জিয়া চ্যারিট্যাবল ট্রাস্ট মামলা প্রহসনমূলক
কোনো অবৈধ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের কথা সাক্ষীরা বলেননি
Published : Wednesday, 31 January, 2018 at 12:00 AM, Update: 30.01.2018 10:24:07 PM
কোনো অবৈধ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের কথা সাক্ষীরা বলেননিরফিক মৃধা, দিনকাল : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্ক গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে। রাজধানীর পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা অধিদফতরের প্যারেড মাঠে স্থাপিত ৫ নম্বর বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। রাষ্ট্রপে মোশাররফ হোসেন কাজলের যুক্তিতর্ক শেষ হলে চার বিবাদীর অন্যতম মনিরুল ইসলামের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। তিনি বলেন, প্রসিকিউশেনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোনো অবৈধ উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের কথা কোনো সাী বলেননি। এটি রাজনৈতিক প্রসহনমূলক মামলা। হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হচ্ছে, পাচার হচ্ছে, সেখানে দেশের এক শীর্ষ রাজনীতিবিদকে মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে আদালতে হাজির হন বিএনপি-প্রধান বেগম খালেদা জিয়া। এর আগে বেলা ১১টা ১০ মিনিটে গুলশানের নিজ বাসা ফিরোজা থেকে আদালতের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। রাষ্ট্রপে মোশাররফ হোসেন কাজল দুপুর ১২টা ১১ মিনিটে যুক্তিতর্কের কাজ শুরু করেন। তিনি বক্তব্য উপস্থাপনের একপর্যায়ে আদালত দুপুরের বিরতি দেন। এ সময় বেগম খালেদা জিয়া আদালতের সামনে একটি চেয়ারে বসা ছিলেন। : জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্কের সারমর্ম উপস্থাপন করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রীর বেগম খালেদা জিয়ার সাত বছরের কারাদন্ড চেয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী। মোশাররফ হোসেন কাজল গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ মামলায় প্রথমে রাষ্ট্রপরে যুক্তিতর্ক তুলে ধরে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি ৩২ জন বিবাদীর স্যাগ্রহণের বিষয় এবং মামলার সারমর্ম তুলে ধরেন আদালতে। দুদকের এই আইনজীবী বলেন, কোনো ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা অবস্থায় ট্রাস্ট গঠন করতে পারেন না। কারণ তিনি ১৬ কোটি মানুষের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। আর এ কারণেই তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থে ট্রাস্ট গঠন করতে পারেন না। এই ট্রাস্ট গঠনের সময় সোনালী ব্যাংকে যে হিসাব করা হয়েছে, সেখানে বেগম খালেদা জিয়া তার প্রধানমন্ত্রী পদ গোপন করেছেন। কিন্তু তিনি ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করেছেন তৎকালীন মঈনুল রোডের বাড়ির ঠিকানা। : রাষ্ট্রপরে এই আইনজীবী আরো বলেন, খালেদা জিয়া ট্রাস্ট আইন ভঙ্গ করেছেন। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় চারবার চিঠি দেয়া হলেও তিনি এর কোনো উত্তর দেননি। পরে অবশ্য স্বীকার করে নিয়েছেন, ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট হয়নি। এই অভিযোগে সংবিধান অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়ার সাত বছরের কারাদন্ড হতে পারে। : মোশাররফ হোসেন কাজল আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে উদ্দেশ্যে ট্রাস্ট গঠন করেছেন, পরবর্তী সময়ে তা টাকা সংগ্রহের মধ্য দিয়ে তা প্রাইভেট ট্রাস্টে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ’র নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না তারাও সরকারি পদে ছিলেন। ট্রাস্টে তারা সরকারি পদ ব্যবহার করতে পারেন না। : ২০১০ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে বেগম খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে তেজগাঁও থানায় দুর্নীতির অভিযোগে এ মামলা করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুন-অর রশিদ। ওই মামলার অন্য বিবাদীরা হলেনÑ বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। : এছাড়া আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ ৬ বিবাদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত রয়েছে। : গতকাল মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট রেজ্জাক আলী খান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট  জয়নাল আবেদীন, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সজল, ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন, অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম খান, অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান তপন প্রমুখ। : অপরদিকে আদালতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, বিশেষ সহকারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির সাংগঠনিক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন। : প্রিজন ভ্যান ভেঙে নেতাদের ছিনিয়ে নিল বিএনপি কর্মীরা : রাজধানীতে পুলিশের প্রিজন ভ্যান ভেঙে তিন নেতাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বিএনপি কর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে হাইকোর্ট সংলগ্ন মাজার গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরাকে কেন্দ্র করে পূর্বের মতোই হাইকোর্ট এলাকায় জড়ো হয়েছিল দলটির নেতাকর্মীরা। এ সময় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা ওবায়দুল হক নাসির (৪০), সোহাগ মজুমদার (৩৮) ও মিলন (৩৮) নামের তিনজনকে আটক করে পুলিশ। তাদের প্রিজন ভ্যানে রাখা হয়। এরপর হাজিরা শেষে বিএনপি চেয়ারপারসন বাসায় ফেরত যাওয়ার পথে একদল বিএনপি কর্মী ওই প্রিজন ভ্যানে ভাঙচুর চালিয়ে নেতাদের ছিনিয়ে নিয়ে যায়। : পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে প্রতিদিনের মতো আদালতের আশপাশে নেতাকর্মীদের ঢল : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরা উপলক্ষে আদালতে যাওয়া ও আসার পথে মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, চানখাঁরপুল ও আদালত প্রাঙ্গণের আশপাশের সড়কে বেগম খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িকে ঘিরে ব্যাপক শোডাউন তৈরি করে ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকেই নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। গতকাল ৩টার দিকে পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলীয়া মাদ্রাসার মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালত থেকে বের হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আদালত থেকে বের হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মোড়ে এলে অপেমাণ দলটির নেতাকর্মীরা তার গাড়িবহরে যুক্ত হন। গাড়িবহর হাইকোর্ট মাজারের সামনে এলে ভেতরে অপেমাণ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী গাড়িবহরে যোগ দেন। এ সময় বিভিন্ন সেøাগানে সেøাগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ‘খালেদা জিয়া ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’, ‘খালেদা জিয়া এগিয়ে চল, আমরা আছি তোমার সাথে’, ‘জেল জুলুম হুলিয়া, নিতে হবে তুলিয়া’ এ ধরনের অসংখ্য নেতাকর্মীদের কণ্ঠে শোনা যায়। গাড়িবহরে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আ ক ম মোজ্জামেল হক, সোহবার হোসেন, আমিনুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের সিনিয়র সহ-সভাপতি বজলুল বাসিত আঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম মিল্টন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল রিয়াদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল, যুবদল দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজ, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সহ-সভাপতি নাজমুল হাসান, আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, ইকতিয়ার কবির, মামুন বিল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক ওমর ফারুক মুন্না, কাজী মোখতার হোসেন, আনিসুর রহমান রানা, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, দফতর সম্পাদক আব্দস সাত্তার পাটোয়ারী, সহ-সাধারণ সম্পাদিকা আরিফা সুলতানা রুমা, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক তানভীর আহমেদ খান ইকরাম প্রমুখ নেতৃবৃন্দও শোডাউনে অংশ নেন। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

নির্বাচনী প্রচারণায় নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে বিরোধী দলকে সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলে মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
36775 জন