আ’লীগ নেতাদের মামলাগুলো
Published : Thursday, 1 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 31.01.2018 9:54:48 PM
দিনকাল রিপোর্ট : শেখ হাসিনাসহ দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সব মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। মহাজোট সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৫টি মামলা প্রত্যাহার ও খারিজ করা হয়েছে। এরমধ্যে দুর্নীতির মামলাগুলো হাইকোর্টে শুনানির মাধ্যমে খারিজের রায় প্রদান করা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাগুলো হাইকোর্টের দেয়া খারিজের রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টে অদ্যাবধি আপিল করেনি দুদক। : খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির পর মইন-ফখরুদ্দিন সরকারের আমলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ৬টি মামলা দায়ের করে দুদক। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর শেখ হাসিনার ১৫টি মামলার মধ্যে ৬টি মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়। আর হাইকোর্টে শুনানির মাধ্যমে খারিজ (বাতিল) করা হয় বাকি ৯টি মামলা। শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব মামলায় তাকে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়নি। ২০১০ সালের ৩ মার্চ থেকে  ৩০ মে পর্যন্ত এই তিন মাসে ৯টি মামলা হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চ শুনানি করে খারিজ করা হয়। তৎকালীন একটি দ্বৈত বেঞ্চে বসতেন বিচারপতি মো. শামসুল হুদা ও বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী এবং আর অপর দ্বৈত বেঞ্চে বসতে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও বিচারপতি বোরহান উদ্দিন। : সূত্র মতে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাগুলো ছিল, ফ্রিগেট (যুদ্ধজাহাজ) ক্রয় দুর্নীতি মামলা, মেঘনা ঘাট বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুর্নীতি মামলা, নাইকো দুর্নীতি মামলা এবং ভাসমান বিদ্যুৎ কেন্দ্র দুর্নীতি মামলা এবং বেপজায় পরামর্শক নিয়োগের দুর্নীতি মামলা। নভোথিয়েটার দুর্নীতি সংক্রান্ত পৃথক ৩টি মামলা এবং মিগ-২৯ যুদ্ধ বিমান ক্রয় দুর্নীতি মামলা। বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে ৩ কোটি টাকা চাঁদা নিয়ে খুলনায় ভাসমান বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় দরদাতাকে কাজ দেয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলা করে দুদক। এই চাঁদাবাজি মামলায় ২০০৮ সালের ১৮ মে অভিযোগ গঠনের পর বিশেষ জজ আদালতে মামলার স্যাগ্রহণ শুরু হয়। ২০১০ সালের ১৩ এপ্রিল এ মামলাটি হাইকোর্টে শুনানি করে খারিজের রায় প্রদান করেন বিচারপতি মোহাম্মদ শামসুল হুদার বেঞ্চ। : ২০০১ সালের ১১ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন ব্যুরোর করা মামলায় বেপজায় পরামর্শক নিয়োগে দুর্নীতির ফলে রাষ্ট্রের ২ কোটি ১০ লাখ ১ হাজার ৬৮৮ টাকা তিসাধনের অভিযোগ ছিল শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। ২০১০ সালে ৩০ মে এই মালাটি শুনানি করে হাইকোট খারিজের রায় প্রদান করেন। দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে দণি কোরিয়া থেকে পুরাতন যুদ্ধ জাহাজ (ফ্রিগেট) ক্রয় করে রাষ্ট্রের ৪৪৭ কোটি টাকার তি করার অভিযোগে ২০০২ সালের ৭ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ৫ জনের মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন ব্যুরো। ২০১০ সালের ১৮ মে হাইকোর্ট এই মামলাটি শুনানি করে খারিজের রায় প্রদান করেন। অবৈধভাবে কাজ দিয়ে রাষ্ট্রের ১৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা তির অভিযোগে ২০০১ সালের ১১ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন ব্যুরো। ২০১০ সালের ২২ এপ্রিল এই  মামলাটি শুনানি করে হাইকোর্ট খারিজের রায় প্রদান করেন। : ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর শেখ হাসিনাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতির ফলে রাষ্ট্রের ১৩ হাজার ৬৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা তির অভিযোগে দুদক মামলাটি দায়ের করে। ২০১০ সালের ১১ মার্চ এ মামলাটি হাইকোর্ট শুনানি করে খারিজের রায় প্রদান করেন গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা ও বিচারপতি মোহাম্মদ শামসুল হুদার বেঞ্চ। : নীতিমালা লঙ্ঘন করে রাশিয়া থেকে ৮টি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান ক্রয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ৭০০ কোটি টাকা তির অভিযোগে ২০০১ সালের ১১ ডিসেম্বর  মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন ব্যুরো। ২০০৮ সালের ২০ আগস্ট  শেখ হাসিনাসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিশেষ জজ আদালত। ২০১০ সালের ৯ মার্চ এই মামলাটি শুনানি করে হাইকোর্টের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের বেঞ্চ। মাওলানা ভাসানীর নাম পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার নির্মাণে প্রকল্পে ঠিকাদার নিয়োগে দুর্নীতি, অবৈধভাবে ব্যয় বৃদ্ধি করে রাষ্ট্রের ৫২  কোটি টাকা তির অভিযোগে ২০০২ সালের ২৭ মার্চ তেজগাঁও থানায় ৩টি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন ব্যুরো। ২০১০ সালের ৪ মার্চ এই ৩টি মামলা শুনানি করে খারিজের রায় প্রদান করেন হাইকোর্টের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের বেঞ্চ। : শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে  চাঁদাবাজির অভিযোগে  দায়ের করা মামলার বাদী ব্যবসায়ী নুর আলী, ব্যবসায়ী আজম জে চৌধুরী এবং ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম আদালতে পৃথকভাবে আবেদন জানিয়ে তাদের মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। একইভাবে ২০০৬ সালে ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে সংঘর্ষ এবং হত্যাকান্ডের ঘটনায় পল্টন থানা পুলিশের দায়ের করা মামলাটিও আদালতে আবেদন জানিয়ে প্রত্যাহার করে নেয় পুলিশ কর্মকর্তা। : এদিকে ফুরফুরে মেজাজে আ’লীগ নেতারা : এদিকে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা দুদকের করা অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং নানা দুর্নীতির মামলার অভিযোগ থেকে ধাপে ধাপে অব্যাহতি পেয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমশিনও (দুদক)  তাদের নানা দুর্নীতি, অনিয়ম আর অবৈধ সম্পদের বিষয়ে অনেক নমনীয়। আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দুদকের দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমও অনেকটা থেমে গেছে। যার ফলে ফুরফুরে মেজাজে আছেন প্রধানমন্ত্রীসহ মহাজোট সরকারের নেতারা। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলার বাদী ব্যবসায়ী নুর আলম, আজম জে চৌধুরী এবং তাজুল ইসলাম আদালতে আবেদন জানিয়ে মামলা প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ২০০৬ সালে ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে সংঘর্ষ এবং হত্যাকান্ডের ঘটনায় পল্টন থানা পুলিশের  মামলাটিও আদালতে আবেদন জানিয়ে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। : আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ মহাজোট সমর্থিত শতাধিক সাবেক ও বর্তমান মন্ত্রী, এমপি, নেতা ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের অধিকাংশই হাইকোর্টে বাতিল হয়ে যায়। আবার কিছু মামলা স্থগিত রয়েছে। তবে দুদক এই সব মামলায় হাইকোর্টের আদেশ ও রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করে মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। সম্প্রতি আদালত থেকে দুর্নীতি মামলার অভিযোগ বিচারিক আদালত থেকে অব্যাহতি পেয়েছে বর্তমান গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। : তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক এমপি আলহাজ মকবুল  হোসেন, কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মরহুম এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা পঙ্কজ দেবনাথ এমপি প্রমুখ। এর বাইরেও দুদকই অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আওয়ামী লীগের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আফম রুহুল হক এমপি, আসলামুল হক এমপি, এনামুল হক এনাম এমপিসহ অনেক নেতাকে। ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস এমপি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, এসব মামলা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ইমেজ ও সুনাম ুণœœ করার জন্যই দায়ের করা হয়েছিল। এগুলো ভিত্তিহীন, মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক। যারফলে এসব মামলা  উচ্চ আদালত খারিজ করে দিয়েছেন। : মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে অব্যাহতি : আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরকে (মখা) একটি দুর্নীতি মামলায় ২০০৭ সালের ১৭ অক্টোবর বিশেষ জজ আদালত ১৩ বছরের কারাদন্ড প্রদান করেন। পরে হাইকোর্ট ২০০৯ সালের ১৩ জুলাই  মখাকে ওই মামলায় সাজা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় এবং আপিল বিভাগও হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে। : স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিমকে অব্যাহতি : সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম একটি দুর্নীতির মামলায় অব্যাহতি পেয়েছেন। ২০০৯ সালে ২১ জুলাই বিশেষ জজ আদালত নাসিমের ১৩ ও তার স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ বানুকেও  ৩ বছর কারাদন্ড প্রদান করেন। পরে হাইকোর্টে আপিল করে মামলার সাজা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন নাসিম ও তার স্ত্রী। : অপরদিকে ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেন সরকারের আমলে দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলার অভিযোগ নেতারা কোনো ছাড় পাচ্ছেন না। বিএনপির নেতারা বিচারিক আদালত (নিম্ন আদালত) থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বার বার আবেদন করেও মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন না। আরো পরিতাপের বিষয়, প্রতিটি মামলায় প্রতিদিন বেগম খালেদা জিয়াকেও সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বিচারিক আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকতে হচ্ছে। এই অভিমত ব্যক্ত করেন তার আইনজীবীরা। তার ন্যায় বিচার পাবার বিষয়েও সন্দিহান রয়েছেন। : : : : : : : : : : : : : :   : :  





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস বলেছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন স্বাধীন মত ও তথ্যপ্রকাশের ক্ষেত্রে বড় হুমকি। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
37410 জন