রোহিঙ্গা শিবিরে নানা জল্পনা
রাখাইনে তাদের নিরাপত্তাসহ জাতিসংঘের অধীনে সেনা মোতায়েনের দাবি
Published : Saturday, 27 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 26.01.2018 11:20:56 PM
দিনকাল ডেস্ক : রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে ঘিরে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে জনমত গঠনের চেষ্টা চলছে। মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার ক্ষেত্রে ৬ থেকে ৮টি শর্ত পূরণের দাবিতে গত দুই মাসে ত্রাণ শিবিরে একাধিক বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে। রোহিঙ্গারা ফেরত যাওয়ার আগে যে বিষয়গুলো নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে রোহিঙ্গা পরিচয়ে নাগরিকত্ব প্রদান, নিজস্ব জমি বসতভিটা ফেরত পাওয়া, মিয়ানমারে অন্যান্য গোষ্ঠীর মতো সমান মর্যাদা নিশ্চিত করা। এছাড়া ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং হত্যা ধর্ষণের বিচারও চাইছেন তারা। : রোহিঙ্গারা দাবি তুলেছেন আগের ঘটনায় যেন তাদের না ফাঁসানো হয় এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধি নিযুক্ত করা। এছাড়া রোহিঙ্গারা এখন নিরাপত্তার জন্য রাখাইনে জাতিসংঘের অধীনে সেনা মোতায়েনেরও দাবি তুলছেন। রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরের জোবেদা খাতুন বলছিলেন, অনেক কষ্ট করে আমরা এসেছি। এখন আর যেতে চাই না। রোহিঙ্গা কার্ড দিতে হবে। নিরাপত্তা দিতে হবে। জাতিসংঘের আর্মি দিতে হবে। বিচার করতে হবে। কুতুপালং লাম্বাসিয়ার রকিমা এবং সুরত আলমেরও স্পষ্ট বক্তব্য এখন তারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে প্রস্তুত নন। ১৯ জানুয়ারি কুতুপালংয়ে লিখিত ৬ দফা দাবিতে যারা মানববন্ধন করেছিলেন তাদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় পঞ্চাশোর্ধ্ব আব্দুল্লাহ। মানববন্ধনে ব্যবহৃত ব্যানারটিও তার জিম্মায় রাখা হয়েছে। নতুন আসা রোহিঙ্গাদের একজন তাকে এটি দিয়েছে জানালেও এর পেছনে কারা সেটি তিনি বলতে পারেননি। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিভিন্ন অংশের এমন দাবি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আলোচনার খবর জানেন পুরনো রোহিঙ্গা জাফর আলম। ক্যাম্পে লিফলেট ছড়ানো এমনকি ছাপানো ফরমে স্বাক্ষর নেয়ার ঘটনাও তার নজরে এসেছে। কিন্তু এসবের নেপথ্যে ‘আরাকান রোহিঙ্গা হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস সোসাইটি’ নামে অনানুষ্ঠানিক একটি সংগঠন গড়ে ওঠার যে খবর বেরিয়েছে সেটি তিনি জানেন না। জাফর আলম বলেন, এখানে মিয়ানমারে যাবে না এরকম বিভিন্ন ধরনের দাবি আলোচনা করতে দেখা যাচ্ছে। নয়াপাড়া গেলে দেখবেন দশ দফা দাবি, বালুখালী দেখবেন আটদফা আবার কুতুপালংয়ে দেখবেন ছয়দফা দাবি দিচ্ছে। তাদেরকে (সাধারণ রোহিঙ্গা) ভুল মোটিভেশন দেয়া হচ্ছে। স্বঘোষিত কমিটিগুলোই হয়তো ভুল মোটিভেশন দিচ্ছে। ক্যাম্পে ঘুরে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায়, রোহিঙ্গারা নানা মাধ্যমে প্রত্যাবাসন বিষয়ে খবর পাচ্ছেন। ফেরত যাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে বৈঠক এবং নিয়মিত আলোচনাও হচ্ছে। বালুখালী ক্যাম্প ইনচার্জ রোহিঙ্গা লালু জামাল হোসেন বলেন, মাসে একবার করে আমরা বসি। গ্রামের মধ্যে মুরব্বি যারা আছে, মিয়ানমারে তারা চেয়ারম্যান মেম্বার ছিল। তাদের নিয়েই আমরা বসি। রোহিঙ্গাদের মধ্যে গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বয়স্ক যারা আছেন তারা সাধারণ রোহিঙ্গাদের কিভাবে বোঝাচ্ছেন সেটিও উঠে এলো বয়োজ্যেষ্ঠ এক রোহিঙ্গা মুয়াজ্জিনের বক্তব্যে। : সবাইকে আমরা বুঝাচ্ছি। ব্লকে ব্লকে গিয়ে বুঝাই। আমাদের অধিকারগুলো নিশ্চিত করলে আমরা যাব। আমাদের দেশের জন্য আমাদের মায়া আছে। আমাদের যেতেও হবে। বারবার আমরা এই কষ্ট ভোগ করতে চাই না। : রোহিঙ্গাদের বক্তব্য এবং কার্যক্রমে অনেকটা পরিষ্কার যে, তারা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে বিভিন্ন দাবিতে সংগঠিত হতে চাইছেন। সাধারণ রোহিঙ্গাদের অনেকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে স্বেচ্ছায় ফেরার আগে তাদের দাবি কী হবে এবং তারা আসলে কী চান। কুতুপালং ক্যাম্পের মাওলানা আনোয়ার সাদিক বলেন, আমরা বোঝাচ্ছি যে, রোহিঙ্গা পরিচয়পত্র না দিলে তোমরা যাবা না। তোমাদের কাছে জানতে চাইলে বলবে আমরা রোহিঙ্গা পরিচয়পত্র ছাড়া কোনভাবেই যাব না। সরকার যে চুক্তি করবে করুক। আমার বাংলাদেশে মাটি খেয়ে থাকলেও বাঁচবো নয়তো মরবো। একথা সারা দুনিয়া জানুক। : এমন পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আফরুজুল হক টুটুল বলেন, একটা গ্রুপ চেষ্টা করছে প্রত্যাবাসন বিষয়টিকে অন্যদিকে মোড় দেয়ার জন্য। কিন্তু এ জিনিসটা যেন না হয় সেজন্য আমরা তৎপর আছি। রোহিঙ্গারা কিন্তু অর্গানাইজড না। অনেকেই চেষ্টা করছে এদেরকে ভুলপথে ধাবিত করার জন্য। দেখবেন হয়তো নেটের মাধ্যমে অনেক কিছু ভাইরাল হয়ে যায়। যেটার কিন্তু সত্যতা নাই। আমরা চেষ্টা করছি কোনোরকম বিভ্রান্তিমূলক তথ্য যেন প্রচার না পায়। : এদিকে বাস্তবতা হলো কক্সবাজারে ত্রাণ শিবিরে থাকা বেশিরভাগ রোহিঙ্গাই এখনো প্রত্যাবাসন নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছেন। রোহিঙ্গা ত্রাণ প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম জানান, প্রত্যাবাসনের আগে রোহিঙ্গাদেরকে কাউন্সিলিং করা হবে। মিয়ানমারে তাদের কী সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে সেটি পরিষ্কার জানাতে পারলে কোনো সমস্যা হবে না বলেও তিনি মনে করছেন। : ২০১৬ সালের অক্টোবর এবং ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে আসা নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন অন্তত ৭ লাখ ৮০ হাজার। এই সব রোহিঙ্গাকেই ফেরত পাঠানোর কথা আগামী দুই বছরের মধ্যে। সূত্র : বিবিসি : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ এখন আওয়ামী লীগ। ভাগাভাগি নিয়েই প্রতিপক্ষ হচ্ছে বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
34197 জন