নতুন প্রধান বিচারপতি হলেন সৈয়দ মাহমুদ হোসেন : শপথ আজ
Published : Saturday, 3 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 02.02.2018 11:11:55 PM
নতুন প্রধান বিচারপতি হলেন সৈয়দ মাহমুদ হোসেন : শপথ আজদিনকাল রিপোর্ট : আবারও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে সরকার আপিল বিভাগের বিচারপতি  সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগে দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আপিল বিভাগের বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগদান করেন।  আজ শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নতুন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি। : গতকাল গণমাধ্যমকে নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে নিয়োগদান এবং আজ শনিবার শপথ অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদিন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব বলেন, গতকালই রাষ্ট্রপতি নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে নিয়োগদানের আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। আর এই নিয়োগের বিষয়ে গতকালই আইন মন্ত্রণালয়র মাধ্যমে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। : সূত্রমতে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পাঁচজন বিচারপতির মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞার চাকরির মেয়াদ রয়েছে ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। জ্যেষ্ঠতার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বিচারপতি মো. ইমান আলী, চতুর্থ স্থানে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও পঞ্চম স্থানে রয়েছেন বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। : এদিকে গতকাল শুক্রবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, রাষ্ট্রপতির দফতর থেকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এরপরই আইন মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। : ঢাকার আগারগাঁওস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সাধারণ সভায়ও আইনমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ব্যাপারটি রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার। সংবিধান অনুযায়ী তিনি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ প্রদান করেন। : নতুন প্রধান বিচারপতির তথ্য: সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, বিএসসি ডিগ্রি পাওয়ার পর বিচারপতি  সৈয়দ মাহমুদ হোসেন এলএলবি সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৮১ সালে জেলা জজ আদালতে ও ১৯৮৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগে অ্যাডভোকেট হিসেবে তিনি অন্তর্ভুক্ত হন। এরপর ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। পরে বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ২০০১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি একই বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। পরে ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। সৈয়দ মাহমুদ  হোসেন দু’বার নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য গঠিত সার্চ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। :  দেশের ২১ তম প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা: এদিকে ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহা। এরপর  প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় আলোচিত কয়েকটি রায় ঘোষণার সরকারের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন। তার আলোচিত রায় এবং বিভিন্ন সভা ও সেমিনারে দেয়ার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বেশ আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। গত বছর সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটির পর আর প্রধান বিচারপতির আসনে বসতে পারেননি। প্রথমে এক মাসের ছুটিতে যান তিনি এরপর আরও ১০ দিনের ছুটিতে যেতে বাধ্য হননি। তার এই ছুটি নিয়ে ওই সময়  নানা বিতর্কের  সৃষ্টি হয়।  এর আগে এক মাসের ছুটি নিয়ে গত ১৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ায় যান এসকে সিনহা। এই ছুটি শেষ হয় গত ১০ নভেম্বর। পরে গত বছরের ১১ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার ছুটিতে বিদেশে অবস্থানকালেই (প্রধান বিচারপতির) পদত্যাগপত্র পৌঁছায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনও প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের ঘটনা এটাই প্রথম। ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি।  প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচার মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা।  ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত তার চাকরির মেয়াদ ছিল। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন,  সরকার মিডিয়ার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আপনি তা বিশ্বাস করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
8293 জন