২০১০ সালে নিয়োগ পেলেও নিবন্ধন ১৩ সালে, এমপিও’র সুপারিশে সমালোচনা
অভিযোগে মাউশি’র তদন্ত কার্যক্রম
Published : Thursday, 1 February, 2018 at 12:00 AM
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি : ঐতিহ্যবাহী খুলনার কপিলমুনি কলেজের অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া বাংলা বিভাগের ভুয়া সার্টিফিকেটধারী বহু বিতর্কিত শিক্ষক দীপ্তি দত্ত’র এমপিও পেতে ফের অপতৎপরতা নিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট মিড়িয়ায় ব্যাপক লেখালেখি হলে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক দৌড়-ঝাঁপ শুরু করছেন তিনি ও তার পরিবার। উপর মহলেও শুরু করেছেন ব্যাপক তদবির। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে কলেজের এক শিক্ষকের দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৭ জানুয়ারি মাউশির একটি প্রতিনিধিদল কপিলমুনি কলেজে তদন্তে আসলে অভিযুক্ত দীপ্তি তার প্রথম নিবন্ধন সার্টিফিকেটটি তঞ্চকতাপূর্ণ বলে স্বীকার করলেও ৩ বছর পরে পাস করেছেন বলে জানান। তবে কলেজ ফাইল থেকে তার প্রথম সার্টিফিকেটটি হারিয়ে গেছে বলে জানান অধ্যক্ষ। এর আগে পরিচালনা পরিষদ তার এমপিও’র ফের একটি সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযোগে জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি কলেজ বাংলা বিভাগের প্রভাষকসহ বিভিন্ন শূন্যপদে ২০১০ সালের ৩১ মার্চ দৈনিক জনকণ্ঠসহ একাধিক পত্রিকায় একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০১০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পরীক্ষার সাক্ষাৎকার বোর্ডের সুপারিশে ১৯ সেপ্টেম্বর কলেজ পরিচালনা পরিষদের ১৯৮ নং সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাংলা বিভাগের প্রভাষক পদে তালা উপজেলার ঘোষনগর গ্রামের জয়ন্ত কুমার পালের স্ত্রী দীপ্তি দত্তকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপূর্বক যোগদানপত্র দেন কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ সহর আলী গাজী। প্রসঙ্গত, ওই পদে ১০ জন প্রার্থী আবেদন করলেও লিখিত পরীক্ষা দেন মাত্র ৩ জন। এদের মধ্যে দীপ্তি দত্তকে নিয়োগ দিলেও তার শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ছিল না। অথচ জেনারেল বিভাগে শূন্য পদে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক ছিল। কলেজ সূত্র জানায়, এর আগে দীপ্তি দত্ত একই কলেজের অনার্স কোর্সে চাকরিরত ছিলেন। পরে বাংলা বিভাগে শূন্য পদে নিয়োগ দিলে তিনি সেখানে আবেদন করেন। উল্লিখিত, ওই পদের অপর প্রার্থীদের নিবন্ধন থাকা সত্ত্বেও দীপ্তি দত্তকে তৎকালীন কমিটি এক অজ্ঞাত কারণে নিয়োগ দেন। জানা গেছে, দীপ্তি দত্তকে ২০১০ সালে নিয়োগ দিলেও তিনি কলেজ শিক্ষক নিবন্ধন পাস করেন ২০১৩ সালে। এর আগে একাধিকবার এমপিও’র জন্য সুপারিশ পাঠালেও তঞ্চকতাপূর্ণ কাগজপত্রের কারণে ফাইলটি বারংবার ফেরত আসে। এরপর ২০১৪ সালের ১৪ মে ২২৭ নং ও ২০১৫ সালের ২০ অক্টোবর ২৩৭ নং সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক তার এমপিও’র সুপারিশ পাঠায় পরিচালনা পরিষদ। অভিযোগ ওই সময়ে পাঠানো এমপিও সুপারিশ ফাইলের কলেজ অফিস কপিতে তার সে সময়কার নিবন্ধনপত্রটি পাওয়া যাচ্ছে না। উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে সম্প্রতি পরিচালনা পরিষদের এক সদস্য ও সাংবাদিক অধ্যক্ষকে এনিয়ে দীপ্তির কাগজপত্র দেখতে চাইলে অধ্যক্ষ হাবিবুল্যাহ বাহার তাকে এমনটিই জানান। এদিকে কলেজের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রভাষক বর্তমান (বাংলা) তাইয়িবুন্নাহার মাউশি বরাবর একটি আবেদন করেন যে, তাকে কলেজ কর্তৃপক্ষ জোরপূর্বক তার পদ থেকে অপসারণের অপতৎপরতা চালাচ্ছে এবং তদস্থলে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া জাল সার্টিফিকেটধারী শিক্ষক দীপ্তি দত্তকে স্থলাভিষিক্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ জানুয়ারি মাউশির সহকারী পরিচালক সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তদন্ত করতে কপিলমুনি কলেজে আসেন। এসময় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের একাংশ তাকে জোরপূর্বক অপসারণের চেষ্টা করা হচ্ছে অংশটি মিথ্যা প্রমাণিত হলেও এসময় দীপ্তি তার প্রথম সার্টিফিকেটটি জাল ছিল বলে স্বীকার করেন। এব্যাপারে তাইয়িবুন্নাহারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় উচ্চমাধ্যমিক স্তরে নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বলা হয়, নতুন করে ১১ বিষয়ে কলেজ শিক্ষকরা এমপিও পাবেন। এতে আরো বলা হয়, শিক্ষাক্রমের আলোকে বিষয় পরিবর্তন হলেও কর্মরত কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষকের চাকরি যাবে না বা এমপিও বাতিল হবে না। তবে তাদের চাকরির মেয়াদ শেষ হলে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে শিক্ষাক্রম-২০১২’র আলোকে উক্ত ১১ বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস বলেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন স্বাধীন মত ও তথ্যপ্রকাশের ক্ষেত্রে বড় হুমকি। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
37389 জন