রাজধানীমুখী বাসে বাসে ও নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে চৌকি বসিয়ে তল্লাশি
Published : Wednesday, 7 February, 2018 at 12:00 AM, Update: 06.02.2018 11:09:56 PM
রাজধানীমুখী বাসে বাসে ও নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে চৌকি বসিয়ে তল্লাশিদিনকাল রিপোর্ট : আগামীকাল ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নামে পথচারী থেকে বাসাবাড়িতে ব্যাপক পুলিশি হানার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সবকটি প্রবেশ মুখে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি। বাড়ানো হয়েছে পুলিশ ও র‌্যাবের কয়েক স্তরের চেকপোস্ট। তল্লাশি করা হচ্ছে যানবাহন, মেস, আবাসিক হোটেল ও বাসাবাড়িতে। এতে হঠাৎই তল্লাশির কারণে বিড়ম্বনায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তল্লাশির নামে অযথা হয়রানির অভিযোগ করেছেন অনেকে। সাধারণ মানুষ বলেন, হঠাৎ করে নিরাপত্তা তল্লাশি করা হচ্ছে। এ কারণে জনগণের হয়রানি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও এমন ছিলো না। ঢাকা মহানগরীতে চলাচল করা যানবাহনের পাশাপাশি বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন, শাহজালাল বিমানবন্দর, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সন্দেহভাজন যাত্রী ও পথচারীদের তল্লাশি শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসা বিভিন্ন যানবাহনে ব্যাপক তল্লাশি করা হচ্ছে। সূত্র জানায়, ঢাকার সব প্রবেশমুখে চেকপোস্টের পাশাপাশি ঢাকার ভেতরে ৩৭টি পয়েন্টেও চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি করছে পুলিশ। পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায়ের দিন রাজধানীতে বড় ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে ঢাকার বাইরে থেকে বিএনপি-জামায়াতসহ সমমনা দলগুলোর নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসা শুরু করেছে। তাদের আটক করতে ইতিমধ্যে ঢাকার সব আবাসিক হোটেলে পুলিশের বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। সেই সঙ্গে জামায়াত ও বিএনপি নেতাদের মালিকানাধীন কিনিকগুলোয় নজরদারি শুরু করেছে পুলিশ। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে নির্বাহী কমিটি, জেলা-উপজেলাসহ তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মীর বাসাবাড়িতে ব্যাপক তল্লাশির নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হয়রানি করছে বলে অভিযোগ বিএনপির। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় নেতাকর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে এর আগে ঘরবাড়ি ছেড়ে থাকলেও এবার গ্রেফতারের প্রস্তুতি নিয়ে থাকছেন বাসায়, রাজপথেও সক্রিয় হচ্ছেন। দলটির প থেকে নেয়া রাজনৈতিক কর্মসূচি বানচাল করতে গণহারে গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠলেও পুলিশ দাবি করেছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ও পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে।   : এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের নয় বরং ছবি দেখে পুলিশের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। গ্রেফতারের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করতে সরকার দুরন্তগতিতে বেপরোয়া গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে। নাশকতার অভিযোগে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হচ্ছে মিথ্যা মামলা। সারাদেশে এমন ব্যাপক ধরপাকড় ও মিথ্যা মামলা দেয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। : মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা। ডিএমপি কমিশনার জানিয়েছেন, জনবিরোধী যেকোনো তৎপরতা কঠিন হাতে দমন করা হবে। তবে হঠাৎ তল্লাশির কারণে কিছুটা বিড়ম্বনার কথা বলছেন সাধারণ মানুষ।     : মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালের প্রবেশমুখে বসানো হয়েছে পুলিশ চেকপোস্ট। ঢাকায় প্রবেশের আগে তল্লাশি করা হচ্ছে প্রতিটি দূরপাল্লার বাস। খতিয়ে দেখা হচ্ছে যাত্রীদের পরিচয়ও। জানতে চাওয়া হচ্ছে ঢাকায় আসার কারণ। তল্লাশি করা হচ্ছে সঙ্গে থাকা ব্যাগসহ অন্য সামগ্রী। বাদ পড়ছেন না মোটরসাইকেল আরোহী এমনকি পায়ে হাঁটা যাত্রীও। : মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বেগম জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই আয়োজন। শুধু গাবতলী নয় রাজধানীর ১৩টি প্রবেশ মুখে একই রকম নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। তারা বলেন, ঢাকার বাইরের কেউ এসে নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে তা হতে দেয়া হবে না। এ কারণেই আমরা তল্লাশি চালাচ্ছি। : এদিকে ৮ ফেব্রুয়ারি ভোর ৪টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ করে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি। বহন করা যাবে না লাঠিসোটাসহ দেশীয় অস্ত্র ও দাহ্য পদার্থ। ডিএমপি কমিশনার বলছেন, জননিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে এমন যেকোনো কাজ কঠিন হাতে দমন করা হবে। ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, জনগণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে এমন যেকোনো কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আমরা শক্তভাবে অবস্থান নিবো। তল্লাশির বিষয়ে বেশ ক’জন পুলিশ কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তারা সরাসরি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, যাকেই সন্দেহ হচ্ছে তাকেই তল্লাশি করা হচ্ছে। বাসে বেশি তল্লাশি করা হচ্ছে। তবে সন্দেহ হলে প্রাইভেটকার থামিয়েও তল্লাশি করা হচ্ছে। এছাড়া বিশেষ নজরদারিতে রয়েছে বিএনপির কিছু নেতার বাসা, মেস ও আবাসিক হোটেল। মহাখালী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, মালিবাগ, শান্তিনগর এলাকায় বাসা ও মেসগুলোতে এ তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সোমবার রাতে মালিবাগ এলাকার বেশকিছু মেস ও বাসাবাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল পুলিশ। : গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, পুলিশের দেয়া নির্দেশনা অনুযায়ী হোটেলে আগত অতিথিদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে রুম বুকিং দেয়া হচ্ছে কি না এসব নজরদারি করছেন গোয়েন্দারা। থানা পুলিশ স্ব স্ব এলাকার মেসগুলোতে গিয়ে ভাড়াটিয়া ছাড়া অন্য কেউ থাকছেন কি না তা নজরদারি করছে। হোটেলগুলোতে অতিথির নাম-ঠিকানা লেখা, ছবি তোলা, এনআইডি, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি, ফোন নম্বর রাখা ও ফোন দিয়ে নম্বর যাচাই করাসহ ৮টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। হোটেলগুলো নির্দেশনা মাফিক কাজ করছে কি না তা নজরদারি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভাড়াটিয়া নিবন্ধন ফর্মে দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়িগুলোতে ভাড়াটিয়ারা থাকছেন কি না সেটিও খেয়াল রাখা হচ্ছে। : :





প্রথম পাতা'র আরও খবর
অনলাইন জরিপ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার রায় নির্ধারণ করে বিএনপির ওপর বুলডোজার চালাচ্ছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?
 হ্যাঁ   না   মন্তব্য নেই
দিনকাল ই-পেপার
পুরনো সংখ্যা
আজকের মোট পাঠক
2632 জন