শিল্প ইতিহাস বিকৃত করা সমীচীন নয় : নজরুল ইসলাম খান
ইপিজেড প্রতিষ্ঠায় শহীদ জিয়ার সূচনা উদ্যোগও উপেক্ষিত সরকারি ক্রোড়পত্রে
Published : Sunday, 28 January, 2018 at 12:00 AM
আলী মামুদ : রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা (ইপিজেড) বাংলাদেশের রফতানিমুখী শিল্প প্রসারের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী ও সফল উদ্যোগ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে ১৯৮০ সালে তৎকালীন জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে প্রথম আইনটি পাস হয়েছিল। ১৯৮৩ সালে প্রথম ইপিজেড কারখানা চালু হয় চট্টগ্রামের পতেঙ্গায়। ১৯৯৩ সালে দ্বিতীয় ইপিজেড চালু হয় ঢাকার সাভারে। একেকটি ইপিজেড এলাকায় থাকে একগুচ্ছ শিল্প ইউনিট। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০০৯ (অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সরকার)-এর বরাতে বাংলা পিডিয়া (বাংলাদেশ জাতীয় জ্ঞানকোষ) জানায় এই ইতিহাস। অথচ গত বুধবার (২৪ জানুয়ারি-১৮) বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত বেপজা ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টরস সামিট-২০১৮ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ক্রোড়পত্রে গত ৯ বছরের সাফল্য (২০০৯-১৭) বর্ণনা করতে গিয়ে এই ইপিজেডের শুরুর ইতিহাস বেমালুম চেপে যাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ বা বেপজা ‘স্পন্সরকৃত’ এই ক্রোড়পত্রের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাংলাদেশের সিনিয়র শ্রমিক নেতা নজরুল ইসলাম খান গত বুধবার দৈনিক দিনকালকে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার স্বল্পসময়ের শাসনকালে ইপিজেডসহ অনেকগুলো শিল্প স্থাপনের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। ইপিজেডে স্থাপিত রফতানিমুখী পণ্য থেকে যে বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে তা বাংলাদেশকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। অথচ বর্তমান সরকার দেশের জনপ্রিয় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কোনো অবদানই স্বীকার করতে চায় না। ইপিজেড নিয়েও তাই ঘটেছে। শুধু তাই নয়, জিয়ার নাম জড়িয়ে থাকায় ইপিজেড নিয়ে চলছে নানামুখি ষড়যন্ত্র। বর্তমান সরকারের সময়ে সূচিত ‘বিশেষ অর্থনৈতিক জোন’ (বেপজা)কে ইপিজেডের সঙ্গে একীভূত করতে কোনো কোনো উর্বর মস্তিষ্কের গবেষণাপত্রও হয়েছে রচিত! উল্লেখ্য, ‘বেপজা ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টরস সামিট-২০১৮’ উপলক্ষে প্রকাশিত আলোচিত ক্রোড়পত্রে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী ছাপা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাপা হয়েছে কয়েকজন সিনিয়র আমলার বাণীও। ক্রোড়পত্রটির ‘বটম ফোল্ডে’ ছাপা হয়েছে ৯ বছরের সাফল্য (২০০৯-১৭)। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা বাংলাদেশ ইপিজেডের পথিকৃৎ’। তবে এটি কোন্ সালে যাত্রা শুরু করেছে, তা সতর্কতার সঙ্গে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ক্রোড়পত্রটি পড়লে এখনকার পাঠকদের মনে হতে পারে যে, ইপিজেড শিল্প ইউনিট ২০০৯ সালেই যাত্রা শুরু করেছে! : বাংলা পিডিয়ার দৃষ্টিতে : বাংলা পিডিয়া বলেছে যে, ‘বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে সংসদে প্রণীত একটি আইনের ভিত্তিতে ১৯৮৩ সালে প্রথম ইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামের পতেঙ্গায়। দ্বিতীয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় এর দশ বছর পর (বেগম খালেদা জিয়া সরকারের সময়ে) ১৯৯৩ সালে ঢাকার সাভারে। এছাড়া মংলা, উত্তরা, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা, কর্ণফুলী ও আদমজীতে আরো ছয়টি ইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার চট্টগ্রামে একটি কোরীয় ইপিজেড প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে কোরিয়া সরকারের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে’। এই ভাষ্যের সঙ্গে বাংলা পিডিয়ায় একটি সারণি সংযুক্ত করা আছে। এতে দেখানো হয় যে, চট্টগ্রাম, ঢাকা, কুমিল্লা, মংলা, উত্তরা, ঈশ্বরদী, আদমজী ও কর্ণফুলীতে স্থাপিত শিল্প ইউনিটসমূহে (২৯৭) ২ লাখ ৩০ হাজার ৪০৬ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়। এতে আরো উল্লিখিত আছে যে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, চীন, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইউএসএ, জার্মানি, ভারত ও পাকিস্তানসহ ৩০টিরও অধিক দেশ এই ইপিজেডে শিল্প স্থাপন করেছে। এই শিল্প ইউনিটসমূহের সাব-কন্ট্রাক্টের মোট উৎপাদনই প্রায় এক কোটি ডলার। : রবার্ট ম্যাকনামারার পরামর্শ : এখানে উল্লেখ্য যে, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ’৮০-এর দশকের শুরুতে বাংলাদেশ সফররত তৎকালীন বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট রবার্ট ম্যাকনামারার কাছে জানতে চেয়েছিলেন বৈদেশিক মুদ্রার আয় বৃদ্ধির জন্য আমরা কি ধরনের শিল্প কারখানা করতে পারিÑ তখন রবার্ট ম্যাকনামারা এই ‘ইপিজেড’ ধারণাটি দিয়েছিলেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে। পরে প্রেসিডেন্ট জিয়ার ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদে রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ বিল পাস হয়। তারই সুফল পাচ্ছে আজ বাংলাদেশ। ইপিজেডের প্রথম প্রকল্প অফিস মতিঝিলস্থ শিল্প ভবনে কাজ শুরু করেছিল। সেই অফিসে ইপিজেডের প্রাথমিক কাজকর্ম হতে দেখা গেছে। সেই উদ্যোগ আজ মহীরুহ। কিন্তু বর্তমান সরকারের একটি মহল বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বেজা) নিয়ে এগুতে গিয়ে ইপিজেড নিয়েও মাথা ঘামাচ্ছে। বেজা হোক ভালো কথা। কিন্তু সফল কাহিনী ইপিজেডের সঙ্গে তাকে যুক্ত করা সঠিক হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। : শিল্প-ইতিহাস বিকৃত নয়Ñনজরুল ইসলাম খান : শ্রমিক নেতা হিসেবে প্রেসিডেন্ট জিয়ার সাহচার্যধন্য বিএনপির বর্তমান স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইপিজেড একটি সাফল্যের কাহিনী। এর ইতিহাস রচনায় দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করাই বাঞ্ছনীয়। কারণ এই শিল্পের সঙ্গে বিদেশীরাও জড়িত। শিল্প ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাস বিকৃত করা সমীচীন নয়। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি আদালতে হুমকি দিচ্ছে। আপনি কি একথা বিশ্বাস করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
36026 জন