তিস্তার চরে স্কোয়াশ চাষ
Published : Sunday, 4 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 03.02.2018 7:52:49 PM
তিস্তার চরে স্কোয়াশ চাষসারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) থেকে : রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তিস্তা নদীর ধুু-ধু বালুচরে কৃষিতে আশার আলো দেখছে কৃষকেরা, মিষ্টি কুমড়া ও স্কোয়াশ চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা। চরে উৎপাদিত মিষ্টি কুমড়া ও স্কোয়াশ এলাকার চাহিদা পূরণ করে রফতানি হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের সহায়তায় দ্বিতীয়বারের মতো কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর জেগে উঠা ধু-ধু বালুচরে চাষ করা হচ্ছে বিভিন্ন জাতের মিষ্টি কুমড়া ও থাইল্যান্ডের স্কোয়াশ সবজি। এ যেন বালুচরে কৃষকের আশার আলো সবজি চাষে নতুন দিগন্ত। স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী ও কৃষিতে লাভজনক মিষ্টি কুমড়া ও থাইল্যান্ডের স্কোয়াশ উপজেলার তালুকশাহবাজ, চর রাজীব ও হরিচরণশর্মা চরে ৬০ হাজার মিষ্টি কুমড়া ও ৩০ হাজার স্কোয়াশ সবজি গর্তে চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে তাক লাগিয়ে দিয়েছে অন্য চরাঞ্চলের হাজারও কৃষকসহ বিভিন্ন জেলার মানুষকে। তিস্তার ধু-ধু বালুচর এখন সবুজে ছেয়ে গেছে। চরের কৃষক জানায়, আগামী মৌসুমে এর চাষ আরও অনেকাংশে বাড়বে। কাউনিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, তাদের কারিগরি সহায়তায় উপজেলা পরিষদের আর্থিক সহযোগিতায় এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুবোল চন্দ্র ও এমদাদুল হকের তত্ত্ব¡াবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ৯০ হাজার  গর্তে কাশিহরি, দেবগীরি, কালো পাথড়ী, ব্যাংকক-১ জাতের কুমড়া ও থাইল্যান্ড ও হাইব্রীড জাতের স্কোয়াশ চাষ করা হয়েছে। তালুকশাহবাজ গ্রামের ২শ’ জন, হরিচরণশর্মা ও চর রাজীব গ্রামের ৩শ’ জন কৃষক-কৃষাণিকে উদ্বুদ্ধ করে চলতি মৌসুমে মিষ্টি কুমড়া ও স্কোয়াশ চাষ করা হয়েছে। চাষি নিশি চন্দ্র, শফিকুল ইসলাম, মিন্টু মিয়া, মালা রানী, নিরঞ্জন চন্দ্র জানান, বাংলাদেশের শসাজাতীয় এ সবজির স্বাদ অন্যান্য সবজির স্বাদের চেয়ে দ্বিগুণ এবং এর পুষ্টি গুণও অনেক বেশি। ইতোমধ্যে স্কোয়াশ বাজারজাত শুরু হয়েছে। স্কোয়াশ-এর বাজার মূলত ঢাকায় অনেক বেশি, সেখানে প্রতিটি স্কোয়াশ বিক্রি হয় ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং ১টি করে মিষ্টি কুমড়া স্থানীয় বাজারে যেটি ৩০/৪০ টাকায় বিক্রি হলেও সেটি ঢাকায় ১শ’ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়। তারা জানায়, ইতোমধ্যেই ঢাকার ব্যবসায়ীরা তাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। আর স্থানীয় বাজারে দাম একটু কম হলেও এর চাহিদা বেশ ভাল। তবে তারা জানায়, স্কোয়াশ চাষে ফলনও বেশি হয় এবং এর রোগবালাই নেই বললেই চলে। চাষিরা তাদের বালুচরে পতিত জমিতে স্কোয়াশ চাষ করতে পেরে এবং সেখান থেকে অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজে পাওয়ায় তারা বেজায় খুশি। কৃষক নিশি চন্দ্র জানায়, ৩শ’ গর্তে চাষ করতে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৯ হাজার টাকা, আশা করছি প্রায় ২৫ হাজার টাকা আয় হবে। : উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে নভেম্বর মাসে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় চর রাজীবে ৫শ’ কৃষক-কৃষাণির প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে ৯০ হাজার গর্তে মিষ্টি কুমড়া ও স্কোয়াশ চাষ করা হয়েছে। থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা বীজ ও প্রয়োজনীয় সার কৃষকদের দিয়ে চাষ শুরু করা হয়। চরে পানির জন্য গর্ত করে পলিথিন বিছিয়ে পানি সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সেচ দেয়া হয়। রোগবালাই নেই তাই কীটনাশক ব্যবহারও করতে হয় না বললেই চলে; সে জন্য মিষ্টি কুমড়া ও স্কোয়াশ স্বাস্থ্যসম্মত একটি প্রোটিন জাতীয় খাবার। চলতি মৌসুমে মিষ্টি কুমড়া ও স্কোয়াশ গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ জমিতে চাষ করা হয়েছে। : :





দেশের পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করা হচ্ছে না। আপনি তার সঙ্গে একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33988 জন