বিচারকদের দুর্নীতির বিষয়ে পদক্ষেপের আহবান আইনমন্ত্রীর
Published : Wednesday, 7 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 06.02.2018 11:10:06 PM
দিনকাল রিপোর্ট : মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারায়  সাংবাদিকদের গ্রেফতার কিংবা হয়রানি করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এই আইনে কোনো সাংবাদিককে ধরা হলে ওই সাংবাদিকের পে বিনা পয়সায় আদালতে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই আইনের কোনো ধারাই সাংবাদিকদের জন্য করা হচ্ছে না। আর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় কোনো বাধা হবে না। এছাড়া হাইকোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে অনুরোধ জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। : গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আইন ও আদালত বিষয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার ফোরাম আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। সংগঠনের সভাপতি আশুতোষ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাবেক সভাপতি এম বদি-উজ-জামান, সহ- সভাপতি মাশহুদুল হক, সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম পান্নু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। : অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা ছাড়াও উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাসহ  সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন আইনমন্ত্রী। আইনমন্ত্রী বলেন, আলোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা থেকে সাংবাদিকদের বিশেষ সুরা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ন্যায়সঙ্গত কারণ থাকলে জনস্বার্থে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সুরায় ৩২ ধারায় একটি উপধারা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি বলেন, গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হওয়া আইনটি পাসের জন্য সংসদে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। এই আইনের ৩২ ধারা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই ধারাটির কারণে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে বলে সমালোচনা করছেন সাংবাদিকরা। : অথচ ডিজিটাল আইনের ৩২ ধারায় বলা আছে, কোনো ব্যক্তি বেআইনি প্রবেশের মাধ্যমে কোনো সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বিধিবদ্ধ সংস্থার কোনো গোপনীয় বা অতি গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইস বা কম্পিউটার নেটওয়ারর্কে ধারণ, প্রেরণ, সংরণ করেন বা করতে সহায়তা করলে সেটা হবে গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ। আর এই ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছর জেল বা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা জরিমানা। কেউ যদি এই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার করেন, তাহলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ড ভোগ করতে হবে। : গোপনে চিত্র ধারণ করলে সাংবাদিকতা বন্ধ হয়ে যাবে কি নাÑ এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলতে চাই ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের ৩২ ধারা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় কোনো বাধা হবে না।’ ‘আর যদি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় ৩২ ধারায় অভিযুক্ত করা হয় তাহলে আমি একজন আইনজীবী হিসেবে বিনা ফি’তে তার জন্য আদালতে দাঁড়াব।’ মন্ত্রী বলেন, ৩২ ধারায় যেসব অপরাধের উল্লেখ রয়েছে সেগুলো দন্ডবিধিতেও রয়েছে। তবে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে ওই অপরাধগুলো হলে এখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে বিচার হবে। তিনি বলেন, যেমন, রিজার্ভ ব্যাংকের টাকা ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে লুট করা হয়েছে। এেেত্র কি আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করব না? এসব েেত্র বিচারের জন্যই তো এই ধারা রাখা হয়েছে। : তথ্যপ্রযুক্তি আইনের সমালোচিত ৫৭ ধারার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের কথা দিয়েছিলাম ৫৭ ধারা বিলুপ্ত হবে, বিলুপ্ত হয়েছে। ৫৭ ধারাতে বিভিন্ন অপরাধে ৭ থেকে ১৪ বছর মেয়াদে সাজার বিধান ছিল। তাছাড়া ওই আইনে অপরাধগুলো স্পষ্ট ছিল না। ছোট অপরাধ করলে ছোট সাজা ও বড় অপরাধ করলে বড় সাজা প্রদানের বিধান রয়েছে।’ : উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কোনো আইন বা নীতিমালা না থাকায় বিচারক নিয়োগ নিয়ে প্রায় বিতর্ক হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সরকারের আইন করার ইচ্ছা আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ : সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে ১১টি অভিযোগ আনা হলেও তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা  নেয়া হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তার মানে এই অভিযোগ যখন হয়েছে, যেই কর্তৃপরে অনুসন্ধান বা তদন্ত করা উচিত তারা করবে।’ : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সরকারের হস্তেেপর অভিযোগ উঠেছে এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ২০০৮ সালে। যখন মতায় ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফখরুদ্দীন। সবাই বলে এটা আধাসামরিক সরকার ছিল। দুদক সেটার তদন্ত করেছে। তারাই অভিযোগ দিয়েছে। এই মামলায় ১০-১২ বার উচ্চ আদালতে যাওয়া হয়েছে। চার্জের বিরুদ্ধে যাওয়া হয়েছে, কোয়াশের জন্য যাওয়া হয়েছে। বিএনপি হেরেছেন। সেইখানে সরকার নাক গলায় কিভাবে। সরকার বিচারিক আদালত নিয়ন্ত্রণ করছেÑ খালেদা জিয়ার এমন অভিযোগের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ অসত্য।’ : এদিকে গতকাল বিকালে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুপ্রিম কোর্টে নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের খাস কামরায় সাক্ষাৎ করেন। পরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে আইনমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রী হিসেবে এ পর্যন্ত প্রত্যেক প্রধান বিচারপতির সঙ্গেই তিনি সৌজন্য সাাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে ‘উচ্চ আদালত নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের আনীত বিচারপতির দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানিয়েছেন। বিচার বিভাগের সঙ্গে আইনসভা ও নির্বাহী বিভাগের সম্পর্ক আরও বাড়াতে হবে। এটা একটা সেতুবন্ধন হিসেবে আইন মন্ত্রণালয় সব সময় সহযোগিতা করেছে। : : : : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার রায় নির্ধারণ করে বিএনপির ওপর বুলডোজার চালাচ্ছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
2653 জন