মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে সরকার : রিজভী
Published : Tuesday, 30 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 29.01.2018 11:06:45 PM
মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে সরকার : রিজভীদিনকাল রিপোর্ট : আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সরিয়ে আবারও ২০১৪ সালের মতো অবৈধ নির্বাচন করার সরকারি যে নীল নকশা, তা বাস্তবায়ন করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার আদালতকে হাতিয়ার বানাতেই প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাকে বন্দুকের জোরে পদত্যাগে বাধ্য করেছেন। বিচারালয়কে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতেই সিনহাকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জাল নথির বানোয়াট মামলার কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসে দেশে এক আইন এক প্রভুর একদলীয় শাসনের ভারী পাথর জনগণের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। : রিজভী বলেন, নৌমন্ত্রী শাজাহান খান গতকাল বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার সাজা নিশ্চিত এবং রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও গতকাল বলেছেন, জেলে গিয়েই বেগম খালেদা জিয়াকে আপিল করতে হবে। এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে একদিনের জন্য হলেও জেলে যেতে হবে। তাদের বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়, আদালতের রায় কি হবে তা তারা জানেন। নয়তো তারা এসব কথা কিভাবে বলেন? নিশ্চয়ই তারা এমন কিছু সাজিয়ে রেখেছেন। আদালতকে প্রভাবিত করে বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিতে চাচ্ছেন। : তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচন এদেশে আর করতে পারবে না সেটা জেনে নতুন ফর্মুলা বাস্তবায়ন করতে পরিকল্পিতভাবে এগুচ্ছে সরকার। দেশে একদলীয় শাসন কায়েমের পথের কাঁটা হলেন বেগম খালেদা জিয়া, জিয়া পরিবার তথা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে পারলে শেখ হাসিনার পথের কাঁটা দূর হয়ে যায়। তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে হাজার হাজার মামলা এবং মামলাগুলোতে তাড়াহুড়া করে রায়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এগুলোর আসল উদ্দেশ্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জনগণের বুঝতে বাকি নেই যে, এসব হচ্ছে বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে সরকারের নীল নক্শা। : সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণের সময় ১/১১ সরকার ও দুদকের দায়ের করা ১৫টি মামলা ওনার মাথার ওপর ছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দায়ের করা সাত হাজারের অধিক মামলা সরকার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অথচ বিএনপি চেয়ারপারসনসহ বিরোধী দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোকে সচল করতে যা যা প্রয়োজন শেখ হাসিনার সরকার সে ব্যবস্থাই নিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা অনেক মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত ছিল। কিন্তু সম্পূর্ণ প্রতিহিংসামূলকভাবে সরকার বিএনপি চেয়ারপারসনের মামলাগুলো সচল করে বিচার কাজ পরিচালনা করাচ্ছে। শুধু তাই নয়- মিথ্যা, সাজানো ও হয়রানিমূলক নতুন নতুন মামলাও দেয়া হয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। কিন্তু তাতে লাভ হবে না। সরকারের এহেন চক্রান্তে চারদিকে ঘৃণার ধিক্কার উঠেছে।   : তিনি আরো বলেন, জনগণের বুঝতে বাকি নেই, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দখল ও হরণের নীতি বাস্তবায়ন করতেই মাইনাস ওয়ান ফর্মুলার নীলনকশা এঁটেছেন শেখ হাসিনা। তিনি ১/১১’র শিক্ষা থেকে শিক্ষা নেননি। যদি নিতেন তাহলে তিনি রাজনীতির এই বিপজ্জনক খেলায় মেতে উঠতেন না। আমি স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই- দুঃশাসনের কালোরাত শেষ হয়ে এসেছে। আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বেগম খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে সরকার কোনো হীন পরিকল্পনা করে থাকলে শেখ হাসিনার সরকার নিজেদের পতন থেকে আত্মরক্ষা করতে পারবে না। এদেশের মানুষ মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা বাস্তবায়নকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে অনড় প্রস্তুতি গ্রহণ করে আছে। বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানকে মাইনাস করে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না। আর বিএনপিকে মাইনাস করে এদেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। : বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার বিরোধীদল দমনে পুলিশকে বেপরোয়াভাবে ব্যবহার করছে। প্রতিদিন পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করছে, নির্যাতন করছে, ক্রসফায়ারের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড চালাচ্ছে। বিরোধী দলের সমাবেশের ন্যূনতম অধিকারটুকুও হরণ করে নিচ্ছে। যশোরে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ‘বন্দুকযুদ্ধে’র নামে হত্যার মহোৎসব চলছে। তারওপর বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়েরের হিড়িক চলছে। গতকাল গাজীপুরে বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেধড়ক লাঠিচার্জ করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইয়্যেদুল আলম বাবুলসহ অর্ধ শতাধিক নেতা-কর্মীকে আহত করেছে। গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতাসহ অর্ধশতাধিক স্থানীয় নেতা-কর্মীকে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ সময় পুলিশ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক, জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলনসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নাজেহাল করে। আমি পুলিশের এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে আটককৃত বিএনপি নেতা-কর্মীদের মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। আহত নেতাকর্মীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। : সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূইয়া, আব্দুস সালাম, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন, সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, কাজী রফিক, নিপুন রায় চৌধুরী প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেছেন, রায় ঘোষণার আগে মন্ত্রীদের বক্তব্য রায়কে প্রভাবিত করবে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
35597 জন