাঙ্গণের আশপাশের সড়কে বেগম খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িকে ঘিরে ব্যাপক শোডাউন তৈরি করে ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। গতকাল সকাল ১০টা থেকেই এ সব স্থানে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। গতকাল তিনটার দিকে পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলীয়া মাদরাসার মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালত থেকে বের হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আদালত থেকে বের হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মোড়ে আসলে অপেমাণ দলটির নেতাকর্মীরা তার গাড়িবহরে যুক্ত হন। গাড়িবহর হাইকোর্ট মাজারের সামনে এলে ভেতরে অপেমাণ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী গাড়িবহরে যোগ দেন। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। “খালেদা জিয়া ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই”, “খালেদা জিয়া এগিয়ে চল, আমরা আছি তোমার সাথে”, “জেল জুলুম হুলিয়া, নিতে হবে তুলিয়া” এ ধরনের স্লোগান অসংখ্য নেতাকর্মীর কণ্ঠে শোনা যায়। গাড়ি বহরে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহিরুল হক শাহাজাদা মিয়া, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আ ক ম মোজ্জামেল হক, সোহরাব হোসেন, আমিনুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের সিনিয়র সহ-সভাপতি বজলুল বাসিত আঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম মিল্টন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল রিয়াদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল, যুবদল দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, ইকতিয়ার কবির, মামুন বিল্লাহ, যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান সোহাগ, ওমর ফারুক মুন্না, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়া, দফতর সম্পাদক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারি, সহসাধারণ সম্পাদিকা আরিফা সুলতানা রুমা, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজ, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক তানভীর আহমেদ খান ইকরাম প্রমুখ শোডাউনে অংশ নেন। : এ মামলায় বিবাদী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যরা হলেনÑবিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুদক রমনা থানায় বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট এই মামলায় বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, মাগুরার বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়া হয়।  ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক বাসুদেব রায়। : :  





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শাসকগোষ্ঠী একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বেপরোয়া হিংস্র আচরণ করছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
34352 জন