ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের জন্য সরকার দায়ী : অর্থমন্ত্রী
Published : Sunday, 4 February, 2018 at 12:00 AM
দিনকাল রিপোর্ট : রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির জন্য সরকারের দায় স্বীকার করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, সরকারের ‘জারিজুরির’ কারণে এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। গত কয়েক বছর ধরেই খেলাপি ঋণের বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। সরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেশি থাকলেও সম্প্রতি বেসরকারি খাতেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। এ নিয়ে অর্থনীতিবিদরা উদ্বেগ জানিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী নিজেও একে গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখছেন। গত ২৫ জানুয়ারি সংসদে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ১০ বছরেই ৬৫ হাজার কোটি টাকা মেরে দেয়া এক হাজার ৯৫০ জনের তালিকা দিয়েছেন জাতীয় সংসদে। এর বাইরে অবলোপন করা ঋণ মিলিয়ে খেলাপির পরিমাণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে, যা দিয়ে তিনটি পদ্মাসেতু করা সম্ভব। সার্বিকভাবে এখন বিতরণ করা ঋণের ১১ শতাংশের মতো ঋণ খেলাপি হয়ে গেছে, যেগুলো আদায়ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। : সোনালী ব্যাংকের অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে আমার মনে হয় সরকারও কিছুটা দায়ী। কারণ আমাদের অধীনে যে ছয়টি ব্যাংক রয়েছে, সেগুলোর ওপর আমরা কিছুটা জারি-জুড়ি করি।’ ‘যেহেতু সোনালী ব্যাংক আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যাংক, সেক্ষেত্রে এই ব্যাংকটির ওপর আমাদের জারি-জুড়ি একটি বেশি পড়ে।’ গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৩ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকা। যা তার আগের বছর ছিল ১০ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। অর্থাৎ খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকারের নানা চেষ্টা সত্ত্বেও এক বছরে বেড়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। : অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারের অধীনে থাকা ব্যাংকগুলোর ওপর সরকারের প্রভাব কীভাবে কমানো যায়, সে দিকটা বিবেচনা করা হচ্ছে। সভাপতির বক্তব্যে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আশরাফুল মকবুল বলেন, ব্যাংকটিকে ঘুরে দাঁড়াতে তারা সার্বিক চেষ্টা করছেন। এ বিষয়টি নিয়ে ব্যাংটির চেয়ারম্যানকে দুটি পরামর্শও দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রথমে গ্রাহকের কেওয়াইসি (নো ইউর কাস্টমার) ফর্ম ভালোভাবে চেক করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত, ঋণ বিতরণের আগে ভালোভাবে প্রকল্প বিশ্লেষণ। যদি তা করতে পারেন তবে প্রকল্প সুন্দর হবে। : সোনালী ব্যাংকের লোকসানি শাখাগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ পদক্ষেপ নেয়ারও পরামর্শ দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সোনালী ব্যাংকের শাখা এক হাজার ২১১টি। এরমধ্যে ১৮১টি শাখা লোকসানে রয়েছে। এসব লোকসানি শাখা বন্ধ করা খুবই কষ্টকর। তবে এখানে সমাধানের সুযোগও রয়েছে। যেমন যেখানে যেখানে এই লোকসানি শাখা রয়েছে সেগুলোকে স্থানান্তর করে ওই এরিয়ার আশেপাশেই পরিবর্তন করা যেতে পারে। যেখানে গ্রাহকের চাহিদা রয়েছে।’ :  বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুস রহমান, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আশরাফুল মকবুল ও এমডি ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করা হচ্ছে না। আপনি তার সঙ্গে একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33962 জন