দুর্গম মন্নিয়ারচর আলোকিত
Published : Friday, 2 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 01.02.2018 9:06:32 PM
দুর্গম মন্নিয়ারচর আলোকিতইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি : জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায় বেলগাছা ইউনিয়নের মন্নিয়ারচর গ্রামে ইডকলের অর্থায়নে ভিনসেন জিটেক-এর বাস্তবায়নে ২৪৯.৬ কিলোওয়াট পিক-এর সোলার মিনি-গ্রীড প্রকল্প স্থাপন করা হয়েছে। যে চরের মানুষ কখনো স্বপ্নেও ভাবে নাই তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ আসবে, সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে ইডকলের সোলার মিনি-গ্রীড প্রকল্পের মাধ্যমে। ফলে আনন্দের বন্যা বইছে গ্রামের মানুষের। সূর্যাস্তের পরেই অন্ধকারে ঢেকে থাকা বিদ্যুৎবিহীন গ্রামটি এখন আলোকিত। : জানা যায়, মন্নিয়া গ্রামটিতে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। জন্ম থেকেই ওই এলাকার মানুষগুলো বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত। আর এতে করে ডিজিটালাইজ তথ্য প্রযুক্তির  যুগে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছিলেন তারা। তবে আজ আর কেউ তাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না। সেখানে আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে (ভিজিএল-১) সোলার মিনি-গ্রীড বিদ্যুৎ কেন্দ্র। মন্নিয়া বাজার সংলগ্ন ভিনসেন জিটেক লিমিটেড ৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ভিজিএল-১ সোলার মিনি-গ্রীড বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপন করেছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ২৪৯.৬ কিঃওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। ইতিমধ্যেই  মন্নিয়াচরের ১৮ কিলোমিটার বিদ্যুৎলাইন সংযোগ প্রদান করে গ্রামটিকে আলোকিত করেছে ভিনসেন জিটেক লিমিটেড। এতে করে কৃষিজমি আবাদ, স’মিল ও রাইস মিলসহ প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান উন্নতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। সরেজমিনে সোলার মিনি-গ্রীড প্রকল্পটি পরিদর্শনে গিয়ে জানা যায়, উৎপাদিত সোলার বিদ্যুৎ থেকে ওই গ্রামের সাতশ’ পরিবারকে সৌরবিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে ভিনসেন জিটেক। ইতোমধ্যে একশত পরিবার এ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। বাকি ঘরগুলোতে আলো পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ও গ্রাহকদেরে সচেতন করতে ইডকলের পরিচালনায় সোলার মিনি-গ্রীড গ্রাহক প্রশিক্ষণ চলছে, যার মাধ্যমে জনমনে সীমাহীন আনন্দ বিরাজ করছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা জানতে পারছে কিভাবে তারা কম খরচে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা যাবে। সোলার মিনি-গ্রীড প্রকল্পের আওতায় মন্নিয়ারচর বাসিন্দা সামাদ আকন্দ সেচপাম্প ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করে ব্যবসায়িক গ্রাহক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। শুরু হয়ে গেছে দুগর্ম যমুনার জেগে উঠা চরে আধুনিক সেচ ব্যবস্থাপনা, যার মাধ্যমে কম খরচে উন্নত ফসল উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছে মন্নিয়ারচর বাসিন্দারা। সেই সাথে অন্ধকার চরে আলোকিত হচ্ছে অনেক পরিবারের ঘর। ঢাকা ডিভিশনের ইডকলের ডিভিশনাল ম্যানেজার নুরুল হুদা জানান, দাতা সংস্থা ইডকল-এর অর্থায়নে ইসলামপুরের মন্নিয়াচরসহ সারা বাংলাদেশে বিছিন্ন চরাঞ্চলে মোট ১৪টি সোলার মিনি-গ্রীড প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার পরিবার এবং ব্যবসায়িক স্থাপনায় শত ভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সুবিধা ভোগ করছে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। বাংলাদেশ সরকারের ভিশন ২১ অর্জনের লক্ষমাত্রা নিয়ে সরকারের পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছে ইডকল। সেই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের মধ্যে ৫০টি সোলার মিনি-গ্রীড বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ইডকল। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা ভিনসেন জিটেক-এর চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি ইসলামপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মোস্তফা আল মাহমুদ জানান, যেহেতু আমার জন্ম চরে আর বর্তমান দুনিয়া বিদ্যুতবিহীন জীবন অন্ধকার জীবন। তাই একদিন চরে বেড়াতে এসে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মানুষের উপকার করার জন্যই দুর্গম এ যমুনার চর; যেখানো কোনদিন বিদ্যুৎ পৌঁছবে না। কারণ চারদিকেই যমুনা নদী। সেখানে বিদ্যুৎবিহীন জীবন থেকে মানুষগুলোকে আলোকিত করতেই আমার এ উদ্যোগে। এখানে লাভের কোনো উদ্দেশ্য নেই মূলত চরবাসীর কল্যাণই আমার উদ্দেশ্য। কারণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মাধ্যমে এই চরাঞ্চলবাসী কৃষি কাজে বৈদ্যুতিক সেচ পাম্পসহ সকল কৃষিযন্ত্র ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়াও চরাঞ্চলবাসী নিজ এলাকায় ক্ষুদ্র শিল্প-কারখানা স্থাপন, স’মিল এবং রাইস মিলসহ পাওয়ার প্লান্টের মাধ্যমে হাসকিং মিল ও নেটওয়ার্কিং-এর সুবিধা পাবে। এতে চরাঞ্চলবাসীর জীবনযাত্রার মান দ্রুত পরিবর্তন হবে। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বাম মোর্চার নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দমনমূলক শাসনের জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
34469 জন