প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে জেটির বেহাল দশা : পর্যটকদের দুর্ভোগ
স্থানীয়রাও চরম ভোগান্তির শিকার
Published : Tuesday, 30 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 29.01.2018 10:16:27 PM
নুরুল ইসলাম হেলালী, কক্সবাজার : দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। দ্বীপের একমাত্র জেটির বেহাল দশা হওয়ায় জাহাজ থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা ওঠানামা করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন এই জেটির সংস্কার ও উন্নয়নে কোনো পদক্ষেপ নেই বললেই চলে। প্রতিদিন ৭-৮টি জাহাজে প্রায় ১০ হাজারের বেশি পর্যটক যাচ্ছেন সেন্টমার্টিনে। পর্যটকদের পাশাপাশি সেন্টমার্টিনে স্থানীয়দের ওঠানামার ও চলাচলের একমাত্র জেটি। নেই কোনো বিকল্প জেটি। অযতœ, অবহেলার শিকার সেন্টমার্টিনের এই জেটিটি। জেটির ভয়াবহ ভাঙন ধরেছে। ফলে এ পর্যটন মৌসুমেই ধসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার ফলে দ্বীপবাসী ও পর্যটকরা চরম ভোগান্তির শিকার হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে দ্বীপবাসীর মাঝে দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেন্টমার্টিন জেটির পার্কিংয়ে ভয়াবহ ভাঙন ও বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো নৌযান ভেড়াতে পারছে না। তবে বর্তমানে ভাঙন আকার বৃদ্ধি পাওয়ায় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যটক ও সাধারণ মানুষ আতঙ্কে জেটির উপর বেশি ক্ষণ থাকেন না। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপবাসীর জীবিকা নির্বাহের প্রধান পেশা হয়ে দাঁড়ায় ট্যুরিজম ব্যবসা। পর্যটক এলে ছোট ছোট দোকান দিয়ে ডাব, চা, পানসহ ইত্যাদি জিনিসপত্র বিক্রি করে টাকা আয় করেন। এ পর্যটন ব্যবসার আয় নিয়ে পুরো বছর জীবন পার করতে হয় তাদের। সেখানে পর্যটন মৌসুম শুরুর আগেই গুরুত্বপূর্ণ এ জেটি সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে অনেক আকুতি-মিনতি করেছিলেন দ্বীপবাসী। কিন্তু কে শুনে কার কথা। সূত্র জানায়, বিগত ২০০৪ সালে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একমাত্র জেটি দীর্ঘদিন ধরে সমস্যায় জর্জরিত। গত কোমেন ও মোরার আঘাতে জেটির ভয়াবহ ভাঙন ও তীব্র ফাটল ধরে। ২০০৬ সালের ১৫ জুন সেন্টমার্টিন জেটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতি সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে পর্যটকরা সেন্টমার্টিনে এলেও চলতি বছরের চিত্র ভিন্ন। মিয়ানমারের সহিংসতা হওয়ায় প্রশাসন দীর্ঘ দেড় মাস পর জাহাজ আসার অনুমতি দেয়। সেই কারণে দ্বীপবাসীর ব্যবসা পিছিয়ে পড়ে। বর্তমানে পর্যটকরা এলেও জেটির অবস্থা দেখে অনেকেই হতাশা হয়ে সামনে সেন্টমার্টিন না আসার সিদ্ধান্তে বিভোর হয়ে চলে যাচ্ছেন। আরো দেখা গেছে, জেটির পার্কিং গাইড ভিমের ভাঙনে জাহাজ আসতে না পেরে কোটি কোটি টাকার আয় আটকে গেছে। ফলে হুমকির মুখে পড়ছে পর্যটক ব্যবসা। সেন্টমার্টিন জেটির পূর্ব পাশে পার্কিং গাইড ভিম, রেলিং ও পিলার সাগরে পড়ে গেছে, হেলে পড়া ভিম ও পিলারের কারণে জোয়ারের সময় দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে এবং জেটির বিভিন্ন অংশে ফাটল ও রেলিং ভেঙে পড়েছে। বিগত বছরের পর্যটক মৌসুমে প্রবল ঢেউ, বাতাসে পর্যটকবাহী জাহাজের ধাক্কায় ও জেটির পার্কিংয়ে কিছুটা ফাটল দেখা দেয়। সেই সংস্কারও করা হয়নি। আবার কোমেন ও ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে এবং সাগরে প্রবল ঢেউয়ে জেটির পূর্ব পাশের পার্কিং সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে সাগরে ডুবে গেছে। ফলে পর্যটকবাহী জাহাজ ও সার্ভিস বোট ভিড়তে না পেরে বিকল্প পদ্বতি দিয়ে যাত্রী ওঠানামা করছেন। জানা গেছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপে ছোট-বড় ১৫০টি আবাসিক হোটেল, কটেজ, রেস্টুরেন্ট, ২০০ দোকান, প্রায় ২০০টি ভ্যান ও রিকশা, ২৬টি সার্ভিস বোট, দ্বীপের ১০ হাজার মানুষসহ সবার পরিবার পর্যটক মৌসুমে আয় করার জন্য অপেক্ষামাণ থাকে। তারা দ্বীপে কখন পর্যটক আসবেন সে অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু সব কিছু ভাঙা জেটির কারণে সব ম্লøান হয়ে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দা জয়নুল আবেদীন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, এখানে কিসের উন্নয়ন কিসের সরকার কেউ এগিয়ে আসে না। সবাই আশ্বাস দেন, কাজের কাজ কেউ করেন না। দ্বীপের একমাত্র জেটির ভয়াবহ অবস্থা। নাই সংস্কার, নাই উন্নয়ন। এভাবে হলে কিভাবে পর্যটকরা আসবেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেন্টমার্টিন সার্ভিস বোট মালিক সমবায় সমিতির এক নেতা জানান, জেটির পার্কিং ভাঙনে সার্ভিস বোট ভিড়তে না পেরে বিকল্প ব্যবস্থায় যাত্রীদের ওঠানামা করতে হচ্ছে। দ্রুত জেটি সংস্কার করে কষ্ট লাঘবে ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি। দ্বীপে বেড়াতে আসা পর্যটক দম্পতি শাহিন-তানিয়া আক্ষেপ করে বলেন, এ রকম হলে আর কখনো আসব না। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেছেন, রায় ঘোষণার আগে মন্ত্রীদের বক্তব্য রায়কে প্রভাবিত করবে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
35621 জন