চাঁনখালীতে জেটির অভাবে ঝুঁকি নিয়েই পণ্য খালাস!
শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা এক অজানা আশঙ্কায়
Published : Thursday, 1 February, 2018 at 12:00 AM
চাঁনখালীতে জেটির অভাবে ঝুঁকি নিয়েই পণ্য খালাস!সেলিম চৌধুরী, পটিয়া (চট্টগ্রাম) থেকে : দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিল্পায়নের প্রাণকেন্দ্র পটিয়ার চাঁনখালী খালে জেটি না থাকায় শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পণ্য খালাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ এখানে একটি জেটি নির্মিত হলে এ অঞ্চলের শিল্পায়নে যেমন নবদিগন্ত সূচিত হবে তেমনি সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে। কিন্তু যথাযথ পরিকল্পনার অভাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় প্রায় শত বছর ধরেই এ খালে আসা বোট থেকে ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকরা পণ্য খালাস করে যাচ্ছেন। এতে এ শিল্প এলাকার শ্রমিকরা অজানা শঙ্কায় ভুগছেন। ভুক্তভোগী, ইন্ডাস্ট্রি মালিক ও শ্রমিক সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকে পটিয়ার চাঁনখালী খালকে ঘিরে ইন্দ্রপুল শিল্পাঞ্চল ও বিসিক শিল্পনগরীতে শতাধিক ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠে। এ ইন্ডাস্টিগুলোতে প্রতিদিন এই খাল দিয়ে কক্সবাজার, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, চকোরিয়া, বাঁশখালীসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আনা হয় কাঁচামাল। লবণ মৌসুমে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ নৌ বোটে করে লাগাতার এ কাঁচামাল আনা হয় ইন্দ্রপুল শিল্পাঞ্চলে। কিন্তু এখানে কোনো জেটি না থাকায় শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই মালামাল ওঠানামা করতে হয়। যুগে যুগে তারা এ দুর্ভোগ পোহালেও তা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অদ্যাবধি কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিসিক সূত্রে জানা যায়, শিল্পোদ্যোক্তাদের আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে পটিয়া ইন্দ্রপুল শিল্পাঞ্চলের সম্প্রসারণে বিসিক কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব জায়গায় সম্প্রতি আরো ৩০টি প্লট তৈরির মাধ্যমে নতুন ইন্ডাস্ট্রি স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এতে ইন্দ্রপুল শিল্পাঞ্চলে বর্তমান ৫০টির সঙ্গে আরো যুক্ত হবে ৩০ ইন্ডাস্ট্রি। ফলে বিসিকসহ পটিয়ার দেড় শতাধিক ইন্ডাস্ট্রি উৎপাদনে গেলে এখানে ১০ হাজারের অধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বর্তমানে পটিয়ার ইন্দ্রপুলের বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। শুধু তাই নয়, এখানে দিন দিন পণ্য আনা-নেয়ায় বোটের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বর্তমানে পণ্য খালাসে ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তাই এখন থেকে পরিকল্পিতভাবে ইন্দ্রপুল শিল্পাঞ্চলে জেটি স্থাপন করা হলে এসব ইন্ডাস্ট্রির পাশাপাশি সরকারও বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আদায় করতে পারবে। এস এম আলী সল্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী বলেন, খালে অবস্থানকারী বোট থেকে পণ্য খালাসের কোনো পরিবেশ ইন্দ্রপোল শিল্পাঞ্চলে নেই। ভালো সুবিধা নিশ্চিত করা হলে যে কেউ এখানে জেটির টোল দিতে কার্পণ্য করবেন না। এতে সরকার বিপুল রাজস্ব পেতে পারে। ইন্দ্রপুল শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক আহ্বায়ক কাউন্সিলর আবদুল খালেক আল্লাই বলেন, ইন্দ্রপোল শিল্পাঞ্চল একটি প্রাচীন শিল্প জোন। এখানে উৎপাদিত লবণ সারা বাংলাদেশের ৪০ ভাগ চাহিদা পূরণ করে থাকে। সে হিসেবে এখানে ৫ হাজার শ্রমিক কর্মরত। এ শ্রমিকদের কল্যাণে এখানে তেমন কোনো সুবিধা নেই বললেই চলে। তিনি সর্ব প্রথমে শ্রমিকদের ঝুঁকি মুক্ত করতে এখানে অবিলম্বে একটি জেটি নির্মাণের দাবি জানান। : ইন্দ্রপুল লবণ মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাবেক কমিশনার ফজলুল হক বলেন, মিল মালিকদের চাহিদা মোতাবেক শিল্প মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিলে সমিতির পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। মালিক সমিতির সভাপতি ও পটিয়া পৌরসভার মেয়র অধ্যাপক হারুনুর রশীদ বলেন, এ ব্যাপারে মিল মালিকদের পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাবনা এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস বলেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন স্বাধীন মত ও তথ্যপ্রকাশের ক্ষেত্রে বড় হুমকি। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
37392 জন