সহায়ক সরকার গঠনের বিধান  নেই : প্রধানমন্ত্রী
Published : Thursday, 1 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 31.01.2018 9:55:25 PM
দিনকাল রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপির সহায়ক সরকারের দাবি অসাংবিধানিক। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে, তা ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করবে। এ সময় সরকারের পরিসর ছোট করা হবে। সরকার নির্বাচনের সময়ে শুধু রুটিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে না। : গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে সরকারের চতুর্থ বর্ষপূর্তির দিন জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হবে। কিন্তু সে সরকার কেমন হবে তার ব্যাখ্যা ওই বক্তব্যে ছিল না। সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য তানভীর ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে, তার একটি ব্যাখ্যা দেন। সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন হচ্ছে সংবিধান। সংবিধান অনুযায়ী সহায়ক সরকার বলে কোনো সরকার গঠন করার বিধান নেই।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিএনপি কোনো দিনই গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার পে ছিল না। আর এ জন্যই বর্তমানে তারা অসাংবিধানিকভাবে সহায়ক সরকারের দাবি করে আসছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের সরকার গণতন্ত্রকে সব সময় সমুন্নত রাখবে। সে জন্য সংবিধান পরিপন্থী কোনো সরকারব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করব না।’ : বিএনপির অবৈধ দাবি করা অভ্যাস : প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জন্ম নিয়েছে মার্শাল ল’ জারি করে সংবিধান লঙ্ঘন করার মাধ্যমে অবৈধ পথে। তাই অবৈধ দাবি করাটা তাদের অভ্যাস। জিয়াউর রহমানের আমলে ভোটারবিহীন গণভোট (হ্যাঁ/না ভোট) করেছিল বিএনপি এবং সামরিক বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে কোনো নিয়মনীতি অনুসরণ না করে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে জিয়াউর রহমান নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে এবং সরকার গঠন করেন। বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে পরবর্তী সময়ে তার এই কর্মকা  অবৈধ ঘোষিত হয়েছে। : বিএনপি নির্বাচনি-ব্যবস্থা ধ্বংস করেছিল : তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রোপট বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি মতায় এসে সরকার গঠন করার পর মাগুরা ও ঢাকার উপনির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপি করেছিল। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে অবৈধ সরকার গঠন করে বিএনপি। গণ-আন্দোলনের মুখে দেড় মাসের মধ্যে তাদের পতন ঘটে। ওই সময়ে বিএনপি নির্বাচনি-ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছিল। ২০০৬ সালে বাংলাদেশের সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্পষ্ট রূপরেখা থাকা সত্ত্বেও তাদের পছন্দসই ব্যক্তিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার চেষ্টা করে নির্বাচনের নামে প্রহসন করার উদ্দেশ্য থাকায় দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার দুই বছর মতায় থাকে। : এর আগে কাকরাইলে আন্তর্জাতিক সুপ্রিম অডিট ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের ধারাবাহিক দুই মেয়াদে দেশে দুর্নীতি অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন এখন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে উল্লেখ করে সরকারের এমপি-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুশাসন নিশ্চিত ও দুর্নীতি হ্রাসের ল্েয আধুনিক অডিট ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অডিট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। টাকা-পয়সা নিয়ে কোনো প্রকার দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অডিটের গুরুত্বও বেড়ে গেছে। একজন মানুষ চাকরিতে প্রবেশ করার পর থেকে অবসর পর্যন্ত প্রতিটি েেত্র অডিটের গুরুত্ব রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ডিজিটাল হওয়ার ফলে অডিট কার্যক্রমও ডিজিটাল হয়ে গেছে। তবে সাইবার ক্রাইম বলতে একটা শব্দ আছে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেন কেউ জানতে না পারে সে জন্যও সজাগ থাকতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা চুরি হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, এসডিজির ল্যমাত্রা অর্জনে আমরা কাজ করছি। অনেক েেত্র আমরা বিশ্বের উন্নত দেশ থেকে অগ্রগামী। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ৮ লাখ। ই-টেন্ডারের কারণে এখন আর টেন্ডারের বাক্স ছিনতাই হয় না। দুদক অত্যন্ত স্বাধীনভাবে কাজ করছে। অনেক মন্ত্রী-এমপির বিষয়েও দুদক কাজ করছে। সে বিষয়ে আমরা কোনো বাধা দেই না। বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, অবৈধভাবে মতা দখলকারীরা কখনওই দেশের উন্নতি করতে পারে না। কারণ তারা মতা ধরে রাখতেই ব্যস্ত থাকে। রাজধানীর কাকরাইলে ৭৭/৭ অডিট ভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান এবং অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অডিটর জেনারেল মাসুদ আহমেদ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস বলেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন স্বাধীন মত ও তথ্যপ্রকাশের ক্ষেত্রে বড় হুমকি। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
37393 জন