বোরো মৌসুমে তিস্তা এখন মৃতপ্রায়
Published : Sunday, 4 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 03.02.2018 11:10:26 PM
বোরো মৌসুমে তিস্তা এখন মৃতপ্রায়দিনকাল রিপোর্ট : উজানে গজলডোবা ব্যারেজের মাধ্যমে ভারত একতরফা পানি প্রত্যাহার করায় প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদী ধু-ধু বালুচরে পরিণত হয়। এ বছরেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। খরস্রোতা তিস্তা বর্ষায় ফুলে ফেঁপে দু কূল ভাসিয়ে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। হিংস্র থাবায় ভেঙে নিয়ে যায় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও স্থাপনা। সেই তিস্তা শীত না যেতেই শুকিয়ে ধু-ধু বালুচরের মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। এখন তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট বন্ধ করে রেখেও প্রধান খালে নেয়ার মতো পানি মেইন হেড রেগুলেটরে পাওয়া যায় না। ফলে প্রতি বছর প্রকল্প এলাকা কমিয়েও স্বাভাবিকভাবে সেচ কার্যক্রম চালাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। যেখানে খেয়া পাড়ে বা মাছ ধরতে বর্ষায় হাজারো নৌকা নিয়ে অবারিত ছুটে চলা মাঝি-মাল্লাদের দৌড়-ঝাঁপ থেমে গেছে। পানি আর মাছভর্তি তিস্তার বুকে জেগে উঠেছে ধু-ধু বালুচর। জমি জেগে উঠলেও সেচের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ। কেউ কেউ দূর থেকে পানি এনে বাঁচিয়ে রেখেছেন ফসল। মাছ ধরতে না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন নদীপারের জেলে পরিবারগুলো। নৌকা নয় পায়ে হেঁটেই তিস্তা পাড়ি দিচ্ছে নদীপারের মানুষজন। জানা যায়, ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পর নীলফামারী জেলার কালীগঞ্জ সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ঐতিহাসিক এ তিস্তা নদী। : লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী বন্দর হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের সঙ্গে মিশেছে এ নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩১৫ কিলোমিটার হলেও বাংলাদেশ অংশে রয়েছে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার। ভারতের গজলডোবায় বাঁধ নির্মাণ করে সেই দেশের সরকার একতরফা তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণ করায় শীতেই বাংলাদেশ অংশে তিস্তা মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। ফলে লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলার ১২৫ কিলোমিটার তিস্তার অববাহিকায় জীবনযাত্রা, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। দেশের অন্যতম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার তিস্তা ব্যারেজ অকার্যকর হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত তিস্তা রেলসেতু, তিস্তা সড়ক সেতু ও নির্মাণাধীন দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু যেন প্রহসনমূলকভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে ধু-ধু বালুচরের তিস্তার ওপর। ব্রিজ থাকলেও পায়ে হেঁটেই পার হচ্ছে অনেকেই। ঢেউহীন তিস্তায় রয়েছে শুধু বালুকণা। এছাড়াও মাঝি-মাল্লারাও কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। খেয়াঘাটের মাঝি সাদ্দাম হোসেন বলেন, পানি নাই নৌকা কোথায় চালাই, সবাই হেঁটেই পার হচ্ছে তিস্তা। তিস্তা পারের জেলে শহির মিয়া, মহির উদ্দিন জানান, পানি না থাকায় মাছ নেই তিস্তায়। তাই বেঁচে থাকার তাগিদে পেশা পরিবর্তন করে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন তারা। দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহফুজার রহমান জানান, প্রয়োজনের তুলনায় তিস্তার পানি প্রবাহ অনেক কম। এ বছর সেচ প্রকল্প সচল রাখাই কষ্টকর হবে। : এদিকে ব্যারেজের সেচ প্রকল্পের সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী জানান, চলতি রবি ও খরিপ-১ মৌসুমের শুরুতে সেচ দেয়া হয়েছে জলঢাকা উপজেলার হরিশচন্দ্র পাট এলাকায়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সেচ প্রদানের চেষ্টা করা হবে। উজানের পানি দিন দিন কমে আসায় তিস্তা নদীর পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে তিস্তা ব্যারেজের কমান্ড এলাকায় সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। সেখানে কৃষকদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেচ দিতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার পানি প্রবাহ ধরে রাখতে তিস্তা ব্যারেজের সেচ প্রকল্পের জন্য ১০ হাজার কিউসেক পানি প্রয়োজন। কিন্তু সেচের জন্য পাওয়া যাচ্ছে ৭ থেকে ৮শ কিউসেক পানি। আগামীতে পানি প্রবাহের পরিমাণ আরো কমবে বলেও তিনি জানান। ডালিয়া ব্যারেজের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পানি স্বল্পতার কারণে রংপুর-দিনাজপুর জেলায় সেচ দেয়া সম্ভব নয়। পানি প্রবাহ বাড়লে সেচ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেচের আওতা বাড়তে পারে। তিস্তা অববাহিকায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার গ্রামের মানুষ তাদের জীবিকার জন্য এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। তাই তিস্তার পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় এখানকার মানুষের জীবন ও জীবিকায় নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। শুকনো সময়ে যে সামান্য পরিমাণ পানি ভারতের প্রত্যাহারের পর পাওয়া যায় তার সবটুকুই সেচ চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পের সেচ খালের মাধ্যমে কৃষিজমিতে সরবরাহ করা হয়। এর দরুন ডালিয়া পয়েন্টে ৯৭ কিলোমিটার বিস্তৃত তিস্তা নদীতে এক কিউসেক পানিও থাকছে না। এ কারণে তিস্তা অববাহিকার এই বিশাল পরিমাণ নদীগর্ভ পরিণত হচ্ছে ধু-ধু বালুচরে। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করা হচ্ছে না। আপনি তার সঙ্গে একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33959 জন