আওয়ামী লীগের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না : মির্জা ফখরুল
Published : Tuesday, 30 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 29.01.2018 11:07:30 PM
আওয়ামী লীগের কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হবে না : মির্জা ফখরুল দিনকাল রিপোর্ট : মিথ্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পরাজিত করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের মানুষ যেভাবে ক্রমান্বয়ে এগুচ্ছে, আগামী নির্বাচনে তারা ভোট দিয়ে গণেশ উল্টিয়ে দেবে। এই গণেশ হচ্ছে ভারতের পশ্চিম বাংলার কথা। যখন সরকার পাল্টায় তখন বলে যে, গণেশ উল্টিয়ে গেছে। আমাদের মানুষরা অপেক্ষা করে আছে নির্বাচনের দিনে ভোটে সিলটা মারবে আর গণেশ উল্টিয়ে দেবে। সাধারণ মানুষদের জিজ্ঞেস করেন কেউ এই সরকারের পক্ষে নেই। : গতকাল সোমবার দুপুরে নয়া পল্টনে মওলানা ভাসানী মিলনায়তনে মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে এক সাংগঠনিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সাংগঠনিক সভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি। এই সভায় নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের সময় নেতা-কর্মীরা ‘বন্দি হতে দেবো না, আমার নেত্রী, আমার মা’, ‘অবৈধ আদালতের রায় মানি না, মানব না’, ‘খালেদা জিয়ার কিছু হলে আগুন জ্বলবে সারাদেশে’ ইত্যাদি শ্লোগান দেয়। ১১/১’র সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের বাইয়ে পাঠাতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেশের বাইয়ে পাঠাতে পেরেছে? পারে নাই। দেশনেত্রী জেলে গেছেন, এক বছর জেলে ছিলেন। কিন্তু জেলও তার কাছে কোনো ব্যাপার নয়। ৯ বছর এই মাঠ দিয়েই রাজনীতি করেছেন। লড়াই ও সংগ্রাম করেছেন। সুতরাং বেগম খালেদা জিয়া উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কোনোদিন পরাজিত হবেন না, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কোনো মতেই পরাজিত করা যাবে না। আওয়ামী লীগ বার বার চেষ্টা করেছে বিএনপিকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য, ধ্বংস করতে পেরেছে কী? পারে নাই। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ‘টিকে থাকবে, টিকে আছে এবং সামনের দিকে আরো শক্তিশালী হবে’ বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। ৮ ফেব্রুয়ারির প্রতি ইংগিত করে মহানগর দক্ষিণকে ‘জনগণের সুনামী’ সৃষ্টির আহবানও জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের যে রাজনীতি তার প্রতীক হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া। তাকে যদি রাজনীতি থেকে সরানো যায় তাহলে তাদের (ক্ষমতাসীনদের) সুবিধা। সেজন্য তারা মিথ্যা মামলা দিয়েছে, যে মামলায় মিথ্যা ছাড়া কিছুই নাই। উদ্দেশ্য একটাই, বেগম খালেদা জিয়াকে যদি কোনো মতে আটকানো যায়, তাকে যদি রাজনীতি থেকে দূরে সরানো যায় তাহলে রাস্তা পরিষ্কার। আজকে আমাদের লক্ষ্য হবে জনগণের সুনামি সৃষ্টি করা। জনগণকে সেই স্রোতের মতো নিয়ে আসতে সেই লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে। আপনারা আগামী দিনে সফল হোন। : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা জনগণের পক্ষে আছি, আমরা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষে আছি, আমরা গণতন্ত্রের পক্ষে আছি। আমাদের নেত্রী সেই গণতন্ত্রকে রক্ষা করছেন। সারাটা জীবন তিনি লড়াই করেছেন গণতন্ত্রের জন্য। সংগ্রাম করছেন এখনো। এই যে যুদ্ধ হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতার যুদ্ধ, বাংলাদেশের মানুষের অধিকারের যুদ্ধ। ভোট দিতে দেবেন না, ভোট দিতে পারে না, সরকারে চলে যান। জনগণের সম্মিলিত ঐক্যের মধ্য দিয়ে উত্তাল তরঙ্গ আসে সুনামির মতো সেই তরঙ্গকে কেউ ঠেকাতে পারে না। : দেশে পরিবর্তন আনতে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, এই দানব সরকারকে সরাতে হবে। নাহলে দেশের মানুষের মৃত্যু হবে। সেজন্য আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা সারাটা জীবন আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যে আছি, কখনো সরে যাইনি। আপনারা যারা তরুণ আছেন সময় আপনাদের। পরিবর্তন আপনাদেরই আনতে হবে। পরিবর্তন আনতে হলে আপনাদের শক্ত হয়ে দাঁড়াতে হবে, জনগণের কাছে আপনাদের চলে যেতে হবে। আমরা আছি শেষ পর্যন্ত। জীবনের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পাশে আছি, থাকবো ইনশাল্লাহ। : মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষ যেভাবে ক্রমান্বয়ে এগুচ্ছে, আগামী নির্বাচনে তারা ভোট দিয়ে গণেশ উল্টিয়ে দেবে। এই গণেশ হচ্ছে ভারতের পশ্চিম বাংলার কথা। যখন সরকার পাল্টায় তখন বলে যে, গণেশ উল্টিয়ে গেছে। আমাদের মানুষরা অপেক্ষা করে আছে যে, নির্বাচনের দিনে ভোটে সিলটা মারবে আর গনেশ উল্টিয়ে দেবে। সাধারণ মানুষদের বলেন, কেউ এই সরকারের পক্ষে নেই। : বর্তমান সরকারকে ভয়ঙ্কর একটা দানব উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই কথাটা শুধু আমার নয়। এই যে জোর করে প্রধান বিচারপতিকে দেশ থেকে বের করা দিলো (সরকার)। তিনি তার রায়ে পরিষ্কার বলেছেন, সরকার দানব হয়ে গেছে। সুতরাং এই সরকার একটা দানবে পরিণত হয়েছে। : ফ্যাসিজমকে পরাজিত করা ছাড়া আমার আর কোনো বিকল্প নেই মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই দানবকে সরাতে হবে। না হলে বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি হবে না। আর এই দানবকে সরাতে হলে আমাদের সকলকে (বিএনপির নেতাকর্মীদের) ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদের সকলকে দৃঢসংকল্প হতে হবে। আর অত্যাচারী, নির্যাতনকারী, নিপীড়নকারী ও একনায়ক যারা, তারা বেশি দিন টিকে থাকতে পারে না। যতই থাকুক, পতন তার হবেই বলে মনে করেন তিনি। : আইয়ুব খানের উন্নয়নের দশক পালনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, এরপর তিন মাসও আইয়ুব খান টেকে নাই। ঠিক একইভাবে প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে বিলবোর্ড লাগায় এবং চারদিকে ব্যানার টানানো, উন্নয়নের ৪ বছর। কিন্তু এই সরকার তিন মাস যাবে, না কি এক মাস যাবে। এটা একমাত্র ওপর আল্লাহ যানেন। এটা ইতিহাস, এই ইতিহাস ভুলে যাওয়ার পথ নেই। এই ইতিহাস অনিবার্য। জনগণ আন্দোলনে অংশ নিলেই আন্দোলন সফল হবে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। : বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক আইন বদল করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই আইনগুলো বদল করে তাদের পক্ষে নিয়ে এসেছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল। এটা আওয়ামী লীগেরই দাবি ছিল। তারাই জামায়াত ও জাতীয় পার্টিকে নিয়ে ১৭৩ দিন হরতাল করেছিল। আমরা সে কথা ভুলে যাইনি। আর আজকে ক্ষমতায় আসার পর দেখলো যে, জনগণ তাদের কাছ থেকে দূরে সরে গেছে, জনগণ তাদের সঙ্গে নাই। সুতরাং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তাদের অবশ্যই ভরাডুবি হবে। তাই তত্ত্বাবধায়ক বিধানকে বাতিল করে দিয়ে দলীয়  সরকারের বিধানে নির্বাচনের ব্যবস্থা করলো। আমরা এর জন্য প্রতিবাদ এবং আন্দোলন করেছি। কিন্তু আমরা বিজয় অর্জন করতে পারি নাই। সব সময় তো বিজয় অর্জন করা যায় না! বিভিন্নভাবে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে যদি জনগণকে দমন করা হয় আল্টিমেটলি তাদের বিরুদ্ধে পারা যায় না। : দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল মহানগর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সামনের আন্দোলন সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন, জনগণের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আন্দোলন, হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার আন্দোলন এবং আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রীর বিরুদ্ধে যদি কোনো রকম ষড়যন্ত্র করা হয় সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার আন্দোলন। সেজন্য এবার সকলে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিন, দেখা হবে রাজপথে। কত শক্তি আছে তাদের, দেখবো আমরা। : ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের পরিচালনায় সাংগঠনিক সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুল হুদা, সহ-সভাপতি নবী উল্লাহ নবী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিব, শেখ রবিউল আলম রবি, সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ রবিন, ঢাকা মহানগর যুবদল দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহিন, মহিলা দলের রাজিয়া আলীম, স্বেচ্ছাসেবক দক্ষিণের এস এম জিলানী প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নানসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেছেন, রায় ঘোষণার আগে মন্ত্রীদের বক্তব্য রায়কে প্রভাবিত করবে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
35612 জন