মন্ত্রীদের বক্তব্য আদালতকে প্রভাবিত করবে : জয়নাল
Published : Tuesday, 30 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 29.01.2018 11:07:17 PM
আবুল কাশেম, দিনকাল : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলায় বিচারিক আদালতের রায় প্রদানের আগেই মহাজোট সরকারের প্রভাবশালী ডজনখানেক মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতা এমনকি কতিপয় আওয়ামী আইনজীবী নেতাও প্রকাশ্যে জনসভায় রায়ের আগাম মন্তব্য করেই চলছেন। তাদের এই ধরনের আক্রমণাত্মক বক্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ছাড়াও জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিচারিক আদালতের রায় ঘোষণার আগেই তারা কিভাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিচ্ছেন। তাদের মনগড়া মন্তব্য দেশের স্বাধীন বিচার বিভাগের মর্যাদা এবং নিরপেক্ষাতাকে রীতিমতো প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আর এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদী দৈনিক দিনকালকে বলেন, রায় ঘোষণার আগে এমনকি মামলা পেন্ডিং থাকা অবস্থায় আগাম মন্তব্য করা কিংবা আক্রমনাত্মক বক্তব্য প্রদানে আদালত প্রভাবিত করা হয়। কেননা রায়ের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। এটা আদালত অবমাননা না হলেও  বিচারিক আদালত রায় প্রদানে প্রভাবিত হয়। আদালত বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে পারেন। : রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী, মন্ত্রী ও এমপিরা প্রকাশ্যে জনসভায় রায়ের আগাম মন্তব্য করেই চলছেন এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের সভাপতি বলেন, এই ধরনের বক্তব্য বিচার বিভাগের জন্য এবং বিচার প্রার্থীদের অবমাননাকর ও ক্ষতিকর। : বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলার কোনো তথ্য প্রমাণ না থাকা সত্ত্বে¡ও এমনকি মূল নথি না থাকা সত্ত্বে¡ও সরকারি দলের বিভিন্ন মন্ত্রী-নেতারা এ পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে অনেক আক্রমণাত্মক বক্তব্য রেখেছেন। তারা যেসব বক্তব্য রেখেছেন, এসবই রাজনৈতিক উদ্দশ্যপ্রণোদিত। : তিনি বলেন,তারা  আদালতকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের বক্তব্য প্রদান করে যাচ্ছেন। এই ধরনের বক্ত্য আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করে। কোনো বিচারাধীন মামলা নিয়ে এই ধরনের বক্তব্য মোটেই সমীচীন না। : একজন সিনিয়র আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি হিসেব জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘আমি সকল মহলকে অনুরোধ জানাচ্ছি, বিচার বিভাগ নিয়ে এমনিতেই জনমতে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিচার বিভাগ আদোকি স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে? জনগণের মাঝে এই প্রশ্নটাকে আরো তীব্রতর করা হচ্ছে।  রায় নিয়ে আগাম মন্তব্য করে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা উচিত হবে না। এই ধরনের আগাম মন্তব্য করা সঠিক কাজ নয়। কোনো বিবেকবান ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীদেরকে ভবিষ্যতে এই ধরনের বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহবান জানাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি। : প্রসঙ্গত, গত ২৫ জানুয়ারি  বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার শুনানি শেষে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়।   : ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান রায়ের জন্য এই দিন ঠিক করেন। এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনাকালে প্রতিদিন বেগম খালেদা জিয়াও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।  ১৬ কার্যদিবস যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন উভয় পক্ষের আইনজীবীরা। সব মিলিয়ে ২৩৬ কার্যদিবস শুনানি হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে আদালতে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।  দুদকের করা এই মামলায় মূল নথিপত্র এবং উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ ছিল না বলেও  বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা চ্যালেঞ্জ করলে রাষ্ট্রপক্ষ তা দেখা ব্যর্থ হয়েছে। এর পরও মহাজোট সরকারের মন্ত্রী এবং নেতারা রায় নিয়ে প্রতিদিন মনগড়া বক্তব্য দিয়েই যাচ্ছেন। :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন বলেছেন, রায় ঘোষণার আগে মন্ত্রীদের বক্তব্য রায়কে প্রভাবিত করবে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
35610 জন