বাংলা দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্নও ফাঁস : ফেসবুকে ছড়াছড়ি
Published : Sunday, 4 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 03.02.2018 11:09:46 PM
দিনকাল রিপোর্ট : এ বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) এবং সমমানের পরীক্ষায় পূর্বের মতোই চলছে প্রশ্ন ফাঁসের মহোৎসব। প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে বেশ কিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে কোচিং সেন্টার বন্ধ, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে পরীক্ষার্থীর হলে প্রবেশ, পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা অন্যতম। এতোসব পরিকল্পনার পরও প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে পারছে না সরকার। : সর্বশেষ গতকাল শনিবার ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার বাংলা দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়েছে। এ দিন পরীক্ষা শুরুর প্রায় ঘণ্টা খানেক আগে থেকেই বাংলা দ্বিতীয়পত্রের নৈর্ব্যক্তিক (বহু নির্বাচনি) অভীক্ষার ‘খ’ সেটের প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পাওয়া যায়। যার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া গেছে। প্রশ্নপত্রটি ওই গ্রুপে আপলোড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা অন্যান্য গ্রুপে ও পেজে ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষা শেষ হলে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া প্রশ্নের সঙ্গে ওই প্রশ্নের হুবহু মিল পাওয়া যায়। : এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ও পেজে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রশ্নপত্র দেয়ার ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত এসব গ্রুপ ও পেজের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়নি। এতে একদিকে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন হতাশা বাড়ছে, তেমনি ক্ষোভ  তৈরি হচ্ছে অভিভাবকদের মেধ্য। আব্দুল আলিম নামের এক অভিভাবক বলেন, আমিতো ছেলের পরীক্ষা নিয়ে খুবই চিন্তিত। আমি আমার ছেলেকে বলেছি, পরীক্ষা যেমনই হোক অনৈতিক সুযোগ নেয়া যাবে না। কিন্তু যে হারে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে তাতে শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি শঙ্কিত। দায়িত্বপ্রাপ্তরা কি করছে, তা ভাববার বিষয়। আসাদুজ্জামান নামের এক পরীক্ষার্থী জানান, প্রথমপত্র থেকে দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা ভালো হয়েছে। পরীক্ষার পূর্বে প্রশ্ন পেয়েছিলে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, না প্রশ্ন পাইনি। তবে শুনেছি প্রথমপত্রের প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিলো। এভাবে প্রশ্ন ফাঁস হলেতো আমরা যারা প্রশ্ন না পেয়ে পরীক্ষা দিচ্ছি তাদের ফল খারাপ হবে। :  ঢাকা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহেদুল খবীর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার ব্যাপারে এখনো কিছু জানি না। বিষয়টি আমরাও নজরদারিতে রেখেছি। চেষ্টা করছি, মিলিয়ে দেখবো। তারপর করণীয় ঠিক করা যাবে। প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তপন কুমার সরকারকে জানাতে পরীক্ষা শুরুর আগে অনেকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। এরপর সরাসরি কথা বলতে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা বোর্ডে গেলে জানানো হয়, তিনি অফিসে নেই। অপরদিকে এক গণমাধ্যমের কাছে শিক্ষা সচিব মোহাম্মদ সোহরাব হোসাইন এ বছর এসএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। : তিনি বলেন, ‘লাখ লাখ সৎ মানুষের মধ্যে যদি একজনও অসৎ হন, তাহলে সবার সততাকে ওই একজনই প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেন। এ কারণে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি না, প্রশ্নফাঁস রোধ করা সম্ভব। ফলে এটি একটি অসহায় অবস্থা। যদি প্রশ্ন ফাঁস বন্ধ হয়, তাহলে সেটা হবে সৌভাগ্যের ব্যাপার। আমরা শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে সাড়ে সকাল ৯টায় প্রবেশ করতে বাধ্যতামূলক করেছি। ফলে এটা নিয়েও তো অনেক সমালোচনা হচ্ছে। : পরীক্ষা বাতিলের ব্যাপারে তিনি বলেন, একটি পরীক্ষা বাতিল করতে হলে অনেক কিছু ভাবতে হবে। শিক্ষা সচিব বলেন, ‘এটি একটি কমিটির মাধ্যমে করতে হবে। সবার অভিমত নিয়ে করতে হবে।’ : গত বৃহস্পতিবার প্রথম পরীক্ষার দিন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে পরীক্ষা বাতিল করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। তবে দুটি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও পরীক্ষা বাতিলের কোনো ঘোষণা এখন পর্যন্ত দেননি শিক্ষামন্ত্রী। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করা হচ্ছে না। আপনি তার সঙ্গে একমত?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
33961 জন