মন্ত্রী-এমপিদের বক্তব্যে পরিষ্কার রায় নির্ধারিত : মির্জা ফখরুল
Published : Sunday, 28 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 27.01.2018 11:28:56 PM
মন্ত্রী-এমপিদের বক্তব্যে পরিষ্কার রায় নির্ধারিত : মির্জা ফখরুলদিনকাল রিপোর্ট : সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের বিভিন্ন ধরনের বক্তব্যে পরিষ্কার হয় যে, জিয়া অরফানেজ মামলার রায় আগে থেকেই নির্ধারিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘যেনতেন প্রকারে রায়’ জনগণ মেনে নেবে না। তার বিরুদ্ধে ‘যেনতেন রায়’ দেয়া ‘সোজা হবে না। বেগম খালেদা জিয়াকে আপনারা যেনতেন প্রকারে একটা রায় দেয়ার ব্যবস্থা করবেন, দেশের মানুষ সেটা মেনে নেবে না। সঠিক বিচার করতে হবে, ন্যায়বিচার হতে হবে। কিন্তু কার কাছে বিচার চাইবো। বিচারের বাণী তো এখন নীরবে নিভৃতে কাঁদে। কেউ কোথাও ন্যায়বিচার পায় না।  গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে সংগঠনের কারাবন্দি সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আলীর মুক্তির দাবিতে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। : মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা যে কথা বলতে চাই খুব পরিষ্কার করে, আমাদের নেত্রী এদেশের ১৬ কোটি মানুষের আশা-ভরসার স্থল, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের একমাত্র প্রতীক, যার ওপর সমস্ত বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে, তাকে তারা রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে চায়। আমরা কী সেটা করতে দেব? এ সময়ে অনুষ্ঠানস্থলে নেতাকর্মীরা সমস্বরে ‘না’, ‘না’ বললে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা কি তার জন্য সমস্ত জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন? এ সময়ে নেতাকর্মীরা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে ওঠে। বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরকার ‘অন্যায় আচরণ’ করছেন অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়া উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। দীর্ঘদিন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। দুইবারের বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন। তার সঙ্গে আপনারা যে আচরণ করছেন, পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে তা নজিরবিহীন। আমরা এর নিন্দা জানাই। জাতি এর জন্য কোনোদিন আপনাদের ক্ষমা করবে না। : তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ কোনো দিন স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদী বরদাশত করেনি। জনগণ আন্দোলনের মাধ্যমে তা পরাজিত করেছে। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করবে ঢাকার পঞ্চম জজ আদালত। বিএনপি মামলাটিকে ‘অন্তঃসারশূন্য’ আখ্যা দিয়ে আসছে, ক্ষমতাসীনরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে মামলাটিকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। : সরকার সুপরিকল্পিতভাবে বিচার বিভাগকে ‘করায়ত্ত করেছে’ অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে যে মামলার রায় দেয়া হবে সেটি কোনো মামলাই হয় না। তার আইনজীবীরা প্রতিটি অভিযোগ খন্ডন করেছেন এবং প্রমাণ হয়েছে, এই মামলা কোনো মামলাই হতে পারে না।  সম্পূর্ণ মিথ্যার ওপর এই মামলা হয়েছে। যে ট্রাস্টে বেগম খালেদা জিয়ার কোনো সম্পৃক্ততাই নেই, যে ট্রাস্ট্র গঠনে তার কোনো মন্তব্য নেই, কোনো ডকুমেন্টে স্বাক্ষর নেই, কোনো নির্দেশনা নেই। একটা জাল ফাইল-নথি হাজির করা হয়েছে। আমাদের আইনজীবীরা প্রমাণ করে দিয়েছেন, এই নথিটি সম্পূর্ণভাবে জালিয়াতি করে ঘষামাজা করে কোনো স্বাক্ষর ছাড়াই রাষ্ট্রপতির প্যাডে সেই নথি কৈরা হয়েছে। : তেড়িঘড়ি করে রায় দেয়া হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে নজিরবিহীনভাবে তাড়াহুড়া করে এই মামলাটি শেষ করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এমন কী শেষ দিন যখন আইনজীবী চাচ্ছেন যে, তিনি আরও কথা বলবেন, কিউসিরা আছেন তাদের কথা বলার কোনো সুযোগ না দিয়ে, সিনিয়র আইনজীবীদের গিলোটিন করে তাদের বক্তব্য শেষ করা হয়েছে এবং মামলার রায় দেয়ার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। কেন এই তাড়াহুড়া? কেন এই জোর করে অতিদ্রুত আইনের স্বাভাবিক যে গতি, মামলার যে গতি থাকে, তাকে বন্ধ করে দিয়ে অতি দ্রুততার সঙ্গে কেন এই রায় দেয়ার চেষ্টা? একটাই কারণ- বিএনপি ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র চলছে। : রায় ঘিরে কেউ ‘বিশৃঙ্খলা বা ধংসাত্মক কার্যকলাপের’ চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরা হুঙ্কার দিচ্ছেন, হুমকি দিচ্ছেন যে, রায়ের পরে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে। আপনাদের মাথায় এটা আসলো কেন? আমরা তো দেখছি, এই মামলায় কিছুই নেই, কোনো সত্যতা নেই, প্রসিকিউশন ব্যর্থ হয়েছে কোনো কিছু প্রমাণ করতে। সেখানে আপনারা হঠাৎ করে এটা (বিশৃঙ্খলা) ভাবছেন কেন? ভাবছেন এই কারণেই যে, রায় আপনারা পূর্বেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। আপনাদের সরকারের মন্ত্রীরা বলেছেন আটদিনের মধ্যে রায় হবে, ১৫ দিনের মধ্যে রায় হবে। যখন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন যে, ১৫ দিনের মধ্যে রায় হয়ে যাবে, রাঙ্গা সাহেব (স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা) বলেন যে, আটদিনের মধ্যে হয়ে যাবে। তখন দেখা গেল ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখ রায় ঘোষণার কথা বলা হল। তাহলে বিচারের এই প্রহসন কেন? : মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র হচ্ছে’ দাবি করে নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেয়ার পাশপাশি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে জাগিয়ে তোলার আহ্বানও জানান বিএনপি মহাসচিব। আন্দোলনের জন্য নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি জনগণকেও প্রস্তুত করার পরমর্শ দেন তিনি। দলের নেতাকর্মীদের বলবো শুধু তোমাদের প্রস্তুত হলে হবে না। জনগণকে প্রস্তুত করতে হবে। এবং আমাদের ওপর চেপে বসা এই দানবকে সরাতে হবে। কোনদিন বাংলাদেশের মানুষ অন্যায়, স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদকে বরদাশত করেনি। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদের পরাজিত করেছে। : আওয়ামী লীগ পুরোপুরি মিথ্যার ওপর টিকে আছে দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তাদের সোনার ছেলেরা, ছাত্রলীগের ছেলেরা নিজেরা নিজেরা মারামারি করছে। যারা বিরোধিতা করছে তাদের মারধর করছে, মেয়েদের চুল ধরে মারধর করছে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা নাম বলবো না সে বলছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নাকি ছাত্রদল হামলা করেছে। কি মিথ্যা কথা! অথচ পত্র পত্রিকায় এসেছে ছাত্রলীগের লোকজন কীভাবে মারধর করছে। : স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এস এম জিলানির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সিনিয়র সহ- সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজ প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি আদালতে হুমকি দিচ্ছে। আপনি কি একথা বিশ্বাস করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
36030 জন