নলডাঙ্গার হালতি বিলে বোরো উৎপাদনে কৃষকদের শঙ্কা
জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধান দাবি
Published : Thursday, 1 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 31.01.2018 9:20:38 PM
নলডাঙ্গার হালতি বিলে বোরো উৎপাদনে কৃষকদের শঙ্কারানা আহমেদ, নলডাঙ্গা (নাটোর) : গত বছর বন্যায় ৯৩০ হেক্টর জমির আমন ধান ডুবে ১১ কোটির টাকার ক্ষতির পর এবার আবারো নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার হালতি বিলে জলাবদ্ধতায় প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান চাষ নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। পানি নিষ্কাশনের হালতি বিলের একমাত্র খাল দখল করে ভরাট করায় পানি নিষ্কশনের পথ বন্ধ হওয়ায় এ জলাদ্ধতার সৃষ্টি হয় প্রতি বছর। গত দুই বছর আগে ভুক্তভোগী কৃষকরা নিজ উদ্যোগে এবং স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন দুই মৌসুমে খাল সংস্কার করে জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশন করার ব্যবস্থা করে বোরো ধান চাষ করার সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। এবার এ জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়ে এর প্রতিকার না পেয়ে ৮ গ্রামের শ’ শ’ ভুক্তভোগী কৃষক হতাশায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ভরাট করে দখল করা ২০ কিলোমিটার খাল উদ্ধার করে সংস্কার না করলে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধান হবে না বলে মনে করেন স্থানীয়রা। প্রতি বছর এ সময় জলাবদ্ধতা নিরসন করা নিয়ে দুচিন্তায় ক্লান্ত ভুক্তভোগী এসব কৃষক অভিযোগ করেন, হালতি বিলের খোলাবাড়িয়া গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি অবৈধভাবে ভরাট করে দখল এবং পানি নিষ্কাশনের পথ আটকে মাছ শিকার করায় জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশন  ব্যবস্থা এবার করা যাচ্ছে না। সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, ১৯৮১ সালে উপজেলার হালতি বিলে ব্রহ্মপুর ইউনিয়নের ইয়ারপুর থেকে মোহনপুর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার  এলাকাজুড়ে জিয়া খাল নামে একটি  খাল খনন হয়েছিল। সংস্কারের অভাবে সেই খাল আজ অবৈধ দখল ও ভরাট হয়ে বিলুপ্তির পথে যাওয়ায় প্রতি বছর সৃষ্ট জলবদ্ধতায় হালতি বিলের প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির ইরি-বোরো চাষ নিয়ে শষ্কায় পড়েন। বিশেষ করে  খোলাবাড়িয়া গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া জিয়া খালের উৎসমুখসহ এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে  অবৈধভাবে ভরাট করে দখল ও পানি নিষ্কাশনের সব পথ আটকে মাছ শিকার করায় খালটি দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে উপজেলার বাঁঁশিলা, সোনাপাতিল, তেঘরিয়া, মাধনগর, খোলাবাড়িয়া, হালতি, পাটুলসহ ৮টি গ্রামের শ’ শ’ কৃষককের  প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে জলবদ্ধতার কারণে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে বোরো ধান চাষ নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন। গত দুই বছর আগে ভুক্তভোগী কৃষকরা নিজ উদ্যোগে খাল সংস্কার করে জলাবদ্ধতার পানি নিষ্কাশন করে বোরো ধান চাষ করেছিলেন। গত বছর স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ভরাট করে দখল করা খালটি উদ্ধার করে খনন করে জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নিলেও শেষ হওয়ার আগেই রহস্যজনকভাবে সংস্কার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এবার এ পরিস্থিতিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে ভুক্তভোগী কৃষকরা স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা কৃষি অফিস, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ইউএনওর  কাছে প্রতিকার চেয়েও কোনো কাজ না হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন। তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক সাইদুর, সিদ্দিকুর রহমান, আতিকুল ইসলাম, শামসুল ইসলাম জানান, খোলাবাড়িয়া গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া  জিয়া খাল অবৈধ দখল করে ভরাট করায় হালতি বিলের নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে ফলে আমরা সময়মতো ধান লাগাতে পারি না। আর বোরো ধান বিলম্বে লাগালে ফলন বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা থাকে। তেঘরিয়া গ্রামের কৃষক ফরমাজুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, মসলেম উদ্দিন  জানান, দুই বছর আগে নিজ উদ্যোগে ও গত বছর প্রশাসনের উদ্যোগে জলাবদ্ধতা নিরসনে খোলাবাড়িয়া গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া খালটি সংস্কার করে পানি নিষ্কাশন করে বোরো আবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু এবার ওই খালটি অবৈধভাবে দখল করে ভরাট করে মাছ শিকার করায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবার করা যাচ্ছে না। কৃষক মোজ্জামেল হক ও গফুর মন্ডল জানান, হালতি বিলে প্রতি বছরের সমস্যা জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের জন্য কৃষিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস বলেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন স্বাধীন মত ও তথ্যপ্রকাশের ক্ষেত্রে বড় হুমকি। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
37388 জন