জীবন নিয়ে দেশে ফেরার আকুতি
সৌদিতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ সাবিনা
Published : Saturday, 27 January, 2018 at 12:00 AM
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : আমাকে বাঁচান। আমার জীবন চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। আপনি আমাকে সহযোগিতা করেন ভাইয়া। এখন আমাকে বলছে ১ লাখ টাকা লাগবে। আমি এখানে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। খেতে দিচ্ছে না এমনকি পানি পর্যন্ত দিচ্ছে না। আমার নাম সাবিনা। আমার বাবার নাম রফিক। আমার বাসা কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া পুলিশ ক্লাবের পেছনে বলে ভাইয়া আপনি একটু ফোন দেবেন আমাকে? বলতে বলতে ফোনটি কেটে গেল। কিছুক্ষণ পরে ওই নাম্বারে ফোন করা হলে তিনি বলেন, ভাই আমি অনেক কষ্ট করে আপনার এই নাম্বারটি পেয়েছি। আপনি একজন সাংবাদিক। আপনার অনেকের সঙ্গে জানাশোনা আছে। আমাকে এখান থেকে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন। না হলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকবে না। মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বেতন এই বলে আমাকে সৌদির সাহারা কোম্পানিতে চাকরি দেয়ার কথা বলে সৌদিতে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দিয়েছে। কিন্তু কোম্পানিতে কাজ না দিয়ে তারা আমাকে বাসাবাড়ির কাজে লাগিয়ে দেয়। প্রায়ই চুরির অপবাদ দিয়ে আমাকে অনেক মারপিট করে। পরে জানতে পারি আমাকে ৩ মাসের জন্য ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে। কান্না জড়িত কন্ঠে নিজের দুঃখের কথা স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল পারভেজের কাছে এভাবেই বর্ণনা করছিলেন গৃহবধূ সাবিনা। স্বামী কুদ্দুস সামান্য বাসের হেলপার। নুন আনতে পান্তা ফুরায়। অসহায় দরিদ্র পরিবারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে গত ৫ জানুয়ারি সৌদি আরবে পাড়ি জমান সাবিনা। সংসারে অসুস্থ বাবা ও একটি ছোট্ট ৫-৬ বছরের ছেলে সন্তান রেখে দালালের মাধ্যমে সৌদি যান এই নারী। চোখে তার রঙিন স্বপ্ন। বাবাকে ভালো কোনো ডাক্তার দেখিয়ে সুস্থ করবেন, আর ছেলেকে ভালো কোনো স্কুলে পড়ালেখা করিয়ে মানুষের মতো মানুষ করবেন! স্বপ্ন তার স্বপ্নই রয়ে গেল। বেঁচে ফেরাটাই এখন তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরেজমিনে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার জন্য থানাপাড়ায় সাবিনার বাড়িতে গেলে সাবিনার মা জানান, আমার মেয়ে পরিবারের একটু সচ্ছলতা ফেরাতে কুঠিপাড়া বড় ড্রেন এলাকার রাইজুলের স্ত্রী হালিমার সঙ্গে যোগাযোগ করে সৌদি যান কোনো টাকা খরচ ছাড়াই। হঠাৎ গত কয়েক দিন আগে ফোন দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। ফোনে সে আমাদের বলে, আমার কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে দালালরা। না পেলে আমাকে মেরে ফেলবে। আর তা না হলে অত্যাচারের কারণে আমাকে আত্মহত্যা করতে হবে। আমার মেয়েকে বাঁচানোর জন্য আমি বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি করেছি। কিন্তু কেউ-ই এ ব্যাপারে আমাদের কোনো সহযোগিতা করতে পারছে না। আমরা গরিব মানুষ। এক লাখ টাকা কোথায় পাব? এ ব্যাপারে দালাল হালিমা জানায়, আমি ৫ হাজার টাকা কমিশনে এভাবে মানুষ পাঠাই, পরবর্তীতে কি হয় এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। আমি যার কাছে পাঠাই তার নাম মোস্তাফা। তার অফিস ঢাকাতে। এর বেশি কিছু জানি না। আমি কাউকে পাঠালে সে আমাকে ৫ হাজার টাকার বেশি দেয় না। সাবিনার বিষয়ে জানতে চাইলে হালিমা জানায়, গত ৫ জানুয়ারি আমি তাকে পাঠাই। এরপর সেখানে কি হয়েছে আমি তার কিছুই জানি না। কিন্তু পরে পরিবারের লোক এই ব্যাপারে জানালে আমি দালালের সঙ্গে ফোনে কথা বলি। সে আমাকে বলে, তাকে ফেরত চাইলে ১ লাখ টাকা লাগবে। হালিমার মাধ্যমে মোবাইলে কথা হয় দালাল মোস্তফার সঙ্গে। মোস্তফার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সে জানায়, আমার এজেন্সির নাম বাংলাদেশ এক্সপোর্ট করপোরেশন, রেজি. নং-৮০৩। আমি এখানে এজেন্ট হিসেবে কাজ করি। আমার সঙ্গে এম্যালি নামে কুষ্টিয়ার এক মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ হতো। সে আমাদের বিভিন্ন সময় কাজের মেয়ে সাল্পাই দিয়ে থাকে। আমাদের এজেন্সির চেয়ারম্যানের নাম হাসান। সৌদি আরব যেতে যাত্রীর যে খরচ হয়েছে তা পরিশোধ করে দিলেই সাবিনা দেশে ফিরে আসতে পারবে। আরো অনেক মেয়েকেই আমরা এভাবে সৌদিতে পাঠিয়ে থাকি। এ ব্যাপারে ওই এজেন্সি চেয়ারম্যান বলে দাবিদার হাসানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সে জানায়, বিদেশে গিয়ে যখন ভালো না লাগে তখন বাড়ি আসার জন্য এ ধরনের অজুহাত দেখায়। নির্যাতনের বিষয়টি মিথ্যা বলে সে দাবি করে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ ছাড়া তার পক্ষে কোনো কিছু করা সম্ভব নয় বলেও সে জানায়। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ এখন আওয়ামী লীগ। ভাগাভাগি নিয়েই প্রতিপক্ষ হচ্ছে বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
34183 জন