আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্যাতনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে : রিজভী
Published : Friday, 2 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 01.02.2018 9:46:49 PM
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপি নেতাকর্মীদের নির্যাতনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে : রিজভীদিনকাল রিপোর্ট : আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিঃসন্দেহে এখন আওয়ামী লীগের লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আওয়ামী চেতনায় লালিত এই বাহিনীগুলো যেন বিরোধী দলকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়ার জন্যই সরকার প্রধানের কাছে শপথ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে কে কতটা বিএনপি নেতাকর্মীকে নির্যাতন করতে পারে। যেন প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করতেই তারা নির্দয়তার সীমা অতিক্রম করছে। আর এর ওপরেই যেন নির্ভর করে তাদের পুরস্কার, পদোন্নতি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিবেকহীনতা এখন জাতি ও জনগণের জন্য সবচেয়ে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, গতকালও চলেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অমানবিক গ্রেফতারি অভিযান। বিএনপি চেয়ারপারসন ও  সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে অভ্যর্থনা জানাতে আসা বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর ওপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক, পিটিয়ে আহত এবং বিএনপির সিনিয়র গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বাড়িতে বাড়িতে হানা দিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিঃসন্দেহে এখন আওয়ামী লীগের লাঠিয়াল বাহিনী। আওয়ামী চেতনায় লালিত এই বাহিনীগুলো যেন বিরোধী দলকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়ার জন্যই সরকার প্রধানের কাছে শপথ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছে কে কতটা বিএনপি নেতাকর্মীকে নির্যাতন করতে পারে। যেন প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করতেই তারা নির্দয়তার সীমা অতিক্রম করছে। আর এর ওপরেই যেন নির্ভর করে তাদের পুরস্কার, পদোন্নতি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিবেকহীনতা এখন জাতি ও জনগণের জন্য সবচেয়ে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। : তিনি বলেন, জনগণের ভোটে সরকার পরিবর্তনের পথ বন্ধ করে দিয়েছে বর্তমান আওয়ামী মহাজোটের সরকার। এই সরকারের সৃষ্ট দুঃশাসনে জনগণ, ভোট, নির্বাচন, নাগরিক স্বাধীনতাকে যাদুঘরে পাঠিয়ে এখন প্রধানমন্ত্রী নিজে সকল নির্বাচনি আইন অমান্য করে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নৌকায় ভোট চাচ্ছেন। প্রহসন আর কমেডির নানা মাত্রা দেখতে পাওয়া যায় ক্ষমতাসীনদের বড় বড় নেতাদের বক্তব্য-বিবৃতিতে। প্রধানমন্ত্রীর ভোট চাওয়ার বক্তৃতায় তিনি নিজে প্রমাণ করছেন যে, তার নেতৃত্বাধীন সরকার কতটা বিবেকহীন, স্বার্থপর ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বার বার আদালতে হাজিরা দিতে বাধ্য করতে যে নিষ্ঠুর হয়রানির দৃষ্টান্ত  স্থাপন করা হচ্ছে তা কারো অগোচরে নেই। এমনিতেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার গঠনের ব্যবস্থা বিলীন করে দিয়েছে বর্তমান ভোটারবিহীন শাসকগোষ্ঠী। রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী ভোট চাইবেন আর দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী আদালতে হাজিরা দিতে থাকবেন, এই বৈপরীত্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে জনগণের মনে ক্ষোভের সাইকোন বয়ে যাচ্ছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জাল নথির সাজানো মামলায় বিচারের নামে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার বিচার জাতীয়তাবাদী শক্তি ও জনগণ সকল নিপীড়ন-নির্যাতন সহ্য করে প্রতিবাদে-প্রতিরোধে বাধার বিন্ধ্যাচলের ন্যায় দাঁড়াবে। সরকারের পেটোয়া বাহিনীদের নিক্ষিপ্ত গুলি বুকে বরণ করে নিয়েও নীতি, আদর্শ, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী চেতনায় বলীয়ান বিএনপি নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকে তাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না। : সারাদেশে পুলিশি তান্ডবের চিত্র তুলে ধরে রিজভী বলেন, ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল শওকত সরদারকে গতকাল পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের বড় ছেলে সুনিন্দ্য ইসলাম সুমিত, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন, যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুজিবর রহমান, মুন্সিগঞ্জ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মোল্লা, যুবদল নেতা সেলিমকে গতকাল পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালামের বাসায় পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। :   তিনি আরো বলেন, রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আরমান মৃধাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ ও বাঘা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আবদুস সালামের বাড়িতে তল্লাশির নামে পুলিশ ভাঙচুর করেছে। নোয়াখালী জেলার জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং কাবিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাহার ও সেনবাগ উপজেলা যুবদলের সভাপতি মির্জা মোস্তফা ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এছাড়া ৬১ জন নেতাকর্মীর বাড়ি বাড়ি তল্লাশির নামে পুলিশ তান্ডব চালিয়েছে। চাঁদপুর জেলার চাঁদপুর জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ মানিক মিয়া, কচুয়া উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বোরহান উদ্দিন বাহার এবং উপজেলা বিএনপির নেতা লিটনকে ম্যাডামের গাড়ি বহর থেকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। : সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আমি বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতার এবং সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় তল্লাশির নামে পুলিশের তান্ডবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা-বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি। : সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আতাউর রহমান ঢালী, ডা. আবদুল কুদ্দুস, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু, মো. মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতা এটিএম কামাল প্রমুখ। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বাম মোর্চার নেতৃবৃন্দ বলেছেন, দমনমূলক শাসনের জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
10 জন