সাঘাটায় ৩২ মাধ্যমিক স্কুলের ৮৬ এসিটি শিক্ষক বেকার
Published : Friday, 2 February, 2018 at 12:00 AM
সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধ ও বিদ্যালয়মুখী করার লক্ষ্যে সেকায়েপ প্রকল্পের আওতায় গাইবান্ধার সাঘাটার ৩২টি স্কুলের নিয়োগকৃত ৮৬ জন এসিটি শিক্ষক কর্মসংস্থান হারিয়ে এখন বেকার। এতে তাদের পাঠদানে শিক্ষার পরিবেশ ও গুণগতমান উন্নয়ন হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে হারিয়ে যাচ্ছে প্রাণচাঞ্চল্যতা। আগামীতে ফলাফলের ক্ষেত্রে আবারও পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানের। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সেকেন্ডারী এডুকেশন কোয়ালিটি এ্যান্ড অ্যাক্সেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্টের (সেকায়েপ) অধীনে উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় এডিশনাল ক্লাস টিচার (অতিরিক্ত শ্রেণী শিক্ষক) এসিটি হিসেবে নিয়োগ পান এসব শিক্ষক। মাধ্যমিক পর্যায়ে ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে দুর্বল শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া রোধ, প্রাইভেট কোচিংয়ের প্রতি বিমুখ করে বিদ্যালয়মুখী করে গড়ে তোলাই ছিল এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যে। সে মোতাবেক এসব বিষয়ে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া মেধাবীদেরই নিয়োগ দিয়ে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়। ২০১৫ সালের ১ মার্চ থেকে নিয়োগ পাওয়া এসব শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস ছাড়াও মাসে অন্তত ১৬টি অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে বিদ্যালয়গুলোর ফলাফলের ক্ষেত্রে সফলতার দ্বারে পৌঁছে দিয়েছেন। কচুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুব রাব্বী জানান, প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব শিক্ষকের ক্লাস নেওয়ার আলাদা ধরন ও যতœবান হওয়ায় অমনোযোগী ও দুর্বল শিক্ষার্থীরাও পড়াশুনায় মনোযোগী হয়ে উঠতে থাকে। যে কারণে এসব শিক্ষকের প্রয়োজন ছিল। কুন্দপাড়া ইউনাইটেড স্কুলের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোরশেদ ও বালিকা খাতুন বলেন, স্যারদের আর ক্লাসে না পেয়ে খুব খারাপ লাগছে। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর হঠাৎ প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়ায় উপজেলার ৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৮৬ জন এসিটি শিক্ষক কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছে। এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষে নিয়োগকৃত শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির মাধ্যমে চাকরি স্থায়ীকরণের কথা উল্লেখ থাকলেও এ ধরনের কোন পদক্ষেপ না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা। নিয়োগ প্রাপ্তির পর অন্য কোন চাকরির সন্ধান না করে এ পেশাকেই আঁকড়ে ধরে থাকা এসব শিক্ষকের অধিকাংশেরই সরকারি চাকরির বয়সসীমাও পার হয়ে গেছে। কচুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের এসিটি শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করা মেহেদুল ইসলাম জানান, চাকরি না থাকায় আমিসহ পরিবারের সবাই হতাশায় দিন কাটাচ্ছি। চাকরি স্থায়ীকরণ হলে একদিকে শিক্ষার্থীরা যেমন উপকৃত হবে, অপরদিকে আমরাও বেকার জীবন থেকে মুক্তি পেতাম বলে জানালেন গাছাবাড়ি পূর্বপাড়া দাখিল মাদ্রাসার এসিটির দায়িত্ব পালন করা শিক্ষক কামরুল হাসান ও পদুম শহর উচ্চ বিদ্যালয়ের শেখ সাদি। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বাম মোর্চার নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দমনমূলক শাসনের জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
34473 জন