প্রধানমন্ত্রীর ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে আদালতে দুই পক্ষের বাগবিতণ্ডা
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় দুদকের হাস্যকর যুক্তি উপস্থাপন
Published : Thursday, 1 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 31.01.2018 9:54:58 PM
জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় দুদকের হাস্যকর যুক্তি উপস্থাপনরফিক মৃধা, দিনকাল : জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় দুদকের আইনজীবী হাস্যকর খোঁড়া যুক্তি দেখিয়েছেন বলে আদালতে জানিয়েছেন হারিছ চৌধুরীর এপিএস জিয়াউল ইসলাম মুন্নার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম। বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় অন্য আসামিদের যুক্তিতর্কে উপস্থিত হন। বেগম খালেদা জিয়া আদালতে উপস্থিত হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবী আদালতকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সিলেটে গিয়ে ভোট চাইবেন আর আমরা আদালতে পড়ে থাকব কেন এমন যুক্তিতে দুই পরে আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। দুই পরে আইনজীবীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় থামাতে না পেরে একপর্যায়ে এজলাস ছেড়ে যান বিচারক। গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালত-৫-এ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গতকাল বুধবার ছিল এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দ্বিতীয় দিন। বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর এপিএস জিয়াউল ইসলাম মুন্নার পে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন তার আইনজীবী আমিনুল ইসলাম। শুনানির একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফরের প্রসঙ্গে টেনে আনেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সিলেটে জনসভায় ভাষণ দেয়া প্রধানমন্ত্রীর কাজ কি না। শুনানির শুরুতে মঙ্গলবার দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলের বক্তব্যের সূত্র ধরে আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলতে থাকেন, দুদক বলছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে কোনো কাজ হয়নি। অথচ কাকরাইলে ৪২ কাঠা জমি ট্রাস্টের নামে কেনা হয়েছে। এটা কি বেগম খালেদা জিয়ার নামে করা হয়েছে? না, এটা ট্রাস্টের সম্পত্তি। ২০০৫ সালের ১৯ জানুয়ারি এই জমি কেনা হয়। ২০০৫ সালের পর বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে একটি সহিংস আন্দোলন হয়। এরপর মতা গ্রহণ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার। দুদকের আইনজীবী বলছেন, ২০০৫ সালের পর এই ট্রাস্টে কোনো লেনদেন হয়নি। এমন সহিংস আন্দোলনের পর লেনদেনের সুযোগ দিলেন কোথায়? ট্রাস্টের নামে জমি আছে, ভবন আছে, আর কী করতে হবে? দুদকের আইনজীবী হাস্যকর খোঁড়া যুক্তি দেখিয়েছেন। : শুনানির সময় দুদকের আইনজীবী বলেছিলেন, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের ব্যাংক হিসাবে বেগম খালেদা জিয়া তার প্রধানমন্ত্রীর পদ গোপন করেছিলেন। আবার ট্রাস্টের ঠিকানা তিনি দিয়েছেন মইনুল হোসেন রোডের। : দুদকের আইনজীবীর এই বক্তব্যের সূত্র ধরে আমিনুল ইসলাম পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ট্রাস্টের হিসাবে কেন প্রধানমন্ত্রীর পদ লিখবেন? প্রত্যেক মানুষের দাফতরিক ও ব্যক্তিগত কাজ আছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  সিলেটে গিয়ে যে ভাষণ দিয়ে এসেছেন, সেটা কি প্রধানমন্ত্রীর কাজ? তিনি তো তা-ই করে এসেছেন। : আইনজীবী আমিনুল ইসলামের এই মন্তব্যের পরপরই দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল দাঁড়িয়ে বলতে থাকেন, ‘উনি (আমিনুল ইসলাম) তো সক্রেটিসের মতো কথা বলছেন। উনি তো আইনস্টাইন হয়ে গেছেন। এর নাম কি যুক্তিতর্ক? কেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ আদালতে টেনে আনছেন? দুজনের বাকবিতন্ডার এই পর্যায়ে দুই পরে কয়েকজন আইনজীবীও এতে যোগ দেন। : এই সময় আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান আমিনুল ইসলামের উদ্দেশে বলতে থাকেন, আপনি মামলার প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করুন। তারপরও দুই পরে মধ্যে বাকবিতন্ডা চলতে থাকলে বিচারক দুপুর ১২টার দিকে এজলাস ত্যাগ করেন। তবে সাত মিনিট পর তিনি আবার এজলাসে ফিরে আসেন। এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। ওই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ধার্য করেছেন আদালত। : গতকাল বুধবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট রেজ্জাক আলী খান, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট সানাউলাহ মিয়া, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম সজল, ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন, অ্যাডভোকেট সিমকী ইমাম খান, অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান তপন প্রমুখ। : অপরদিকে আদালতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বিশেষ সহকারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন,  প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন। : পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে প্রতিদিনের মতো অভ্যর্থনা জানাতে নেতাকর্মীদের ঢল : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরা উপলক্ষে আদালতে যাওয়া ও আসার পথে মৎস্য ভবন, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, চানখাঁরপুল ও আদালত প্রাঙ্গণের আশপাশের সড়কে বেগম খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়িকে ঘিরে ব্যাপক শোডাউন তৈরি করে ঢাকা মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকেই এ সব অবস্থান নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। এ সময় বিএনপির ৪৫ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। গতকাল সোয়া তিনটার দিকে পুরান ঢাকার বকশীবাজার আলীয়া মাদরাসার মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালত থেকে বের হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আদালত থেকে বের হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মোড়ে আসলে অপেমাণ দলটির নেতাকর্মীরা তার গাড়িবহরে যুক্ত হন। গাড়িবহর হাইকোর্ট মাজারের সামনে এলে ভেতরে অপেমাণ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী গাড়িবহরে যোগ দেন। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। “খালেদা জিয়া ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই”, “খালেদা জিয়া এগিয়ে চল, আমরা আছি তোমার সাথে”, “জেল জুলুম হুলিয়া, নিতে হবে তুলিয়া” এ ধরনের অসংখ্য নেতাকর্মীর কণ্ঠে শোনা যায়। গাড়ি বহরে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, আ ক ম মোজ্জামেল হক, সোহরাব হোসেন, আমিনুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান, সহ-সভাপতি রবিউল আউয়াল, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ রবিউল আলম রবি, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম মিল্টন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা কামাল রিয়াদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা জগলুল পাশা পাপেল, যুবদল দক্ষিণের সভাপতি রফিকুল আলম মজনু, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজওয়ানুল হোসেন রিয়াজ, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, সহ-সভাপতি আবু আতিক আল হাসান মিন্টু, ইকতিয়ার কবির, মামুন বিল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকমিজানুর রহমান সোহাগ,  ওমর ফারুক মুন্না, আনিসুর রহমান রানা, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, সহ-সাধারণ সম্পাদিকা আরিফা সুলতানা রুমা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মেহেদী তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন,  ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক তানভীর আহমেদ খান ইকরাম প্রমুখ শোডাউনে অংশ নেন। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস বলেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন স্বাধীন মত ও তথ্যপ্রকাশের ক্ষেত্রে বড় হুমকি। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
37409 জন