বিএনপি নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে পুলিশি তল্লাশির নামে হয়রানি : ভাঙচুর
Published : Thursday, 1 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 31.01.2018 9:55:16 PM
দিনকাল রিপোর্ট : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের ছেলে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিএনপির সহ-সাধারন সম্পাদক হাজী লিটনসহ দেড় শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই সাথে তল্লাশির নামে চলছে ঘরে ঘরে ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের সাথে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ। এদিকে বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে হাইকোর্টের সামনে পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও প্রিজন ভ্যান থেকে আটক দুই ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা তিনটি মামলায় দলটির ৯০০ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।  বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে গুলশান পুলিশ প্লাজার সামনে থেকে মঙ্গলবার রাত সোয়া ১০টার দিকে পুলিশ আটক করে। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। শান্তিনগরের বাসা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে আটক করেছে পুলিশ। জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ঢাকা দেিণর সভানেত্রী রাজিয়া আলিমসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।  গতকাল বুধবার রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকায় থেকে বিএনপির ৪৫ জনকে আটক করা হয়েছে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় হাজিরা দিতে বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে যান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তাকে এগিয়ে দিয়ে নেতাকর্মীদের অধিকাংশই হাইকোর্টের ভেতরে অবস্থান নেন। পুলিশ সেখান থেকে তাদের আটক করে। আটককৃতদের প্রথমে প্রিজনভ্যানে রেখে পরে থানায় নেয়া হচ্ছে। এদিকে মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহর ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা করে। এ সময় নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে সেখান থেকে পুলিশ বিএনপির শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়। : মঙ্গলবার রাতে রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহিবুল্লাহ রমনা থানায় একটি এবং শাহবাগ থানার এসআই রহিদুল ইসলাম ও এসআই চম্পক বাদী হয়ে আরো দুটি মামলা করেন। বিশেষ মতা আইন এবং পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে এ তিনটি মামলা করা হয়েছে। : এদিকে মঙ্গলবার রাতে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের বাসভবনে পুলিশ হানা দিয়ে দেশের বর্ষীয়ান আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের খোঁজখবর করে। এছাড়াও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর শান্তিনগরের বাসভবন, যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের বাসভবন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুর বাসভবন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানের পল্লবীর বাসভবন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও আইনজীবী রফিক সিকদারের বাসা, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেরা আলাউদ্দিনের শান্তিনগরের বাসভবন, জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আজিজুল হাকিম আরজ’র বাসাসহ শত শত বিএনপি নেতাকর্মীর বাসায় বাসায় পুলিশি তল্লাশির নামে ব্যাপক তান্ডব চালানো হয়েছে। পুলিশ জিঞ্জিরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মামুনের বাসায় হানা দিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। কারণ মামুনের বাসায় বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মাঝে মাঝে ঘরোয়া বৈঠক করতেন। অভিযোগ করে তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ ইয়াসিন আলীকে মিথ্যা মামলায় রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করছে পুলিশ। : এ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বলা হচ্ছে, পুলিশের ভ্যান থেকে দুজনকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। কারা এই হামলা চালিয়েছে, তাদের আমরা চিনতে পারছি না। আমরা আশঙ্কা করছি, তারা অনুপ্রবেশকারী। তাদের সম্পর্কে আমরা কোনো কিছু জানি না। আমরা ধারণা করছি, নাশকতা করার জন্য তারা এটা করেছে। তিনি বলেন,  মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে বিরোধীদলশূন্য রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করতে চায় বর্তমান সরকার। বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে ধ্বংস করে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার জন্যই সরকার একদিকে যেমন বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সপ্তাহের অধিকাংশ দিন আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য করছে একইভাবে বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ দেশব্যাপী প্রতিনিয়ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে পথের কাঁটা দূর করতে চাচ্ছে। সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের মামলা ও আটককে তাদের প্রাত্যহিক কর্মে পরিণত করেছে। বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে গ্রেফতার সরকারের অশুভ ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবাহী। : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, গয়েশ্বর রায় একজন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এ রকম একজন জাতীয় নেতাকে রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া কোন সভ্য দেশের সরকারের আচরণ নয়। এর মাধ্যমে সরকার কি বার্তা দিতে চাইছে? তারা বলতে চাইছে আমরা যা বলব তাই করব, তাই হবে। ৮ ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে সরকার একটি অশুভ পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে। : রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মাঈনুল ইসলাম বলেন, এসআই মহিবুল্লাহ রমনা থানায় শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মীর নামে মামলা করেছেন। যার ভেতরে ৩৬ জন গ্রেফতার আছে। বাকিদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত আছে। অন্যদিকে শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু জাফর বলেন, দুই মামলায় ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস বলেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন স্বাধীন মত ও তথ্যপ্রকাশের ক্ষেত্রে বড় হুমকি। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
37394 জন